ত্যাগী কর্মীদের মূল্যায়ণের দাবি সকলের

প্রকাশিত: ০৫ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০৭:০৫

শান্তিগঞ্জ বিএনপির সামাবেশ আজ

আওয়ামীলীগ সরকারের পতনের পর থেকে সারা দেশেই সর্বোচ্চ সক্রিয়তা দেখাচ্ছে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। সুনামগঞ্জের  শান্তিগঞ্জ উপজেলায়ও অতীতের যে কোনো সময়ের তুলনায় কার্যক্রম বাড়িয়েছে দলটি। সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আনছার উদ্দিন ও ফারুক আহমদকে কেন্দ্র করে বেশিরভাগ সময়ই সরব থাকছে এই উপজেলার বিএনপির রাজনীতি। যদিও ব্যরিষ্টার আনোয়ার হোসেন আগামী সংসদ নির্বাচনে নিজেকে প্রার্থী বলে ঘোষণা করেছেন তবুও দলীয় কার্যক্রমে বেশ সক্রিয় আনছার উদ্দিন ও ফারুক আহমদ বলয়।
৫ আগস্টের আগে ও পরে উপজেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ এই দুই নেতার পৃথক বলয়ের কর্মসূচি ছিলো চোখে পড়ার মতো। এমন পরিস্থিতিতে ৪ নভেম্বর সোমবার পুরনো কমিটি বাতিল করে নতুন আহ্বায়ক কমিটির অনুমোদন দেয় কেন্দি্রয় বিএনপি। এই কমিটিতে সদস্য হিসেবে স্থান পান শান্তিগঞ্জের রাজনীতিতে জনপ্রিয় এই দুই মুখ। আজ বিকাল ৩ টায় এই দুই নেতার সম্মিলনে অনুষ্ঠিত হবে উপজেলা বিএনপির কর্মী সমাবেশ। সমাবেশে উপজেলার কর্মীদের সুখ—দুঃখের সকল কথা শুনবেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কলিম উদ্দিন আহমদ মিলনসহ অন্যান্য নেতারা। শান্তিগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চত্বরের ঝিলমিল অডিটোরিয়ামে এই কর্মী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।
নেতা—কর্মীদের বক্তব্য শুনার পর দশ থেকে বারো দিনের মধ্যে গঠন করা হবে ২১ সদস্য বিশিষ্ট (সম্ভাব্য) উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি। এই কমিটি নিয়েই নেতাকর্মীদের মাঝে চলছে সকল জল্পনা—কল্পনা। ‘আগন্তুক’ রাজনীতিবিদদের চিন্তায় অস্তির হয়ে আছেন কেউ কেউ। কেউ কেউ আবার চিন্তিত আছেন পদ বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কায়। তবে সকলেই বলছেন, যে বা যারাই আহ্বায়ক কমিটিতে বা পরের মূল কমিটিতে আসুক না কেনো— তারা যেনো হন জাতীয়তাবাদের প্রকৃত কর্মী। আগন্তুক বা উড়ে এসে জোরে বসা (নেতাকর্মীদের ভাষায় হাইব্রিড) কর্মীরা যেনো কমিটিতে স্থান না পান। 
শান্তিগঞ্জ উপজেলার পূর্ব পাগলা ইউনিয়নের বাসিন্দা, বিএনপি নেতা ও সাবেক ইউপি সদস্য আবদাল হোসেন বলেন, আমরা অধিকার আদায়ের জন্য লড়েছি। মামলা খেয়েছি, জেল খেটেছি। বাড়ির বাহিরে রাতদিন কাটিয়েছি। আমাদের দাবি ত্যাগী, মামলা—হামলার শিকার ও কারাবরণকারী নেতা—কর্মীদের যেনো কমিটিতে স্থান দেওয়া হয়।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য নূর আলী বলেন, জেলা বিএনপির ‘হার্ডলাইনের’ সিদ্ধান্ত হচ্ছে যারা আওয়ামীলীগের সময় সুবিধাভোগী ছিলো, ছবি তুলেছে, তাদের সাথে আঁতাত করেছে এমন নেতাদেরকে ওয়ার্ড থেকে উপজেলা কোনো জায়গাতেই যেনো স্থান দেওয়া না হয়, এটা আমারও দাবি।
সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির একজন নেতা বললেন, হাইব্রিড বলতে কোনো শব্দ নেই। তবে আওয়ামীলীগের সুবিধাভোগী কোনো ব্যক্তিরা কমিটিতে থাকবেন না। কমিটিতে থাকবেন ত্যাগী, নির্যাতিত, জেল—জুলুম ও মামলা—হামলার শিকার হওয়া তৃণমূলের প্রকৃত কর্মীরা। তাদের চিন্তিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। কমিটি হবে সবচেয়ে জনপ্রিয় মাধ্যম গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায়।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও শান্তিগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক আহমদ বলেন, ওয়ার্ড থেকে ইউনিয়ন, ইউনিয়ন থেকে উপজেলা প্রত্যেকটি কমিটি হবে অত্যন্ত জনপ্রিয় পদ্ধতিতে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায়। হ্যাঁ না ভোটে। উপজেলা কমিটি গঠন করতে কমপক্ষে ৪শ’ ভোটার থাকবে। স্বচ্ছতার সাথে কমিটি হবে। যোগ্য, কর্মট ও ত্যাগীরাই কমিটিতে আসবেন। কথা একদম ক্লিয়ার, কোনো পকেট কমিটি হবে না।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আনছার উদ্দিন বলেন, কোনো সুবিধাভোগীরাই কমিটিতে আসতে পারবেন না। যারা মামলা—হামলার শিকার হয়েছেন, পরিক্ষিত ও ত্যাগ শিকার করেছেন তারাই কমিটিতে আসবেন। সিনিয়র নেতাদের প্রতি আমারও এমন অনুরোধ থাকবে।
সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সাবেক সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন বলেন, যেসব নেতাকর্মীরা আন্দোলন সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন তারাই কমিটিতে সর্বোচ্চ প্রায়োরিটি পাবেন। শান্তিগঞ্জে নেতাদের সুখ—দুঃখের কথা শুনবো। কমিটিতে আসতে আগ্রহীদের নিয়ম কানুন বলে দেবো। দশ বারো দিনের মধ্যেই আহ্বায়ক কমিটি গঠন হবে। পরে হবে মূল কমিটি।


 

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার