ক্রয় ক্ষমতার বাইরে যাচ্ছে নিত্যপণ্য

প্রকাশিত: ০৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ০৬:৩৮

নিম্নআয়ের পরিবারে কমছে পুষ্টির যোগান

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের নাগালে আসছে না। বাজার উর্ধ্বমুখী হওয়ায় পণ্য কিনতে খেই হারাচ্ছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। মাছ—মাংস ছুঁয়ে দেখতে পারছেন না তারা। 
হাত দেওয়া যাচ্ছে না শাক—সবজিতেও। এতে তাদের পরিবারে পুষ্টির যোগানও কমছে। আয়ের সঙ্গে ব্যয় মেলাতে না পেরে দম বন্ধের উপক্রম হচ্ছে ক্রেতাদের। বিশেষ করে হিমশিম খাচ্ছে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষ। 
শহরের জেল রোড এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সোনালি মুরগি প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ টাকা ও ব্রয়লার ২০০ টাকায়। ওয়েজখালী এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ টাকা প্রতি কেজি। শহরের কাজীরপয়েন্ট এলাকায় একইভাবে গরুর মাংস ৭৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। 
মাছ বাজারে ছোট আকৃতির রুই মাছ প্রতি কেজি ৩৫০ টাকা এবং বড় আকারের রুই মাছ ৪৫০—৫০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। কই মাছ কেজি প্রতি ৩০০ টাকা। মাঝারি গলদা চিংড়ি মাছ ৬০০ টাকা। তেলাপিয়া প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ২২০ টাকা। গরিবের মাছ বলে পরিচিত পাঙাশও বিক্রি হচ্ছে ১৭০ টাকা কেজিতে। এছাড়াও পাবদা ৫০০ টাকা, দেশি কই মাছ ৭০০—৮০০ টাকা,  চিংড়ি প্রতি কেজি প্রকারভেদে ৮০০ —১২০০ টাকা, শোল মাছ প্রতি কেজি ৬০০—৮০০ টাকা, ট্যাংরা প্রতি কেজি প্রকারভেদে ৫০০ —৭০০ টাকা এবং তেরা বাইম প্রকার ভেদে ৪০০—১২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। 
শুধু মাছ ও মাংসের দাম বাড়েনি। পাল্লা দিয়ে বেড়েছে ডিমের দামও। বর্তমানে প্রতি হালি লাল ডিম বিক্রি হচ্ছে  ৫৫  টাকা এবং হাঁসের ডিম বিক্রি হচ্ছে ৬৫—৭০ টাকায়।
সবজি বাজার ঘুরে দেখা যায়, শিম প্রতি কেজি ২৫০ টাকা, সাইজ ভেদে লেবু প্রতি হালি ২০—৮০ টাকা, মুলা ৬০ টাকা, পেঁয়াজ ৭০—৮০ টাকা, আদা ১৮০—২০০ টাকা, পেঁপে ৪০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৬০ টাকা, গাজর ১৮০ টাকা, ঢেঁড়স ৬০—৮০  টাকা, আলু ৪৫ টাকা এবং কাঁচকলা ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। লাউ প্রতি পিস বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকায়। 
শহরে বাজার করতে এসেছেন, মরিয়ম বিবি। স্বামী রহমত আলী দিনমজুর। মরিয়ম বিবির তিন ছেলে মেয়ে সহ পাঁচ সদস্যের পরিবার। তিনি ২০ টাকা দিয়ে কলমী শাক, ৩৫ টাকায় ১০০ গ্রাম সিদল এবং ১০০ গ্রাম শুটকি মাছ ৬০ টাকা দিয়ে কিনেছেন। জানতে চাইলে মরিয়ম বিবি বলেন, মাছের বাজার ঘুরে এসেছি। সবজির বাজারেও গেছিলাম। আমার স্বামীর সারাদিনের রুজি ৫০০ টাকা নিয়ে বাজারে এসেছি। দুই কেজি মোটা চাউল ১০০ টাকায় কিনেছি। বাকী টাকায় মাছ তরকারি না কিনে বাধ্য হয়ে সিদল, শুটকি আর শাক কিনছি। একমাস ধরে এইভাবেই দিন কাটাচ্ছি। জিনিসপত্র দাম বাড়ায় আমরা খুব কষ্টে আছি।
বাজারে আসা রিকশা চালক নয়ন মিয়া বলেন, জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে। মাছ— তরকারির দাম বেশি। আমি কয়দিন ধরে মাছ তরকারি কিনি না। সিদল, শুটকি, ডাল, আলু ভর্তা খেয়ে দিন কাটাচ্ছি। 
কিচেন মার্কেটের মাছ বিক্রেতা মনসুর উদ্দিন বলেন, বেশি দামে মাছ কিনতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত। আমরা কম লাভে বিক্রি করার জন্য চেষ্টা করি। দাম বাড়লে আমরার লাভ করার সুযোগ থাকে না। ক্রেতা পাওয়া যায় না। এইজন্য আমরা কম লাভেই বিক্রি করছি। 
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আল আমিন বলেন, বাজারে সবকিছুর দাম বেড়েছে। তবে সুনামগঞ্জে ব্যবসায়ীরা যদি সিন্ডিকেট করে দাম বাড়িয়ে বিক্রি করে, আমরা প্রমাণ পেলে আইন প্রয়োগ করব। আমরা সবসময়ই বাজার মনিটরিং করছি এবং মনিটরিং অব্যাহত থাকবে। 

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার