প্রকাশিত: ২১ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০৬:৩১
শিক্ষক সংকটে তাহিরপুর সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। একারণে অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ছেন।
জানা যায়, ১৯৫০ সালে থানা সদরে তাহিরপুর সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর ১৯৫৪ সালে নিম্ন মাধ্যমিক এবং ১৯৬০ সালে মাধ্যমিক বিদ্যালয় হিসাবে স্বীকৃতি পায়। পরবতীর্তে ১৯৮৭ সালের ২৭ আগস্ট তাহিরপুর সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় হিসাবে স্বীকৃতি পায়।
জানা যায়, সরকারীকরণের পূর্বে কম্বাইন্ড এ বিদ্যালয়টিতে ১৩ জন শিক্ষক ও ৫০০ জন ছাত্র—ছাত্রী থাকলেও সরকারীকরণের পর থেকেই বিদ্যালয়টিতে চলছে শিক্ষক সংকট। বিদ্যালয় সরকারীকরণের ৩ যুগ পরও কোন দিনই পূরণ হয়নি প্রধান শিক্ষকের পদ। প্রধান শিক্ষকের পদটি বর্তমানেও শূন্য রয়েছে। তাছাড়া বিদ্যালয়টিতে দ্বিতীয় শাখা চালু না থাকায় প্রতি বছর ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে ভর্তি হতে শিক্ষার্থীরা পড়ে নানামুখী বিপাকে। সরকারী নিয়ামানুযায়ী, প্রতি শাখাতে ৫৫ জনের বেশী শিক্ষার্থী করা যায় না। যে কারণে দরিদ্র সন্তানেরা লেখাপড়া থেকে ঝরে পড়ে যায়। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে ছাত্রসংখ্যা রয়েছে ৬০০ জন।
জাতীয়করণের পর তাহিরপুর সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষকসহ মোট ৯ জন শিক্ষকের পদ আছে। বর্তমানে সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসাবে চলতি দায়িত্ব পালন করছেন ফয়জুল হোসাইন। ২০২১ সাল থেকে গণিত শিক্ষকের পদ শূন্য হয়ে পড়েছিল। গত সপ্তাহে মাউশির দু’টি বদলির আদেশে ইংরেজীর শিক্ষক জাহিদ কামাল, বাংলা বিষয়ের শিক্ষক আলমগীর হোসেন চলে যাওয়ায় তিন আবশ্যিক বিষয়ের আর কোন শিক্ষক নেই। ইসলাম শিক্ষা বিষয়ের পদটিও শূন্য রয়েছে। অন্য আরেকটি আদেশে জীব বিজ্ঞানের শিক্ষক বিএড প্রশিক্ষণে ২০২৫ সালের জন্য চলে গেছেন। ফলে কর্মরত আছেন মাত্র চার জন শিক্ষক। তারা হলেন— সামাজিক বিজ্ঞানের এইচএম লিয়াকত, ভৌত বিজ্ঞানের জামাল উদ্দিন, শারীরিক শিক্ষার রুপেশ দাস, কৃষি বিজ্ঞানের তপু মুখার্জি। এছাড়া বিদ্যালয়ে ২ জন সহকারী, ১ জন পিয়ন ও নৈশ প্রহরীর পদ শূন্য রয়েছে। অপরদিকে শিক্ষক সংকটের কারণে বিজ্ঞান ভবনের অবস্থা জরাজীর্ণ, এখানে কখনো ব্যবহারিক কোন ক্লাস নেওয়া হয় না বলে শিক্ষার্থীরা জানায়।
তাহিরপুর সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ছাত্র অর্ণব পুরকায়স্থ জানায়, আমাদের গণিত ও ইংরেজী শিক্ষক না থাকায় আমরা এই দুই বিষয়ে পরিপূর্ণ পাঠদান গ্রহণ করতে পারছি না।
ছাত্র অভিভাবক চম্পল মিয়া জানান, সরকারীভাবে কোচিং বন্ধ করে দেয়া হয়েছে, এ অবস্থায় উল্লেখযোগ্য দুইটি বিষয়ের শিক্ষক না থাকায় আমাদের ছেলেমেয়েরা বিদ্যালয়ে সঠিক কিছু জানতে পারছে না। এ অবস্থায় শিক্ষার্থীরা ভাল ফলাফল করতে পারবে বলে মনে হচ্ছে না।
তাহিরপুর সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক ফয়জুল হোসাইন বলেন, আমাদের বর্তমানে চারজন শিক্ষক রয়েছেন। বিদ্যালয়ে সর্বমোট ৬০০ জন ছাত্রছাত্রীকে ২০২৫ সালে কিভাবে পাঠদান করাবো এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছি।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আবুল হাসেম বলেন, সরকারী এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শূন্যপদ পূরণ করা প্রয়োজন, এ ব্যাপারে আমাদের চেষ্টা রয়েছে।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন