কাবাডি খেলায় হাজারো দর্শনার্থী

প্রকাশিত: ০৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ০৬:৪৩

কাবাডি কাবাডি কাবাডি কাবাডি কাবাডি .... এরকম ডাক হেঁকে প্রতিপক্ষের ডেরায় ঢুকে পড়লেন আস্তমার কিং দলের খেলোয়ার মুছাদ্দেক হোসেন। সুনামগঞ্জ সদরের কুরবাননগর ইউনিয়নের আলমপুর গ্রামের সাথে খেলেছে তার দল। মোসাদ্দেকের নজরকাড়া পারফরম্যান্সে বেশ ব্যবধানে জয় লাভ করেছে আস্তমার কিং। সময়ের ব্যবধানে মাঠে নামে আস্তমা গ্রামের দল হঠাৎ আক্রমণ, উড়ালপঙ্খী, বুলেট, মায়ের দোয়া, তুফান এবং কুরবাননগর ইউনিয়নের জাবেদ, সাজুল ও কবিরের টিমসহ বাহারি নামের গ্রায় ৭৬ টি দল। ৩৮ ম্যাচের এই খেলায় ৪৫৬ জন খেলোয়াড় অংশগ্রহণ করেন। দুই উপজেলার প্রীতি খেলায় শান্তিগঞ্জের জয়কলস ইউনিয়নের আস্তমা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে জড়ো হন কয়েক হাজার দর্শক—সমর্থক। এসব সমর্থকদের উল্লাস, আনন্দ আর উৎসব মুখর পরিবেশ আস্তমা গ্রামকে একদিনের জন্য করে তুলেছিলো আনন্দ মুখর।
একদিকে দুই অঞ্চলের ভাড়া করে আনা ব্যান্ডপার্টি ক্রমাগত বাজিয়ে যাচ্ছেন বিভিন্ন গানের সুর অপরদিকে মাইকে বার বার ঘোষণা হচ্ছে— ‘এখন হবে পাহাড়ে পাহাড়ে লড়াই’। মাঠে নেমেছে বাঘ আর সিংহ। এখন দেখবেন ‘বাঘের সিংহের লড়াই’। দেখবেন ‘শেয়ানে—শেয়ানে টক্কর’। শনিবার সারা দিন এরকম বিনোদনধর্মী শ্লোগানে আস্তমা গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ মুখরিত ছিলো। মানুষের মনে ছিলো বেজায় আনন্দ। আনন্দের এই স্রোতধারার সূচনা হয়েছে শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর থেকে। কাবাডি খেলাকে কেন্দ্র করে প্রতি বছরই আস্তমা গ্রামে আনন্দ আয়োজন হয়। জেলার বিভিন্ন অঞ্চলের কাবাডি খেলোয়ারদের আমন্ত্রণ জানানো হয় প্রীতিম্যাচ খেলার জন্য। এই আমন্ত্রণে বছরের এমন দিনে হাজারো মানুষের আগমন ঘটে আস্তমা গ্রামে। খেলাটিকে কেন্দ্র করে গ্রামের প্রতিটি বাড়ি দু’দিন একদিন আগে থেকেই আত্মীয়—স্বজন আসতে শুরু করেন। প্রতিটি পরিবারে দু’একজন করে মেহমান থাকেন। তাছাড়া আমন্ত্রিত খেলোয়াড়দের করা হয় বিশেষ মেহমানদারি। আদর আপ্যায়নের কোনো কমতি থাকে না।
খেলাটি নক আউট পদ্ধতিতে হয়ে থাকে। প্রীতি ম্যাচ হওয়ায় কোনো পুরষ্কার থাকে না। তবে যে অঞ্চলই বিজয়ী হোক না কেনো যাওয়ার সময় আমন্ত্রিত খেলোয়াড়দেরকে সম্মাননা স্বরূপ একটি জীবিত খাসি উপহার দেওয়া হয়। আমন্ত্রণে যেসব খেলোয়াররা এসেছেন তাদেরতে ভাগ করে দেওয়া হয় গ্রামের বিভিন্ন পরিবারের মাঝে। যে যার সামর্থ্য অনুযায়ী খাতির—আপ্যায়ন করবেন। কোনো কিছু পাওয়ার আশায় নয়, গ্রামীণ ঐতিহ্য বাঁচিয়ে রাখা, মনের আনন্দ আর সৌহার্দ্য—সম্প্রীতি বৃদ্ধির জন্যই এমন আয়োজন করা হয়ে থাকে বলে জানিয়েছে আস্তমা গ্রামের একাধিক ব্যক্তি। খেলায় ৩৮ দলের মধ্যে শান্তিগঞ্জের জয়কলস ইউনিয়ন অর্থাৎ আস্তমা গ্রাম জয় পেয়েছে ২০ টি ম্যাচে। ড্র থেকেছে ৯টি। আর সুনামগঞ্জ সদরের কুরবাননগর জয় পেয়েছে ৯টি ম্যাচে।
 
শনিবার দুপুর ১টায় আস্তমা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে গিয়ে দেখা যায়, আস্তমা পয়েন্টে প্রচুর মানুষের ভিড়। রাস্তায় যানজট, আশপাশে মেলার মতো অনেক দোকান বসেছে। খেলার মাঠে সামিয়ানা টাঙানো হয়েছে। স্কুলের মাঠে তিল ধারণের জায়গা নেই। চতুর্দিকে হাজারও মানুষ জড়ো হয়ে কাবাডি খেলা উপভোগ করছেন। স্কুলের দক্ষিণ পাশে ওয়াশব্লকের উপর, দু’তলা ভবনের সিঁড়ির উপর ও সীমানা প্রাচীরসহ সব জায়গায় লোকে লোকারণ্য। স্কুলের সীমানা প্রাচীরের বাইরে, আস্তমা গ্রামের পয়েন্টে খাবার, খেলনা, আচার—আইসক্রীমসহ ইত্যাদি পণ্যের শতাধিক অতিরিক্ত দোকান বসেছে। লোকজন বেশি হওয়ায় দোকানিদের বিক্রিও হচ্ছে খুব। সব মিলিয়ে ঐতিহ্য রক্ষার দারুণ এক আয়োজনের সফল বাস্তবায়ন করেছেন দেখার হাওরপাড়ের এ গ্রামটির বাসিন্দারা।
আস্তমা গ্রামের বাসিন্দা হাবিজ আলী, সাজ্জাদ মিয়া, আঙ্গুর মিয়া, জিল্লুর রহমান বলেন, প্রতি বছর আমরা এ আয়োজন করে থাকি। গ্রামের পূর্ব পুরুষদের ঐতিহ্য রক্ষা, আমাদের আনন্দ আর অন্য একটি এলাকার সাথে সৌহার্দ্য—সম্প্রীতি তৈরি করাই আমাদের লক্ষ্য। আমরা চাই, উপমহাদেশের ঐতিহাসিক কাবাডি খেলা যেনো কাল থেকে কালান্তরে পৌঁছায়। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে আমরা আরো বড় পরিসরে এ আয়োজন করতে পারবো।
রাজা মিয়া নামের গ্রামের শালিসি ব্যক্তিত্ব বলেন, আমাদের আমন্ত্রণে প্রায় ৫শ’ মানুষ আস্তমা গ্রামে এসেছেন। হাজার হাজার দর্শক এসেছেন। কষ্ট করে খেলা উপভোগ করছেন। সকলের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। আমরা প্রতি বছর এ খেলা অব্যাহত রাখার চেষ্টা করবো। সকলের সহযোগিতা কামনা করছি।
কুরবাননগর ইউনিয়নের বাসিন্দা জাবেদ বলেন, আস্তমা গ্রামের আয়োজনে আমরা খুশি। তারা খুব ভালো কাবাডি খেলেন। খেলেই আমরা আনন্দ পাই। আস্তমা গ্রামের আয়োজন সুন্দর, আমরা সন্তুষ্ট।
শান্তিগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুক আহমদ বলেন, আমি অনেক্ষণ বসে খেলা উপভোগ করেছি। হাজার হাজার মানুষের উল্লাস দেখেছি। এই উপমহাদেশে কাবাডি খেলা খুবই জনপ্রিয়। আমাদের উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এই খেলার আয়োজন হচ্ছে। দর্শকরাও উপভোগ করছেন। এরকম আয়োজন অব্যাহত থাকুক। আমরা উপজেলা পরিষদ থেকেও সহযোগিতা করার চেষ্টা করবো।
 
 

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার