বীজ ধান রোপণ করতে পারছেন না কৃষকরা 

প্রকাশিত: ০৫ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০৭:০৯

মহালিয়া হাওরে জলাবদ্ধতা

পানি নিষ্কাশনের জন্য কৃষকদের কেটে দেয়া বাঁধে পুনরায় মাটি দিয়ে পানি আটকাচ্ছেন পাউবোর লোকজন

মহালিয়া হাওরে পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় বীজ ধান বপন করতে পারছেন না হাওরপাড়ের কৃষকরা। তাহিরপুর ও জামালগঞ্জ এই দুই উপজেলার ৭টি গ্রাম নিয়ে মহালিয়া হাওরের অবস্থান। হাওরপাড়ের কৃষকরা জানিয়েছেন মহালিয়া হাওরে প্রায় পাঁচ হাজার হেক্টর চাষাবাদের জমি রয়েছে। একদিকে জামালগঞ্জ উপজেলার বেহেলী ইউনিয়নের হিজলা, মদনাকান্দি, নোয়াপাড়া ও দূর্গাপুর অপরদিকে তাহিরপুর উপজেলার দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের সুলেমানপুর, জগদীশপুর ও নোয়াগাঁও গ্রাম। 
হাওরপাড়ের কৃষকরা জানিয়েছেন মৌসুমের এ সময়ে তারা বীজ ধান বুনন কাজ শেষ করেছেন। এ বছর হাওরের পানি না কমার কারণে তারা বীজ ধান বপন করতে পারছেন না। 
বেহেলী ইউনিয়ন পরিষদের হিজলা গ্রামের ইউপি সদস্য দেবাশীস তালুকদার জানান, মহালিয়া হাওরে পানি নিষ্কাশনের জন্য কোন স্লুইস গেট নেই। জামালগঞ্জ উপজেলার পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম জনির পরামর্শ নিয়ে মহালিয়া হাওরের পানি নিষ্কাশনের জন্য তারা দুই উপজেলার ৭ গ্রামের কৃষকগণ একটি দরখাস্তে স্বাক্ষর করে জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে জমা দিয়ে এলাকাতে এসে হিজলা গ্রামের উত্তরপাশের বাঁধ কেটে দেন। কিন্তু দরখাস্ত জমা দেয়ার রিসিভ কপি তারা আনেননি। 
এমতাবস্থায় মঙ্গলবার সুনামগঞ্জ পাউবো’র কর্মকর্তারা হাওরে ঘুরতে এলে বাঁধ এলাকাতে বাঁধ কাট স্থানে কৃষক সুলেমানপুর গ্রামের আব্দুল ওয়াদুদ মিয়াকে পেলে তাকে একমাসের কারাদন্ড দিয়ে সুনামগঞ্জ জেল হাজতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। পরে কাটা বাঁধটি তারা আবার বন্ধ করে দেন।
তাহিরপুর উপজেলার দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক ইউপি সদস্য সিরাজুল ইসলাম বলেন, হাওরে পানি না কমার কারণে কৃষকগণ বীজ ধান বপন করতে পারছেন না। তিনি আরও জানান, মহালিয়া হাওরে ¯­ুইসগেট না থাকায় প্রতি বছর দুই উপজেলার পরগনার মানুষ মিলে পানি নিষ্কাশনের জন্য খাল কেটে দেয়া হয়। এবারও সে নিয়মেই বাঁধটি কেটে দেয়া হয়েছিল। পরগনার লোকজনের স্বাক্ষরে এবারও আবেদন করা হয়েছিল। কিন্তু ইউএনও স্যার জানিয়েছেন নতুন করে আরেকটি আবেদন করাতে হবে।
জামালগঞ্জ উপজেলার পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম জনি বলেন, হাওরের পানি নিষ্কাশন করতে হলে ইউএনও অফিসে আবেদন করতে হবে। আবেদনের প্রেক্ষিতে তদন্তক্রমে পরবর্তীতে সিদ্ধান্তক্রমে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হবে।
জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুশফিকীন নূর বলেন, হাওরের পানি নিষ্কাশন করতে হলে কৃষকদের পক্ষ থেকে তাঁর কার্যালয়ে আবেদন করতে হবে। আবেদনের প্রেক্ষিতে তদন্তক্রমে বাঁধ কাটার ব্যবস্থা করা হবে।

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার