প্রকাশিত: ০২ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ০৮:০৩
৬৫ শতাংশই জ¦রে আক্রান্ত
ঋতু পরিবর্তনের কারণে কখনো হচ্ছে তুমুল বৃষ্টি, কখনো প্রচণ্ড রোদ। ঠান্ডা আর গরমের এমন মিশেলে বেকায়দায় পড়েছেন শান্তিগঞ্জ উপজেলার মানুষ। আবহাওয়ার এমন বৈচিত্র্যময়তায় বেড়েছে মৌসুমী রোগের প্রাদুর্ভাব। জ্বর, সর্দি আর কাশিতে আক্রান্ত হচ্ছেন মানুষ। বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন শিশু ও বয়স্ক লোকজন। উপজেলার যতজন রোগী প্রতিদিন রোগ নিয়ে ডাক্তাদের কাছে যাচ্ছেন গড়ে তাদের প্রায় ৬৫ শতাংশ রোগীই জ্বর, সর্দি ও কাশিতে আক্রান্ত। ডাক্তারি ভাষায় এসব রোগকে সিজনাল ফিভার বা ভাইরাল ফিভার বলা হয়ে থাকে।
শান্তিগঞ্জ উপজেলার চিকিৎসা সেবা প্রদানকারী টিএইচও, উপ—স্বাস্থ্য কেন্দ্রের উপ—সহকারি কমিউনিটি মেডিকেল কর্মকর্তা, পল্লী চিকিৎসক, সিএইচসিপি সূত্রে জানা যায়, ছয় ঋতুর বাংলাদেশে মে—জুন ও আগস্ট—সেপ্টেম্বরে দুইবার এমন ভাইরাল ফিভার বা ভাইরাস জ্বরে আক্রান্ত হন মানুষ। অন্যান্য সময়ের তুলনায় এ সময়ে বেশি আক্রান্ত হওয়ার কারণ হিসেবে ঋতু পরিবর্তন বা আবহাওয়ার বৈচিত্রতার কথা বলছেন তারা।
শান্তিগঞ্জের পশ্চিম পাগলা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের উপ—সহকারি কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার মো. হুমায়ুন কবির গড়ে প্রতিদিন প্রায় ৮০জন রোগীকে চিকিৎসা দিয়ে থাকেন। গত দুই সপ্তাহ ধরে এসব রোগীর প্রায় ৬৫—৭০ শতাংশই আসছেন জ্বর, সর্দি ও কাশিতে আক্রান্ত হয়ে। একই অবস্থা কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতেও। কমিউনিটি ক্লিনিকে আসা প্রায় ৬০ শতাংশ রোগীই এখন সর্দি—জ্বর—কাশিতে আক্রান্ত থাকেন।
হাওরিয়া উপজেলা শান্তিগঞ্জের বেশিরভাগ এলাকা হাওরপাড়ে। দূরের পথ মাড়িয়ে সাধারণ মানুষকে আসতে হয় প্রধান প্রধান বাজারগুলোতে। তাই বিভিন্ন রোগ—বালাইয়ে কিমিউনিটি ক্লিনিকের পর তাদের অন্যতম ভরসা স্থানীয় বাজারের ফার্মেসিতে থাকা পল্লী চিকিৎসকরা। তেমনই দুই জন পল্লী চিকিৎসক হচ্ছেন উপজেলার দরগাপাশা ইউনিয়নের বাংলা বাজারের উম্মে সিদ্দিকা ফার্মেসির স্বত্বাধিকারী মো. জিল্লুর রহমান ও বীরগাঁও বাজারের মনীষা মেডিকেল হলের স্বত্বাধিকারী মো. নূরুল ইসলাম। তাদের কাছে প্রতিদিন প্রায় গড়ে ১৫—২০ জন রোগী আসেন চিকিৎসা নিতে। তাদের প্রায় ৬০ শতাংশই থাকেন ভাইরাল ফিভারে আক্রান্ত। তবে শান্তিগঞ্জ উপজেলায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার কোনো শঙ্কা দেখছেন না উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাক্তাররা।
পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নের শত্রুমর্দন ও ইনাতনগর কমিউনিটি হ্যাল্থ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) মো. জমির হোসেন বলেন, আমার এখানে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৬৫ জন রোগী আসেন বিভিন্ন রোগ নিয়ে। এদের মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশ রোগীই সর্দি—জ্বরে আক্রান্ত থাকেন। রোগীদের মাঝে কোনো জটিল অবস্থা দেখলে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে যাওয়ার পরামর্শ দেই।
বীরগাঁও বাজারের মনীষা মেডিকেল হলের স্বত্বাধিকারী, পল্লী চিকিৎসক মো. নূরুল ইসলাম বলেন, ইদানিং আমাদের কাছে যেসব রোগীরাই আসছেন তার প্রায় ৬০ শতাংশই সর্দি—জ্বরে আক্রান্ত। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাক্তার স্যারেরা যেসব পরামর্শ দেন আমরা তাদের ফলো করে চিকিৎসা দেই। রোগীর অবস্থা জটিল হলে রোগীদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যাওয়ার পরামর্শ দেই।
রোগীদের প্রায় ৬৫ শতাংশ জনই সর্দি—জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার কারণ ও এর প্রতিকার কী জানতে চাইলে শান্তিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা (টিএইচও) ডা. জসিম উদ্দিন শরীফি বলেন, এখন সর্দি—জ্বরের প্রাদুর্ভাব বেশি। এটাকে আমরা সিজনাল ফিভার বলি। ঋতুরও পরিবর্তন হয়েছে। এখন চতুর্দিকেই জ্বর। আতঙ্কিত না হয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্ক লোকজন বেশি বেশি ঘরে থাকতে হবে। যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম তাদেরকে ভাইরাসে বেশি আক্রমণ করে। তাই তারা ঘরে থাকবেন, বেশি রোদে যাওয়া যাবে না। গ্রামাঞ্চলে শিশুরা নদীর পানিতে বেশি সাঁতার কাটে। পানিতে কম থাকতে হবে। যদি কেউ সর্দি—জ্বরে আক্রান্ত হয়েই যান তাদের অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। রোগীর শরীর বার বার ভেজা কাপড় দিয়ে মুছে দিতে হবে। বেশি বেশি তরলজাত খাবার খেতে হবে। যেমন: খিচুরি। বিশুদ্ধ পানি বেশি পান করবেন। জ্বরের বয়স ১ সপ্তাহ পার হয়ে গেলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ডেঙ্গু, টাইফয়েড বা অন্যান্য টেস্ট করাতে হবে।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন