প্রকাশিত: ২১ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০৬:১০
সুনামগঞ্জের উলামায়ে কেরাম ও তাওহিদী জনতার আধ্যাত্মিক রাহবার শায়খুল হাদীস আল্লামা নুরুল ইসলাম খান বলেছেন, ‘আমার নবী বলেছেন, কুরআন শরীফের একটি হরফ পড়লে দশটি নেকি পাওয়া যায়। নবীজি বলেছেন, কুরআন শরীফ বুঝে পড়লে ও না বুঝে পড়লেও একটি হরফে দশটি নেকি পাওয়া যায়। কিন্তু মাওলানা সাদ বলেন, না বুঝে পড়লে কবিরা গুনাহ। তাহলে আমরা নবীজির কথা মানব, নাকি মাওলানা সাদ’র কথা মানব?
এসময় উপস্থিত উলামা মাশায়েখ ও তৌহিদী জনতা বলেন, আমরা নবীজির কথা মানব।
টঙ্গী বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে রাতের আঁধারে ঘুমন্ত মুসল্লিদের উপর হামলায় শতাধিক মুসল্লি আহত ও চারজন নিহত হয়। এর প্রতিবাদে সুনামগঞ্জে উলামা মাশায়েখের আয়োজনে প্রতিবাদ সভা ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠানে সম্মিলিত উলামা মাশায়েখ পরিষদের সভাপতি মাওলানা আব্দুল বছির’র সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, মাওলানা সাদ পন্থীরা টাকার লোভে পথ হারিয়ে ফেলেছেন। তিনি মহান আল্লাহর নিকট সাদ পন্থীদের হেদায়েতের জন্য দোয়া কামনা করেন। বক্তব্যে আল্লামা নুরুল ইসলাম খান আরও বলেন, মাওলানা সাদ বলেন, হেদায়েত নাকি আল্লাহর কাছে না। তাহলে তারা সন্ত্রাসী না কারা সন্ত্রাসী, তারা ডাকাত না, কারা ডাকাত এমন প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, এরা হচ্ছে, নবীজির দুশমন, আল্লাহর দুশমন।
আল্লামা নুরুল ইসলাম খান প্রশাসনকে অনুরোধ করে বলেন, সাদ পন্থীদেরকে জেল রোড মসজিদ থেকে সরিয়ে দিতে হবে। যদি তাদেরকে সরিয়ে না দেন, তাহলে কোনো সমস্যা হলে এর দায়ভার প্রশাসনকে নিতে হবে।
হেফাজতে ইসলাম সুনামগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক মুফতি আব্দুল হক আহমদি, ইমাম— মুয়াজ্জিন পরিষদ সুনামগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আব্দুর রকীব বিশ্বম্ভরপুরী ও জেলা হেফাজতের সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মাওলানা রফিক আহমেদ এবং হাফিজ ত্বাহা হোসাইন’র সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন তাবলিগ জামাতের অন্যতম মুরুব্বি শায়খ মাওলানা আনোয়ার হোসেন, ঢালাওগাঁও মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা আনোয়ারুল ইসলাম, মুসলিমপুর মাদ্রাসার মুহতামিম মুফতি আজিজুল হক, শাখাইতি মাদ্রাসার শায়খুল হাদীস মাওলানা তৈয়বুর রহমান চৌধুরী, দারুল হিকমার পরিচালক মাওলানা নুরুজ্জামান আলমগীর, দারুল আরকাম মহিলা মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা কামরুজ্জামান হাকিমী, চন্ডিপুর মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা নুর উদ্দিন, হেফাজত নেতা মুহতামিম মাওলানা রুকুন উদ্দিন, অচিন্তপুর মহিলা মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা রুকুন উদ্দিন, তেঘরিয়া জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা আলীনুর আহমেদ হাদী, বড়পাড়া নদীরপাড় জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা নাজমুল ইসলাম জাহিদ, বড়পাড়া নতুন জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা মোস্তফা কামাল প্রমুখ।
সভা শেষে সাত দফা দাবি জানিয়েছেন বক্তারা। দাবি সমূহ হচ্ছে —
রাতের অন্ধকারে তাবলীগের ঘুমন্ত নিরীহ মোখলেছ সাথীদের উপর অতর্কিত হামলাকারী সাদপন্থী সন্ত্রাসীদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও ফাঁসি দিতে হবে। সুনামগঞ্জ জেলায় সকল মসজিদে তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করতে হবে। সুনামগঞ্জ শহরে পুরাতন জেল মসজিদে অবস্থিত মারকাজ নামে সাদ গ্রুপের সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা স্থায়ীভাবে বন্ধ ঘোষণা করতে হবে। সুনামগঞ্জ জেলা থেকে যেসব সন্ত্রাসী টঙ্গীর নৃশংস হত্যাকাণ্ডে অংশগ্রহণ করেছে, তাদের বিরুদ্ধে মামলা গ্রহণ করে অনতিবিলম্বে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। সন্ত্রাসীদের গডফাদার ইঞ্জিনিয়ার ওয়াসিফ, তার ছেলে উসামা, মুআয বিন নুর, জিয়া বিন কাসিম, আব্দুল্লাহ মানসুর, রেজা আরিফসহ সকল গডফাদারকে অনতিবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে। কাকরাইল মসজিদে প্রবেশ এবং তুরাগ নদীর তীরে বিশ্ব ইজতেমার মাঠে তাদের কার্যক্রম স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করতে হবে।
আমাদের কাছে সংবাদ আছে, টঙ্গীর তুরাগ নদীর পশ্চিম পাশে বেলাল মসজিদে বর্তমানে সন্ত্রাসীরা অবস্থান করছে। তারা আবার সুযোগ বুঝে হামলা করতে উৎ পেতে বসে আছে। অনতিবিলম্বে সেখানে অভিযান চালিয়ে সেখান থেকে খুনিদের গ্রেফতার করে বেলাল মসজিদ আলেমদের নিকট বুঝিয়ে দিতে হবে।
সভা শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল শহরের পুরাতন বাস স্টেশন এলাকায় গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়।
সেখানে মাওলানা আব্দুল বছির দোয়া পরিচালনা শেষে সমাবেশের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন