ফলোআপ

সীমান্তে নিখোঁজ ফরিদ সাত দিনেও বাড়ি ফিরেনি

প্রকাশিত: ২৮ অক্টোবর, ২০২৪ ০৭:৪৬

স্ত্রীর দাবি  সে খুন হয়েছে

তাহিরপুর সীমান্তের ওপারে গিয়ে নিখোঁজ বারকি শ্রমিক শেখ ফরিদ সাত দিন পরও বাড়ি ফিরেনি। স্ত্রীর দাবি, ভারতীয় খাসিয়ারা দা কুপিয়ে তাকে হত্যা করে পাহাড়ে লাশ লুকিয়ে রেখেছে। নিখোঁজ শেখ ফরিদ উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী লাউরগড় গ্রামের মকবুল হোসেনের ছেলে।
রোববার বিকালে সরজমিন বারকি শ্রমিক শেখ ফরিদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় সুনসান নীরবতা। শেখ ফরিদের ঘরের বারান্দায় তার স্ত্রী সহ কয়েকজন মহিলা চুপচুাপ কান্নাকাটি করছেন। বাড়িতে কোনো পুরুষ মানুষ নেই। ফরিদের বাড়িটি লাউড়েরগড় বিজিবি ক্যাম্প সংলগ্ন। 
বাড়িতে কথা হয় শেখ ফরিদের স্ত্রী তছলিমা বেগমের সঙ্গে। এসময় তছলিমা বেগম কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, এখন আমি কি করবো, আমার চার ছেলে মেয়ে নিয়ে কোথায় যাবো। আমার যে আর কেউ নাই। এই সংসার একমাত্র তার ইনকাম দিয়েই চলতো। 
তিনি বলেন, প্রতিদিনের ন্যায় তার স্বামী রাতের খাবার খেয়ে গ্রামের কয়েকজনের সঙ্গে সীমান্ত পার হয়ে ওপারে যান। সবাই আসলেও এখন পর্যন্ত তার স্বামী বাড়ীতে আসেননি। তিনি শুনেছেন, তার স্বামীকে খাসিয়ারা দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে নদীতে ফেলে দিয়েছে। কার সঙ্গে সে কাজ করতে গেছিল জানতে চাইলে তিনি চুপ হয়ে যান এবং ভয়ে এদিক-সেদিক থাকান। একপর্যায়ে বলেন, তাদের নাম তিনি জানেন না এবং চিনেন না। পুলিশ বা সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবিকে বিষয়টি জানিয়েছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা কাউকে বিষয়টি জানাইনি, শুধু আপনিই (সাংবাদিক) আমাদের বাড়িতে এসেছেন। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কেউ আমাদের বাড়িতে এ পর্যন্ত আসেন নি।
জানা যায়, গত মঙ্গলবার মধ্যরাতে অবৈধপথে ১৫ থেকে ২০ জন বারকি শ্রমিক নৌকা নিয়ে লাউড়েরগড় সীমান্তের যাদুকাটা নদীর জিরো লাইন অতিক্রম করে আন্তর্জাতিক (ভারত) সীমানার অভ্যান্তরে মেঘালয় রাজ্যের নলিকাটা থানার ঘুমাঘাট বস্তি সংলগ্ন নদীতে পাথর উত্তোলন করতে যান। একপর্যায়ে ভারতীয় খাসিয়ারা সংঘবদ্ধ হয়ে তাদের ধাওয়া করে। এসময় সবাই পালিয়ে নদী সাঁতরিয়ে এপারে আসতে পারলেও শেখ ফরিদকে আটক করে খাসিয়ারা। পরে দা দিয়ে কুপিয়ে নদীতে ফেলে দেয়। সকালে সঙ্গে থাকা অন্য শ্রমিকরা তার স্ত্রী সহ পরিবারকে জানায় খাসিয়ারা ফরিদকে ধরে কুপিয়ে হত্যা করে নদীতে ফেলে দিয়েছে।
সুনামগঞ্জ-২৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্ণেল একে এম জাকারিয়া কাদির বলেন, আমরাও লোকমুখে এমন একটি খবর শুনেছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত নিখোঁজ ব্যক্তির পরিবার থেকে লিখিত বা মৌখিকভাবে এ বিষয়ে আমাদের কিছুই জানায় নি। তিনি যদি নিখোঁজ হয়ে থাকেন তাহলে সিস্টেম অনুযায়ী থানায় জিডি এন্ট্রি করে কপি দেওয়ার কথা, কিন্তু এখনও দেয়নি তারা।
 

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার