ধুলায় অন্ধকার

প্রকাশিত: ২২ নভেম্বর, ২০২৪ ০৭:২৮

বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার নতুনপাড়া থেকে দক্ষিণ বাদাঘাট ইউনিয়নের বাঘমারা, ভাটিপাড়া, দুর্গাপুর, কৈয়ারকান্দা, শক্তিয়ারখলা এলাকার প্রধান আঞ্চলিক সড়কের ধুলায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ছেন পথচারীসহ এলাকাবাসী। ধুলায় সড়কে ৫ হাত দূরের মানুষকে দেখা যায় না। শুধু সড়ক নয়, সড়কের দুই পাশের ব্যবসা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সহ চারপাশের বাসাবাড়িও ধুলায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ছে। সড়কের ধুলায় নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ছেন ব্যবসায়ী, শিক্ষক, শিক্ষার্থী সহ বিভিন্ন শ্রেণী—পেশার মানুষ। পথচারীরা নাক ও মুখ বন্ধ করেও সড়ক দিয়ে চলাচল করে রেহাই পারছেন না। এ জনবহুল সড়কটি জেলা শহরে যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম। এ সড়ক দিয়েই ধর্মপাশা, মধ্যনগর, তাহিরপুর উপজেলার মানুষ চলাচল করে থাকেন।
বৃহস্পতিবার সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, তাহিরপুর উপজেলা অংশের বালিজুড়ি এবং বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা অংশের বাঘমারা, ভাটিপাড়া, দুর্গাপুর, কৈয়ারকান্দা, শক্তিয়ারখলা নামক সড়ক সংস্কারের কাজ চলছে ধীরগতিতে। এ সড়ক নির্মাণ কাজ করছে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা প্রকৌশলীর অধিনে। দীর্ঘদিন আগে ঠিকাদার সড়ক পুনরায় ঠিক করার কাজ পেলেও কাজ করছেন ধীরগতিতে। সড়কের আবরণে তুলে সিঙ্গেল এবং বালি আলাদা করায় গাড়ি চলাচলের সময়ে ধুলা উড়ে চারদিক অন্ধকার করে দিচ্ছে। এতে শিক্ষক শিক্ষার্থী, শিশু, বৃদ্ধা, পথচারী, রাস্তার পাশের বাড়ি—ঘর সহ মানুষ ধুলায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠছেন।
স্থানীয় করিম নামে একজন জানান, প্রধান সড়কের পাশেই তাদের বাড়ি। সড়কের ধুলায় ঘরের টিন, গাছপালা লাল হয়ে যাচ্ছে।
সুনামগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. জসিম উদ্দিন বললেন, ধুলাবালিতে বিভিন্ন রোগের জীবাণু থাকে। বিশেষ করে শিশুদের শ্বাসকষ্ট হতে পারে। ধুলাবালি মানব শরীরের ফুসফুসকে আক্রান্ত করে। সবসময় ধুলাবালি বেষ্টিত পরিবেশে থাকলে ফুসফুসে রক্ত প্রবাহ দুর্বল হয়। সর্দি, কাশি, অ্যালার্জি, টনসিল প্রদাহ, গলাব্যথা, অ্যাজমাসহ বিভিন্ন রোগ হতে পারে। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্টরা ধুলা বন্ধে পানি দেওয়ার ব্যবস্থা করতে পারেন।
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা প্রকৌশলী মো. মকলেছুর রহমান বলেন, নির্মাণকৃত সড়কে যাতে ধুলাবালি না উড়ে সেজন্য প্রতিদিন সকালে পানি দেওয়া হচ্ছে, কিন্তু আধাঘন্টার পরে তা শুকিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, যদি বড় ধরনের কোনো দুর্যোগ না আসে তাহলে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে পুরো সড়ক পাকা হয়ে যাবে, তখন আর এতো ধুলা উড়বে না।
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মফিজুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আইনশৃংখলা মিটিংয়ে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা প্রকৌশলী এবং জেলা এক্সচেঞ্জ মহোদয়কে বলে আসছি সড়কেঅতিরিক্ত ধুলা উড়ছে, আপনারা বেশি করে পানি দেন। কিন্তু তারা সে ভাবে গুরুত্ব দিচ্ছেন না। তিনি বলেন, এলাকাবাসীর অভিযোগ রয়েছে এ রাস্তায় নিম্নমানের বালি পাথর ব্যবহার করা হচ্ছে, সে বিষয়েও স¤প্রতি আইনশৃঙ্খলা মিটিংয়ে তাদের কে সর্তক করা হয়েছে।

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার