প্রকাশিত: ১৩ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০৮:২৪
সুনামগঞ্জ পৌর শহরের পূর্ব মল্লিকপুর এবং বিসিক এলাকা (বেসিক এলাকা) নিয়ে ৮ নম্বর এবং ৯ নম্বর ওয়ার্ডের প্রায় দেড় হাজার জনসাধারণের একমাত্র সড়ক চলাচলের অনুপযোগী হয়ে গেছে। পৌরসভার নাগরিক হলেও ওই এলাকার নাগরিকগণ দীর্ঘদিন ধরে পৌর সুযোগ—সুবিধা থেকে বঞ্চিত। বর্তমানে বিসিক এলাকা—পূর্ব মল্লিকপুর—নতুন বাস স্টেশন পর্যন্ত সড়কের বেশির ভাগের বেহাল দশা। কোথায় ইটসলিং, কোথাও ইট উঠে গিয়ে গর্ত সৃষ্টি হয়েছে, আবার কোথায় রয়েছে কাঁচা সড়ক। দীর্ঘদিন ধরে মেরামত বা সংস্কার না করায় চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন এলাকাবাসী। সড়কের উন্নয়ন বা সংস্কারে পৌর কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান কোনও উদ্যোগও নেই, এমনটাই বলেছেন ৮ নম্বর ওয়ার্ডের নাগরিকরা।
স্থানীয়রা জানান, পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বিসিক এলাকা—পূর্ব মল্লিকপুর সড়ক বছরের পর বছর মেরামত না করায় বর্তমানে ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। বিসিক এলাকা ঘেঁষে শাপলাবাগ মসজিদ হয়ে একটিমাত্র সড়ক সরাসরি নতুন বাসস্টেশন পর্যন্ত সংযোগ থাকলেও, প্রায় অর্ধকিলোমিটার সড়কপথ চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সড়কের অবস্থা খুবই বিপজ্জনক। বিভিন্ন জায়গায় সৃষ্টি হয়েছে ছোট—বড় গর্ত। শুকনো মৌসুমে তেমন সমস্যা না হলেও বর্ষায় দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করে। এই এলাকায় ৮ নম্বর এবং ৯ নম্বর ওয়ার্ডে প্রায় দেড় হাজার মানুষ বসবাস করেন। প্রতিনিয়তই গর্তে ছোট—বড় যানবাহন উল্টে গিয়ে ঘটছে দুর্ঘটনা। স্কুলের শিক্ষার্থীদেরও প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এলাকার কেউ হঠাৎ অসুস্থ হলে তাৎক্ষণিকভাবে গাড়ি পেতে খুবই সমস্যা হয়। এছাড়া মুসল্লিরা নামাজের জন্য মসজিদে যাতায়াত করতেও পারেন না।
সরেজমিনে দেখা যায়, মল্লিকপুর নতুন বাসস্টেশনের পূর্বদিকে মারকাজের মসজিদ ঘেঁষে একটি সড়ক পূর্ব মল্লিকপুর হয়ে বিসিক এলাকায় গিয়ে মোড় নিয়েছে। কিন্তু সড়ক ভাঙনসহ কোথাও ইটসলিং উঠে গিয়ে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে এবং কোথাও কাঁচা সড়ক রয়ে গেছে। যে কারণে মানুষের জন্য চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে সড়ক।
বিসিক এলাকার বাসিন্দা মো. আতিকুর রহমান বলেন, আমরা সুনামগঞ্জ পৌর শহরের নাগরিক হিসেবে বসবাস করছি, কিন্তু আমরা অধিকার থেকে বঞ্চিত। এই একটিমাত্র সড়ক দিয়ে আমরা ৮ নম্বর এবং ৯ নম্বর ওয়ার্ডবাসীর প্রায় দেড় হাজার জনসাধারণ যাতায়াত করতে হয়। সেই সড়কেরও বেহাল দশা।
তিনি বলেন, আমাদের যদি কেউ অসুস্থ হয় তাহলে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো অ্যাম্বুলেন্স আনার ব্যবস্থা নাই। আকষ্মিকভাবে বাসাবাড়িতে আগুন লেগে গেলে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা গাড়ি নিয়ে আসতে পারবে না। আমাদের বাসা—বাড়ির দৈনন্দিন যে ময়লা—আবর্জনা আছে তাও পৌরসভার পরিচ্ছন্নতাকমীর্দের নেওয়ার কোনো সুযোগ নাই। আমাদের ভাই, বোন, সন্তানেরা স্কুল—কলেজ, মাদ্রাসায় যাওয়া আসা করতে গিয়ে প্রতিদিন সমস্যার সম্মুখিন হয়। একটিমাত্র সড়ক বিসিক এলাকা থেকে নতুন বাসস্টেশন পর্যন্ত। সড়কপথের সিংহভাগ ভাঙা, গর্ত, কাঁচা সড়ক। সড়ক পাকাকরণ হলে আমাদের এলাকার মানুষ দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাবে।
পূর্ব মল্লিকপুর শাপলাবাগ মসজিদের ইমাম মাওলানা লুৎফুর রহমান বলেন, এই এলাকার পূর্ব মল্লিকপুর—শাপলাবাগ এলাকার একটিমাত্র সড়কপথে ভাঙা ও গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কাঁচা সড়ক রয়েছে। এই সড়কপথ পাকাকরণ করা হলে এলাকার মুসল্লিরা মসজিদে এসে নামাজ পড়তে কষ্ট হবে না, ছেলে—মেয়েদের স্কুল—কলেজে যেতে সমস্যা হবে না এবং জনসাধারণের যাতায়াতে ভোগান্তি দূর হবে।
সুনামগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সমর কুমার পাল বললেন, সাধারণত সড়কের বিষয়ে কাউন্সিলররা প্রস্তাব করেন। এখন যেহেতু কাউন্সিলররা নেই, আমি এলাকার জনসাধারণকে অনুরোধ করবো, সড়কের ভাঙন বা কোন সমস্যা থাকলে, সেই সড়কের ছবিসহ প্রশাসক বরাবর আবেদন করুন। আবেদন হাতে পেলে যাচাই শেষে এই সড়কের প্রজেক্ট তৈরি করে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর পাঠাবো। এরপর অনুমোদন এবং বরাদ্দ পেলে আমরা সড়ক করে দেব।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন