প্রকাশিত: ১৪ ডিসেম্বর, ২০২৪ ২২:৫২
সদর উপজেলার ইজারাবিহীন ধোপাজান নদীর বালু—পাথর সড়ক পথে লুটে নিচ্ছে একটি বালু লুটকারী সিন্ডিকেট। আগে নৌপথে বালু লুট হলেও এখন কৌশল পাল্টে হচ্ছে সড়কপথে। প্রতিদিন ও রাতে চলছে অবাধে বালু লুট।
জানা যায়, নদীরপাড় এলাকার দেলোয়ার ও সাদেক নামে একটি চক্র সদর উপজেলার জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের ডলুরা পূর্বপাড় থেকে শতাধিক ট্রাক, ট্রাক্টর ও পিকআপ নদী থেকে উত্তোলনকৃত বালু—পাথর সড়ক পথে সুরমা ইউনিয়নের হালুয়ার ঘাট বাজার সংলগ্ন ক্রাশার মিলে অবাধে বিক্রি করছে। এতে মঙ্গলকাটা বাজার, চৌমুহনী বাজারসহ আশ পাশের এলাকায় মারাত্মক যানজট লেগে থাকে।
মঙ্গলকাটা বাজারের ব্যবসায়ী আব্দুল হাদী জানান, দিনে—রাতে এদের অত্যাচারে মানুষ শান্তিতে নেই। এসব বন্ধেও পদক্ষেপ তিনি দেখছেন না। এর পূর্বে এ চক্র নৌপথে বালু নিলেও এতোটা বেপরোয়া ছিল না।
গত ৬ অক্টোবর জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া সদর উপজেলার চলতি নদীর ধোপাজান মোহনা থেকে অবৈধ বালু—পাথর উত্তোলন ও পরিবহন বন্ধে নদীর মোহনা থেকে উত্তর সীমান্ত খাসিয়া পাহাড় পর্যন্ত অংশে সকল ধরনের বাল্কহেড নৌকা, বালু পরিবহনে ব্যবহৃত জলযান প্রবেশ নিষিদ্ধ করে একটি আদেশ জারি করেন। এই আদেশ অমান্য করে আবার চলছে বালু লুট।
সূত্র জানায়, ২০১৮ সালের পর থেকেই সদর উপজেলার ধোপাজান চলতি নদী ইজারাবিহীন রয়েছে। কিন্তু একটি চক্র নানা কৌশলে বিগত সরকারের আমলে অবৈধ ভাবে বালু—পাথর লুট করে। এখনও লুট চলছে। সদর উপজেলার জাহাঙ্গীর নগর ইউনিয়নের সীমান্ত নদী ধোপাজান নদীর অবস্থান। জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের কাইয়ারগাঁও সহ সীমান্ত এলাকায় নদীতে গভীর রাতে পরিবেশ বিধ্বংসী ড্রেজার ও সেইভ মেশিন দিয়ে বালু—পাথর উত্তোলন চলছে। ফলে ড্রেজার তাণ্ডবে বারকী নৌকা দিয়ে সাধারণ শ্রমিকদের আয়—রোজগার বন্ধ হয়ে পড়েছে।
বারকী শ্রমিক সংঘের সভাপতি নাছির উদ্দিন ও শ্রমিক নেতা সাইফুল আলম ছদরুল জানান, বৈধভাবে সনাতন পদ্ধতিতে বেলচা, বালতি দিয়ে বালু—পাথর উত্তোলন করলে পরিবেশের কোন ক্ষতি হয় না এবং সাধারণ মানুষ কর্ম করে সংসার চালান। সরকার যদি ক্রয় পদ্ধতির মাধ্যমে ধোপাজান নদীর বালু—পাথর উত্তোলন করতো তাহলে ভালো হতো।
জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া জানান, বিজিবির অধিনায়ক, পুলিশ সুপার সহ অন্যান্য বাহিনীর সাথে কথা বলে বালু লুট বন্ধে শীঘ্রই ব্যবস্থা নেবেন।
সুনামগঞ্জ—২৮ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্ণেল একেএম জাকারিয়া কাদির জানান, সীমান্ত এলাকায় হলে, বালু লুট বন্ধে তিনি ব্যবস্থা নেবেন।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন