প্রকাশিত: ০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ০৬:৫৭
উন্নয়নের জন্য পরিবর্তনের দাবি জানালেন মনোনয়ন প্রত্যাশীরা
সুনামগঞ্জ ২ আসনে লেগেছে নির্বাচনী হাওয়া। আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির অংশগ্রহণ নিয়ে ধেঁায়াশা থাকলেও নৌকা প্রত্যাশী আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা উত্তাপ ছড়াচ্ছেন। এই আসনে নৌকার মাঝি হতে চান ৯ জন। মনোনয়ন প্রত্যাশীরা উপজেলা জুড়ে প্রচারণার মাধ্যমে নিজেদের প্রার্থীতার জানান দিচ্ছেন। এলাকায় লাগাচ্ছেন পোস্টার, ফেস্টুন। পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় নেমেছেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরাও।
দিরাই—শাল্লা এই দুই উপজেলা নিয়ে সুনামগঞ্জ ২ আসন গঠিত। সুনামগঞ্জ—২ (দিরাই—শাল্লা) আসনে মোট ভোটার দুই লাখ ৮৪ হাজার ৬৭২ জন। এরমধ্যে পুরুষ এক লাখ ৪৩ হাজার ২৫৮ এবং মহিলা এক লাখ ৪১ হাজার ৪১৪ জন। এই আসনে গেল নির্বাচনে কেন্দ্র ছিল ১১০, আগামী জাতীয় নির্বাচনে হবে ১১৩ টি। এই আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত’র সহধর্মিনী ড. জয়া সেনগুপ্ত। ২০১৭ সালে বিশিষ্ট পার্লামেন্টারিয়ান সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত প্রয়াত হলে তিনি উপনিবার্চনে নৌকার মনোনয়ন পেয়ে বিজয়ী হন।
ড. জয়া সেনগুপ্ত’র বিরুদ্ধে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন না করা, গত ৫ বছরে সড়ক যোগাযোগে উন্নয়ন কম হওয়া, বিশেষ করে শারীরিক অসুস্থতার কারণে এলাকায় কম আসার অভিযোগ বেশ পুরোনো। এবার দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সুনামগঞ্জ ২ আসনে ৯ জন নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশী। এরা হলেন, বর্তমান সংসদ সদস্য ড. জয়া সেনগুপ্ত, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক উপকমিটির সদস্য ব্যারিস্টার অনুকূল তালুকদার ডাল্টন, শাল্লা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী আব্দুল্লা আল মাহমুদ (আল আমিন চৌধুরী), সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ সভাপতি অবনী মোহন দাস, বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তানভীর তুলি, যুক্তরাজ্য শ্রমিক লীগের সভাপতি ড. মো. সামছুল হক চৌধুরী, সাবেক সচিব মিজানুর রহমান, আইনজীবী সুবীর নন্দী দাশ, সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক দপ্তর সম্পাদক অ্যাড. শামছুল ইসলাম।
দুই উপজেলায়ই রয়েছে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সমর্থক। প্রচারণার সময় অনেক মনোনয়ন প্রত্যাশী সংসদ সদস্যের বিষোদগারও করছেন, একারণ উত্তাপ সৃষ্টি হচ্ছে।
দিরাই উপজেলা যুবলীগের সভাপতি রঞ্জন রায় বলেন, বর্তমান সংসদ সদস্য প্রায়ই অসুস্থ থাকেন। গত পাঁচ বছরে দিরাই এসেছেন ৫ বার, শাল্লায় গেছেন ২/১ বার। সংসদ সদস্য এলাকায় যদি না আসেন তাহলে কাজ করবেন কীভাবে? এজন্য সুনামগঞ্জ ২ আসনের কোনো উন্নয়ন নেই। অন্যান্য এলাকা থেকে উন্নয়নে আমরা অনেক পিছিয়ে। টিআর কাবিটাসহ ছোট ছোট উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড করিয়েছেন উনার নিজের লোকজনদের দিয়ে। আর ওই লোকরা ছোটখাটো কাজও করেনি। উন্নয়নের জন্য আমাদের এই আসনে পরিবর্তন চাই আমরা।
যুক্তরাজ্য শ্রমিক লীগের সভাপতি ও মনোনয়ন প্রত্যাশী ড. মো. সামছুল হক চৌধুরী বলেন, মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা রয়েছে। বিগত নির্বাচনেও দেখেছি নেত্রী যাকে মনোনয়ন দিয়েছেন তার পক্ষে সবাই কাজ করেছে। আমি নিজেও গেল ৩ বার এই আসনে মনোনয়ন চেয়েছি, কিন্তু পাই নি। যিনি পেয়েছেন তারপক্ষে নির্বাচনের সময় কাজ করেছি। এবারও তাই করবো।
মনোনয়ন প্রত্যাশী তানভীর তুলি বলেন, অনেক জাতীয় নেতৃত্ব এই এলাকা থেকে উঠে এসেছেন। কিন্তু এলাকার সেরকম কোনো উন্নয়ন হয় নি। এখন দিরাইয়ের সঙ্গে শাল্লার সরাসরি সড়ক যোগাযোগ হয়ে উঠেনি। এই বিষয়গুলোকে নিয়ে কাজ করার মতো তরুণ নেতৃত্ব চাই এবার।
মনোনয়ন প্রত্যাশী চৌধুরী আব্দুল্লা আল মাহমুদ (আল আমিন চৌধুরী) বলেন, আমাদের কাঙ্খিত উন্নয়ন হয় নি। সারাদেশের মতো এই আসনে উন্নয়নের জন্য কেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা দরকার। কিন্তু আমাদের বর্তমান সংসদ সদস্য বার্ধ্যকজনিত কারণে শারীরিকভাবে অসুস্থ। সে জন্য গেল ৫ বছরে কাজ করতে পারেন নি। এই সোনার বাংলাকে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে তরুণ নেতৃত্ব প্রয়োজন। এই আসনে সাধারণ মানুষ এজন্য পরিবর্তন চান।
মনোনয়ন প্রত্যাশী অবনী মোহন দাস বলেন, যিনি এলাকার উন্নয়নের জন্য, সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করেন সেরকম একজনকে চাই এই আসনে। যে ব্যক্তি সংগঠনকে শক্তিশালী করার জন্য কাজ করেন তাকে সংসদ সদস্য হিসেবে চাই। আমি ১৯৮৬ সাল থেকে এলাকায় থেকে রাজনীতিতে সার্বক্ষণিক কাজ করছি। আশা করি নেত্রী এই বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে এবার নৌকার মনোনয়ন দেবেন।
এদিকে ড. জয়া সেনগুপ্ত ছাড়া সুনামগঞ্জ ২ আসনে আর কাউক দিয়ে বৈতরণী পার হওয়া যাবে না বলে মন্তব্য করেন দিরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কামাল উদ্দিন। তার মতে, এলাকার মানুষ বর্তমান সংসদ সদস্য জয়া সেনগুপ্তকে আবারও চায়। তার জায়গায় নতুন কেউ এলে সাধারণ মানুষ নৌকায় ভোট দেবে না। তিনি পরিচ্ছন্ন রাজনীতি করেন। কাউকে অনৈতিক সুযোগ সুবিধা দেন না। যারা অনৈতিক সুযোগ সুবিধা পান নি তারা এবার পরিবর্তন চান। তিনি আরও বললেন, বিএনপি নির্বাচনে না এলেও তাদের স্বতন্ত্র প্রার্থীরা নির্বাচন করবে।
সংসদ সদস্য জয়া সেনগুপ্ত বললেন, মনোনয়ন যে কেউ চাইতে পারেন। নেত্রী ঠিক করবেন মনোনয়ন কাকে দেবেন। দিরাই—শাল্লায় তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে কোনো কোন্দল নেই বলে জানান তিনি।
এলাকায় উন্নয়ন সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মানুষের চাহিদা অনুযায়ী রাস্তাঘাটের অনেক উন্নয়ন হয়েছে, আরও কিছু বাকী রয়েছে। আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যিনি বিজয়ী হবেন তিনি আরও কাজ করবেন।
জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নুরুল হুদা মুকুট বলেন, আওয়ামী লীগ অনেক বড় দল। সেখানে একাধিক প্রার্থী থাকা স্বাভাবিক। দলে কোনো কোন্দল নেই বরং প্রতিযোগিতা রয়েছে। আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নেত্রী যাকে মনোনয়ন দেবেন তার পক্ষে একাট্টা হয়ে কাজ করবো আমরা।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন