প্রকাশিত: ২৮ অক্টোবর, ২০২৪ ০৭:৩০
সুনামগঞ্জের মধ্যে সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত হয়েছে শান্তিগঞ্জের মানুষ বলে উল্লেখ করেছেন যুক্তরাজ্য বিএনপির টানা তিন বারের সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য কয়ছর এম আহমদ। রবিবার বিকালে শান্তিগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আয়োজনে উপজেলার শান্তিগঞ্জ বাজারে কয়ছর এম আহমদকে সংবর্ধনা প্রদান অনুষ্ঠান ও সমাবেশে তিনি এই মন্তব্য করেন।
জালিমের পতন হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, শান্তিগঞ্জেও অশান্তি হয়েছে, সুনামগঞ্জের মানুষ শান্তিতে ছিল না। আপনার আমার শান্তি কেড়ে নিয়েছিল স্বৈরাচার, মাফিয়া, খুনিরা। মানুষ নির্যাতিত হয়েও কাঁদতে পারে নি, কারণ গুম করে ফেলতো তারা। ২০১৪, ২০১৮, ২০২৪ সালের নির্বাচনে বিনাভোটে এমপি মন্ত্রী হয়েছেন এই এলাকার একজন। জামিন পাওয়ার পর তিনি বললেন, ‘আমাকে কেন এরেস্ট করেছে আমি জানি না।’ তাহলে সে এমপি—মন্ত্রী কিভাবে হলো। বিনাভোটে এমপি—মন্ত্রী হওয়া কি অপরাধ নয়? দীর্ঘ ১৭ বছর এখানে দাঁড়িয়ে আমাদের কথা বলার অধিকার ছিল না। সুনামগঞ্জের মধ্যে সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত হয়েছে শান্তিগঞ্জের মানুষ। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সবচেয়ে বেশি গ্রেফতার হয়েছে শান্তিগঞ্জের মানুষ। কার ইশারায় আমার ভাইরা আজও হসপিটালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে।
তিনি বলেন, দীর্ঘ এক যুগ পর বাংলাদেশে এসেছি। আগে কেন আসতে পারি নি আপনারা জানেন। যুক্তরাজ্যেও আমরা ভালো ছিলাম না। আপনারা যেভাবে নির্যাতিত ছিলেন আমরাও নির্যাতিত ছিলাম। যদিও বাংলাদেশে আমাদের জন্ম, কিন্তু জালিম—মাফিয়াদের কারণে বাংলাদেশের পাসপোর্টও আমাদের কাছে ছিল না। দেশ নায়ক তারেক রহমানের নেতৃত্বে আপনারা দীর্ঘ ১৭ বছর লড়াই—সংগ্রাম করেছেন স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে। একইভাবে আমরাও সংগ্রাম করেছি বাংলাদেশের গণতন্ত্রের জন্য, বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য।
আপনাদের নেত্রী কোথায় কোথায় পালিয়ে গেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা সরকার গঠন করলে যারা পালিয়ে গেছে, তাদের দেশে এনে বিচার করা হবে। যারা চেষ্টা করেও পালিয়ে যেতে পারেননি তাদের বলছি, আপনাদের জামিন হয়েছে, বিচার শেষ হয় নি। মেগা প্রজেক্টে মেগা দুনীর্ত হয়েছে। সেই সব দুনীর্তিবাজ ও পরিকল্পনাকারীদের বিচার হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি নির্যতিত হয়েছেন বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান। দেশ নায়ক তারেক রহমান খুব কম সময়ের মধ্যে বাংলাদেশে ফিরবেন। একটি সুষ্ঠু নির্বাচন হলে দেশ নায়ক তারেক রহমানের সরকার গঠন হবে। কম সময়ের মধ্যে একটি নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য তিনি অন্তর্বতীর্কালীন সরকারের প্রতি আহবান জানান।
তিনি বলেন, আমি আপনাদের পাশে ছিলাম, আপনাদের পাশে থাকতে চাই। আপনাদের পাশে থেকে আমি আপনাদের মন জয় করবো। আমাদের মধ্যে কোন বৈষম্য থাকবে না। শান্তিগঞ্জের মানুষ শান্তিতে থাকবে এই ওয়াদা করলাম।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে দেন জেলা বিএনপির সভাপতি কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন। সমাবেশের আগে বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড বিএনপির ব্যানারে অঙ্গ এবং সহযোগি সংগঠনের হাজারো নেতাকর্মী শান্তিগঞ্জ বাজারে এসে জড়ো হন।
আমিনুর রশীদ আমিনের সভাপতিত্বে ও নুর আলীর সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. নুরুল ইসলাম নুরুল, সহ সভাপতি অ্যাড. মল্লিক মঈন উদ্দিন সোহেল, জেলা যুবদলের সভাপতি আবুল মুনসুর শওকত, সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির সহ—সভাপতি ফারুক আহমদ, আনছার উদ্দিন, আনিসুল হক, যুক্তরাজ্য বিএনপির উপদেষ্টা রেজাউল কবির জায়গীরদার রাজা, লন্ডন মহানগর বিএনপির সহসভাপতি এমএ রব, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির উপদেষ্টা এমএ রউফ, জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক অ্যাড. জিয়াউর রহিম শাহীন, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুজ্জামান কামরুল, যুক্তরাষ্ট্র সে¦চ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেন, যুক্তরাজ্য বিএনপির নেতা সুজাত হোসেন, যুক্তরাজ্য বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক রাজু আহমদ, জগন্নাথপুর পৌর বিএনপির সভাপতি আব্দুল মতিন, জগন্নাথপুর উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আব্দুল মুকিত, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক কয়েছ আহমদ সিলেট মহানগর যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হক স্বপন, সিলেট জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি শিহাব খান, মদন মোহন কলেজ ছাত্রদলের সদস্য সচিব জহিরুল হক কালাম, সুনামগঞ্জ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ইকবাল হোসেন, সুনামগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম, সদস্য সচিব তারেক আহমদ প্রমুখ।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন