কী শেখালেন শিক্ষা কর্মকর্তা ?

প্রকাশিত: ২৫ অক্টোবর, ২০২৪ ০৭:৫০

তাহিরপুরে একটি বিদ্যালয়ে প্রাক প্রাথমিকে ক্লাস নেয়ার সময়ে শিক্ষিকার পোশাক, গেটআপ রুচি সম্মত না হওয়ায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ফেসবুক লাইভে’ তাকে নিয়ে অশালীন মন্তব্য করেছেন সহকারী এক শিক্ষা কর্মকর্তা। যা নিয়ে শিক্ষক সহ উপজেলা জুড়ে আলোচনা—সমালোচনার ঝড় বইছে। 
গত মঙ্গলবার দুপুরে তাহিরপুর উপজেলা সহকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষা কর্মকর্তা একটি বিদ্যালয়ে পরিদর্শন করতে গিয়ে সহকারী এক শিক্ষিকার পোশাক ও গেটআপ দেখে হতাশ হন। তারপর নিজেই ভয়েস দিয়ে শিক্ষিকার ক্লাস নেয়ার দৃশ্য ব্যক্তিগত ফেইসবুক আইডিতে লাইভ করেন।  মুহূর্তেই ভিডিও লাইভটি ভাইরাল হয়। ভিডিও লাইভটি দেখার পর একাধিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা শিক্ষা কর্মকর্তাকে ফোন দিলে তিনি চাপের মুখে পড়ে কয়েক ঘন্টা পর ভিডি লাইভটি সরিয়ে নেন নিজের আইডি থেকে। 
বুধবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে কামরুজ্জামন শেখ নামের ফেসবুক আইডিতে পোস্ট করা ১১ মিনিটের ভিডিও লাইভে দেখা যায়, তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের পুরান লাউড়ের গড় সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাক প্রাথমিকের ক্লাস চলাকালীন সময় তিনি  বলছেন, ‘আমি হতাশ হইলাম প্রাক প্রাথমিকের শিক্ষকের এই গেটাপ দেখে। সারা দেশে ১০ম গ্রেডের শিক্ষকদের আন্দোলন চলছে, আমি আন্দোলনের পক্ষে। কিন্তু এই শিক্ষিকার এ গেটাপ কেনো, কিভাবে তা ধারন করবে, ১০ম গ্রেড তো দ্বিতীয় শ্রেণীর গেজেটেড কর্মকর্তা। তাকে তো গেটাপে, রুচিতে, ভাবে ভঙ্গিতে, পোশাকে এগিয়ে আসতে হবে। আপা আপনি আরও একটু পরিমার্জিত পোশাক পড়বেন সহ নানা কুরুচিপূর্ণ কথা বলেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক শিক্ষক/শিক্ষিকা বলেন, সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা কামরুজ্জামন শেখ প্রতিটি বিদ্যালয়ে গিয়ে হুটহাট শিক্ষকদের ক্লাস নেয়ার ভিডিও ফেসবুক লাইভ করেন। শিক্ষকরা অনেক সময় অপ্রস্তুত থাকেন। সে সময় শিক্ষকরা কিছু বলতে গেলে উল্টো তাদের ধমক দিয়ে থামিয়ে দেন তিনি। এমনকাণ্ড অনেক দিন ধরেই করে আসছেন তিনি।
পুরানলাউড় সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (চলতি দায়িত্ব) বিলকিস বেগম বলেন, স্যারকে আমি বলেছি, উনি প্রাক প্রাথমিকের শিক্ষক নন। প্রাক প্রাথমিকের শিক্ষক ছুটিতে আছেন। তারপরও তিনি অশালীন কথাবার্ত সংযোজন করে নিজের ভয়েস দিয়ে ফেইসবুক লাইভ করেন। যা অত্যন্ত লজ্জার বিষয়। আমার সহকারী শিক্ষিকা এরপর থেকে মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।
মধ্য তাহিরপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সাখাওয়াত হোসেন বলেন, এক জন শিক্ষকের গেটআপ ঠিক নাই বলে কি আমরা ১০ম গ্রেড দাবি করতে পারি না। ১০ম গ্রেডের সাথে গেটাপের কি সম্পর্ক, রুচির কি সম্পর্ক তা আমার বোধগম্য নয়। এছাড়া তিনি রাস্তা ঘাটে শিক্ষকদের হঠাৎ দাঁড় করিয়ে বিভিন্ন লজ্জাজনক কথা বলেন।
বালিজুরী নয়াহাট সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক আজিজুর রহমান বলেন, শিক্ষক বা শিক্ষিকাদের ভুল থাকলে সংশোধন করার নির্দেশ বা আদেশ শিক্ষা কর্মকর্তা দিতে পারেন, তা মৌখিক কিংবা অফিসিয়াল হতে পারে। কিন্তু ভিডিও করে উনার ব্যক্তিগত আইডি থেকে ফেইসবুকে পোস্ট দেয়া হেয়প্রতিপ্রন্ন ছাড়া কিছু না।
তাহিরপুর উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা কামরুজ্জামন শেখ এর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয় নি। তবে সহকারী শিক্ষক গ্রুপে তিনি ভুল স্বীকার করে শিক্ষিকা এবং তার পরিবারের ক্ষমা চেয়েছেন।
তাহিরপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. আব্দুল আওয়াল বলেন, সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা কামরুজ্জামন শেখ আমার কাছে এসে ভিডিও ফেইসবুকে পোস্ট দেয়ার জন্য শিক্ষিকা ও তার অভিভাবকদের কাছে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেছেন বলে জানিয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার শিক্ষকদের সমন্বয় সভায় উপস্থিত থাকার কথা ছিল, কিন্তু তিনি সভায় আসেন নি। তিনি বলেন, শিক্ষিকা বা শিক্ষকের কোন অনিয়ম দেখে থাকলে তা লাইভ না করে পরিদর্শন খাতা বা শিক্ষকদের নিয়ে আলোচনাসভা করে বিষয়টি বলতে পারতেন। ফেইসবুকে তার লাইভ করা একদম ঠিক হয়নি।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আবুল হাসেম বলেন, ফেসবুক লাইভটি আমিও দেখেছি। তিনি স্কুল পরিদর্শন করতে গিয়ে শিক্ষিকার অনুমতি না নিয়ে তার  লাইভ করা ঠিক হয় নি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।  


 

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার