প্রকাশিত: ০৯ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০৭:৩৯
বোরো ধানের বীজতলা
বোরো ধানের বীজতলায় পোকার আক্রমণ ও কোল্ড ইনজুরিতে শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন হাওরপাড়ের কৃষকরা। অনেকেই পোকার আক্রমণ ঠেকাতে বীজতলাতে কীটনাশক স্প্রে করছেন, অনেকে বীজতলায় সেচ, সার দিচ্ছেন পোকার আক্রমণ ঠেকাতে। কিন্তু তাতেও তেমন কোন কাজ হচ্ছে না।
শনির হাওরপাড়ে ধানের বীজতলায় গিয়ে দেখা যায়, কৃষক আব্দুল মিয়া তার বীজতলাতে কীটনাশক স্প্রে করছেন। সে সময় কথা তার সাথে। তিনি জানান, পোকার আক্রমণ ঠেকাতে তিনি স্প্রে করে যাচ্ছেন। কি পোকা আক্রমণ করছে, তা তিনি বলতে পারেন নি।
তার কাছে সে বিষয়টি জানতে চাইলে বলেন, কৃষি অফিসের লোকজনের কাছে গেলে তারা বলেন, কোল্ড ইনজুরীতে ধানের হালি চারা মারা যাচ্ছে। তাদের কথা অনুযায়ী ভোর বেলা বীজতলায় কুয়াশা ভেঙে দিচ্ছি, সেই সাথে জমিতে সেচ ও সার দিয়েছি তারপরও বীজতলায় ধানের হালি চারা মারা যাচ্ছে। এখন কীটনাশকের দোকান থেকে কীটনাশক কিনে এনে স্প্রে করছি।
একই অবস্থার কথা জনালেন এই হাওরের ভাটি তাহিরপুর গ্রামের কৃষক মহসিন মিয়া। তিনি জানান, কৃষি অফিসে গেলে কর্মকর্তারা কোল্ড ইনজুরির কথা বলে আমাদের সে বিষয়ে পরামর্শ দেন। আমরা সেভাবেই বোর ধানের বীজতলা পরিচর্যা করি। অনেক সময় সঠিক পরামর্শ পাই না। না পাওয়ায় আমরা দোকানিদের কাছে মৌখিকভাবে বলে অনুমান নির্ভর কীটনাশক এনে বীজতলায় দিয়ে থাকি।
চলতি বছর উপজেলায় ২৩ টি ছোট বড় হাওড়ে ১৯ হাজার হেক্টর জমিতে বোর ধান চাষাবাদের লক্ষামাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সে লক্ষেই কৃষক বীজতলা তৈরি করছেন। আগামী কয়েকদিনে মধ্যে এমফ বীজতলা থেকে ধানের হালি চারভ নিয়ে জমি রোপন করবেন কৃষকরা।
শনির হাওরপাড় ভাটি তাহিরপুর গ্রামের কৃষক আলমগীর খোকন বলেন, হাওরের টানি জমিগুলো রোপন করার উপযুক্ত সময় হয়েছে। কিন্তু হালি ধানের চারা জমিতে বিভিন্ন স্থানে ঝলসে গেছে এবং চারা বৃদ্ধি পাচ্ছে না। এমতাবস্থায় তিনি নিয়মিত পানি সেচ করছেন এতেও কোন কাজে আসছে না।
তাহিরপুর বাজারের ব্যবসায়ী কীটনাশক বিক্রেতা সামায়ুন কবীর বলেন, হাওরপাড়ের কৃষকরা উপজেলা কৃষি অফিস থেকে প্রেসক্রিপসন নিয়ে আসে। সে মোতাবেক আমরা কৃষকদের কীটনাশক বিক্রি করে থাকি। বেশীরভাগ প্রেসকিপসনে মার্শাল, ভিরতাকো, নাইট্রো, মারশাল, ক্যারাটে, স্কোর, টিল্ট লিখে থাকেন তারা।
তাহিরপুর উপজেলা উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকতা আসাদুজ্জামন বলেন, কোল্ড ইনজুরির কারণে অনেক সময় বোর ধানের বীজতলায় গাছ মরে যেতে দেখা যায়। সে ক্ষেত্রে কিছুদিন সকালে জমে থাকা কুয়াশার পানিটা সরিয়ে দিতে হয়। সেই সাথে সেচ ও সামান্য লাল সার দিলে তা ঠিক হয়ে যায়। কৃষকরা এ সমস্যা নিয়ে আমাদের অফিসে আসলে আমরা তাদের ব্যবস্থাপত্র দিয়ে থাকি।
তাহিরপুর উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, শোষক পোকা আক্রমণ করলে ধানের হালি চারা মরে পেঁয়াজ পাতার মত শুকিয়ে যায়। কীটনাশক স্প্রে করলে তা আর তেমন ক্ষতি হয় না । আমার কাছে বেশ কয়েকজন কৃষক এসেছেন, আমি তাদের সে অনুাযায়ী পরামর্শ দিয়েছি।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন