এলাকা ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা 

প্রকাশিত: ১৪ নভেম্বর, ২০২৪ ০৬:৩৫

গণিনগর ষোলোগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়

তিনদিন পর প্রশাসনের হস্তক্ষেপে কর্মবিরতি থেকে শ্রেণি কার্যক্রমে ফিরছেন গণিনগর ষোলোগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মচারীরা। আজ বৃহস্পতিবার থেকে শ্রেণি কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর আগে ১১ নভেম্বর সোমবার শিক্ষকদের প্রতি শিক্ষার্থীদের অশোভন আচরণ, সাবেক খন্ডকালীন শিক্ষক শামীম আহমদকে দায়ী করে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন কটুকথা বলার অভিযোগসহ একাধিক অভিযোগ এনে জেলা প্রশাসক ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবরে আবদন দিয়ে কর্মবিরতিতে গিয়েছিলেন শিক্ষকরা। এর পরিপ্রেক্ষিতে সুনামগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (আইসিটি ও শিক্ষা) বিরোদা রানী রায় ও শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুকান্ত সাহা’র হস্তক্ষেপে বুধবার বিকালে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে মতবিনিময় সভায় শিক্ষকদের শ্রেণিকক্ষে ফেরার এই সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। তবে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক তদবির আলমের ফেরা নিয়ে এলাকা ও কিছু শিক্ষার্থীদের মাঝে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে।
জানা যায়, আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর স্কুলের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নেতিবাচকভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে সরব হন প্রতিষ্ঠান থেকে চাকুরিচ্যুত খন্ডকালীন শিক্ষক শামীম আহমদ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রধান শিক্ষকের অব্যাহতি চেয়ে আন্দোলনে নামেন স্কুলের শিক্ষার্থীরা। এরপর থেকে প্রধান শিক্ষক তদবির আলম আর স্কুলে যাচ্ছেন না এবং কতিপয় শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের সাথে নানাভাবে অশোভন আচরণ করে আসছেন। এর জেরেই নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থে ও সম্মান রক্ষার্থে কর্মবিরতিতে যান শিক্ষকরা। এরপরই প্রশাসনের পরামর্শে মতবিনিময় সভার আয়েজন করে স্কুল কর্তৃপক্ষ। 
মতবিনিময় সভায় অভিভাবকরা বলেন, একজন মানুষ তার ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য বিদ্যালয় নিয়ে নোংরা রাজনীতি করছে। যদি প্রধান শিক্ষক প্রকৃতপক্ষে দোষী হয়ে থাকেন, তাহলে আইন অনুযায়ী বিচার হবে। তবে বিদ্যালয় পরিচালনায় যেনো কোনো ব্যাঘাত না ঘটে। শিক্ষকদের কিংবা ঐ মহলের কোনো ক্ষতি হচ্ছে না, ক্ষতি হচ্ছে আমাদের সন্তানদের। যদি আইন থাকে যে, প্রধান শিক্ষক স্কুলে আসতে কোনো আইনি জটিলতা নাই, তাহলে তিনি আসুক। দোষী সাব্যস্ত হলে, তাকে সরকারই বরখাস্ত করবে। অবশ্য কেউ কেউ এর বিরোধীতাও করেছেন।

অভিভাবকরা দুশ্চিন্তা প্রকাশ করে আরও বলেন, আগামী ২১ তারিখ থেকে বার্ষিক পরীক্ষা। এর পরই এসএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এই স্কুলটি একটি কেন্দ্র স্কুল। পরীক্ষার্থী ও স্কুল কেন্দ্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমরা খুবই শঙ্কিত। বেশ কিছুদিন ধরে ঠিকঠাক মতো ক্লাস হচ্ছে না। এতে একেবারেই ধ্বংস হতে বসেছে বিদ্যালয়টির শিক্ষা কাঠামো। যে অবস্থা তৈরি হয়েছে স্কুলকে কেন্দ্র করে যে কোনো মুহুর্তে মারামারির ঘটনাও ঘটতে পারে। 
নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী মিজানুর রহমান মিজানসহ আরও একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা চাই আমাদের স্যাররা যেনো ক্লাসে ফিরে আসেন। তবে হেড স্যার যেনো না আসেন। যদি তাঁর বিরুদ্ধে আমাদের আনিত অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হয় ,তাহলে স্যারের কাছে মাফ চেয়ে ফুলের মালা দিয়ে স্যারকে বরণ করে নেবো। অন্যান্য স্যারদের সাথে যেসব শিক্ষার্থীরা বেয়াদবি করেছে তাদেরকে শাস্তি দেওয়া উচিত। সব শিক্ষার্থীরা বেয়াদবি করে না।


প্রতিষ্ঠানটির সহকারি প্রধান শিক্ষক কামরুজ্জামান ও সহকারি শিক্ষক রতীন্দ্র কুমার দাস বলেন, আমরা নিরাপত্তার চিন্তায় কর্মবিরতিতে গিয়েছিলাম। শামীম নামের একজন সাবেক খন্ডকালীন শিক্ষক আমাদের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদেরকে বার বার উষ্কে দিচ্ছে। শিক্ষার্থীরা আমাদের সাথে বেয়াদবি করে বেড়ায়। তাই আমরা কর্মবিরতি দিয়েছিলাম। এডিসি শিক্ষা স্যার ও ইউএনও স্যারের হস্তক্ষেপে আশ্বস্ত হয়ে কাল (আজ বৃহস্পতিবার) থেকে ক্লাসে ফিরবো।
মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রেখেছেন সাবেক খন্ডকালীন শিক্ষক শামীম আহমদ। বক্তব্যে তিনি বলেছেন, প্রধান শিক্ষক তদবির আলম দুর্নীতি করার মাধ্যমে ইতোমধ্যে তার নৈতিক অবস্থান হারিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে আনিত সকল অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। তাই তিনি স্কুলে আসতে পারেন না। 
প্রধান শিক্ষক তদবির আলম বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনিত সকল অভিযোগ মিথ্যা। যে ব্যক্তি অভিযোগ করেছেন তাকে নানা অনিয়মের জন্য কমিটির সদস্যরা মিলে স্কুল থেকে বের করে দিয়ে ছিলেন। এসব কারণেই সে স্কুলের ব্যপারে বাজে কথাবার্তা ফেসবুকে লিখেছে। অভিযোগ করেছে, শিগগিরই সব সত্যের উন্মোচন হবে। আমার বিরুদ্ধে এখনো পর্যন্ত কোনো কাগজ নির্দেশনা রুজু হয়নি যে, আমি স্কুল করতে পারবো না। কিন্তু শামীম সহ কিছু ব্যক্তির কারণে আমি স্কুলে যেতে পারছি না, তারা বাধা প্রদান করছে। কোমলমতি  শিক্ষার্থীদেরকেও তারা লেলিয়ে দিয়েছে।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (আইসিটি ও শিক্ষা) বিরোদা রানী রায় বলেন, আমরা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। মতবিনিময় সভা শেষে সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, আজ বৃহস্পতিবার থেকে শিক্ষকরা ক্লাসে ফিরবেন। আপাতত প্রধান শিক্ষক স্কুলে আসছেন না।
 

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার