প্রকাশিত: ০১ নভেম্বর, ২০২৪ ০৬:৪৭
শ্রীপুর উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র
তাহিরপুর উপজেলার শ্রীপুর উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসক না থাকায় হাওরপাড়ের লাখো মানুষ চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এই উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটি উপজেলার শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নে অবস্থিত। গত ১১ মাস ধরে এখানে চিকিৎসক না থাকায় ইউনিয়নের স্বাস্থ্যসেবা ভেঙে পড়েছে। কাগজে কলমে উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে একজন এমবিবিএস চিকিৎসক থাকলেও কোনদিন এখানে তিনি চিকিৎসাসেবা প্রদান করেননি। সূচনালগ্ন থেকে বছরের পর বছর একজন উপ—সহকারী মেডিকেল অফিসার (স্যাকমো) দিয়েই কোনরকম চিকিৎসাসেবা চলে আসছিল। কিন্তু গত ২৯ ফেব্রুয়ারি এখানে থাকা মিটু সরকার নামে একজন বিতর্কিত স্যাকমো চিকিৎসক অনত্র্য বদলি হয়ে চলে যাওয়ার পর গত ১১ মাসের মধ্যে আর কোন চিকিৎসক এখানে যোগদান করেন নি। ফলে হাওরপাড়ের লাখো মানুষ স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত।
জানা যায়, শ্রীপুর উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে একজন এমবিবিএস চিকিৎসকসহ চারটি পদ রয়েছে। বর্তমানে এখানে কোন চিকিৎসক নেই। এর আগে উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটিতে কাগজে কলমে ১ জন এমবিবিএস চিকিৎসক নিয়োগ হলেও তিনি কর্মস্থলে না এসে চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন অন্যত্র। আবার বেতন উত্তোলন করেছেন এই উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের নামেই। এখানে এমবিবিএস চিকিৎসক না আসলেও বিগত সময়গুলোতে হাওরপাড়ের মানুষের চিকিৎসাসেবা দিয়ে গেছেন স্যাকমো চিকিৎসক অথবা ফার্মাসিস্টরা। ১১ মাস আগে বিতর্কিত স্যাকমো চিকিৎসক মিঠুন সরকার বদলি হয়ে ছাতক সৈয়দেরগাঁও উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে চলে যান। এরপর থেকে উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটি তালাবদ্ধ রয়েছে। উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে একজন মেডিকেল অফিসার, একজন সাব অ্যাসিসটেন্ট কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার, একজন নৈশপ্রহরী, একজন ফার্মাসিস্ট, একজন মিডওয়াইফ থাকার কথা থাকলেও গত ১১ মাস ধরে নেই একজনও।
বৃহস্পতিবার সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, শ্রীপুর উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে পাঁচতলা বিশিষ্ট একটি ভবন তালাবদ্ধ রয়েছে। ভবনের সামনেই রোগীরা দাঁড়িয়ে চিকিৎসকদের জন্য অপেক্ষা করছেন। ডাক্তার কোথায় জানতে চাইলে রোগীরা বলেন, সকাল থেকে এসে এখানে বসে আছি কিন্তু এখানে কোন চিকিৎসক আসছেন না।
শ্রীপুর (উত্তর) ইউনিয়নের মন্দিয়াতা গ্রামের রোগী শিউলি বেগম বললেন, এখানে অনেক দিন ধরে চিকিৎসক নেই। চিকিৎসক না থাকায় হাওরপাড়ের সঠিক চিকিৎসা সেবা পাচ্ছেন না।
উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আলী হায়দার জানান, এখানে পাঁচতলা বিশিষ্ট ভবন আছে, কিন্তু চিকিৎসক নেই। ভবনে বিদ্যুৎ আছে, থাকা খাওয়ার সুব্যবস্থা আছে। এরপরও এখানে চিকিৎসক দেওয়া হচ্ছে না।
তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ইনচার্জ ডা. মির্জা রিয়াদ হাসান বলেন, উপর মহলে কয়েকবার চিঠি দিয়েছি এই উপ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসক দেওয়ার জন্য। কিন্তু এখনো কোন চিকিৎসক এখানে পাঠানো হয়নি।
সিভিল সার্জন ডা. জসিম উদ্দিন বলেন, পুরো জেলায় ৬০ ভাগ চিকিৎসকের পদ শূন্য। চিকিৎসকের ঘাটতি পূরণের জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করছি। আশাকরছি, নতুন চিকিৎসক নিয়োগ হলেই কিছুদিনের মধ্যে চিকিৎসক পাবো। বিশেষ করে শ্রীপুর দুর্গম এলাকায়। এখানকার অসুস্থ মানুষদের ইচ্ছে করলে উপজেলা বা জেলা সদরে নেওয়া সম্ভব হয় না। এই উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে দ্রুত চিকিৎসকের ব্যবস্থা করা হবে।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আবুল হাসেম বলেন, এ উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে একজন চিকিৎসক জরুরি। সিভিল সার্জনকে এখানে একজন চিকিৎসক দেওয়ার জন্য অনুরোধ করবো।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন