আসামীকে থানায় সোপর্দ করেছে পরিবার, পুলিশ বলছে অভিযানে গ্রেফতার

প্রকাশিত: ০১ জানুয়ারি, ২০২৫ ০৭:৩৪

‘ছেলে দোষী হলে দেশের প্রচলিত আইনে তার যে শাস্তি আছে সেটা হোক, আমার কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু আমরা যে অভিযুক্ত ছেলেকে থানায় সোপর্দ করলাম সে বিষয়টি পুলিশ বলছেন না কেনো? বিভিন্ন গণমাধ্যমে তারা (পুলিশ) বক্তব্য দিয়েছেন, অভিযান চালিয়ে হত্যা মামলার আসামী আমজাদ হোসেনকে গ্রেফতার করেছেন। কিন্তু প্রকৃত ঘটনা হচ্ছে, আমার ছেলে আমজাদ হোসেনকে আমরাই ধরিয়ে দিয়েছি।’ 
কথাগুলো বলছিলেন, জগন্নাথপুরে স্ত্রীকে চেয়ার দিয়ে আঘাত করে হত্যার অভিযুক্ত আসামী শান্তিগঞ্জ উপজেলার দরগাপাশা ইউনিয়নে আক্তাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আমজাদ হোসেনের বাবা মখলিছ মিয়া। 
তিনি বলেন, আমার ছেলে প্রায় ৮ বছর ধরে আমাদেরকে ছেড়ে স্ত্রীকে নিয়ে তার কর্মস্থল জগন্নাথপুর উপজেলার পাটলী ইউনিয়নের ইসমাইলপুর গ্রামে বসবাস করতো। মাঝেমধ্যে বাড়িতে আসতো। তার সাথে আমাদের তেমন কোনো যোগাযোগ ছিলো না। ১৮ ডিসেম্বর বুধবার খবর পেলাম আমজাদ তার স্ত্রীকে মারধোর করেছে। আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। অবস্থা বেশি গুরুতর দেখে জগন্নাথপুর হাসপাতালে তাকে না রেখে সিলেটে নেওয়ার পরামর্শ দেন জগন্নাথপুরের ডাক্তাররা। সিলেটে নেওয়ার পথে তার শ্বাস—প্রশ্বাস বন্ধ হলে আবারও জগন্নাথপুর হাসপাতালে আনার পর কর্তব্যরত ডাক্তাররা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আমজাদ তখনই পালিয়ে গিয়েছিলো। সেদিন আমাকে পুলিশ আটক করলেও একদিন পর রাতে আমার আত্মীয়স্বজনের জিম্মায় ছেড়ে দিয়েছিলো। বাড়িতে এসে ঘটনার বিস্তারিত জেনে আত্মীয়—স্বজনের সাথে কথা বলে আমজাদকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেই। জগন্নাথপুর থানার উপ—পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল্লাহ্ আমাকে একই পরামর্শ দিয়েছিলেন। সব চিন্তা করে আমার অপর দুই ছেলের সহযোগিতায় আমজদকে খুঁজে বের করি। ঘটনার ৯ দিন পর  ২৮ ডিসেম্বর শনিবার সকালে দরগাপাশা ইউপির ২ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য সুরুজ আলী, আক্তাপাড়া গ্রামের শালিস ব্যক্তিত্ব আবদুর রশিদ ও আমজাদ হোসেনের বোনজামাই মিলে একটি সিএনজিতে করে আত্মসমর্পণের জন্য আমজাদ হোসেনকে থানায় নিয়ে যাই। কিন্তু পুলিশ এই ঘটনাকে আত্মসমর্পণ না বলে অভিযান করে গ্রেফতার করেছেন বলে গণমাধ্যমে বক্তব্য দিয়েছেন। তারপরই বিষয়টি আমার নজরে আসে।
আমজাদ হোসেন শান্তিগঞ্জ উপজেলার আক্তাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মোখলেছ মিয়ার ছেলে। আট বছর ধরে ইসমাইলপুর গ্রামে একটি রাইস মিলে কাজ করেন তিনি। ঘটনার পর থেকে পলাতক ছিলেন ঘাতক আমজাদ।
আমজাদ হোসেনকে জগন্নাথপুর থানায় নিয়ে গিয়েছিলেন দরগাপাশা ইউপির ২নম্বর ওয়ার্ড সদস্য সুরুজ আলী, আক্তাপাড়া গ্রামের শালিস ব্যক্তিত্ব আবদুর রশিদ ও আমজাদ হোসেনের বোনজামাই। এই প্রতিবেদকের কথা হয় শালিস ব্যক্তিত্ব আবদুর রশিদের সাথে। 
তিনি বলেন, আমরা তিনজন মিলে আমজাদ হোসেনকে থানায় নিয়ে গিয়েছি। এসআই আবদুল্লাহ ও ওসি রুহুল আমীন আমাদেরকে ধন্যবাদ দিয়ে চা খাইয়েছেন। চারজন থানার ভিতরে প্রবেশ করেছিলাম তিনজন বেরিয়ে এসেছি। থানার সিসিটিভি ক্যামেরা চেক করলেও সত্যতা পাওয়া যাবে। কিন্তু থানা পুলিশ গণমাধ্যমে বক্তব্য দিয়েছেন, তারা অভিযান করে তেলিকোনা থেকে আসামী গ্রেফতার করেছেন, বিষয়টি সত্য নয়। আমরা যে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হলাম, সেটি আর থাকলো না। 
আক্তাপাড়া মিনাবাজারের ব্যবসায়ী শামসুদ্দিন সুনু বলেন, আমরা বুঝিয়ে সুঝিয়ে আমজাদকে আত্মসমর্পণে রাজি করিয়েছি। থানায় যাওয়ার সময় গাড়িতে তুলে দিয়েছি। এখন পত্রপত্রিকায় দেখি পুলিশ অভিযান করে তাকে গ্রেফতার করেছে। এটা দেখে আমরা তো অবাক! তার বাবা মোখলিছ মিয়া নীরিহ ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল মানুষ। আমজাদ যদি তার স্ত্রীকে হত্যা করে থাকে তার বিচার হোক, কিন্তু তার বাবা যে আইনের প্রতি শ্রদ্ধা দেখালেন সেই বিষয়টিতো গোপন থেকে গেলো। 
জগন্নাথপুর থানার উপ—পরিদর্শক (এসআই) আবদুল্লাহ বলেন, সঙ্গীয় ফোর্সসহ তেলিকোনায় অভিযান করে আমরা তাকে গ্রেফতার করেছি।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল আমীনের সাথে কথা হলে তিনি প্রথমে বলেন, আমার অফিসার তাকে দূর থেকে নিয়ে এসেছে। পরিবারের লোকজন কর্তৃক থানায় সোপর্দ করা হয়েছে বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কতজন তো কত কথাই বলবে। তাকে থানায় ঢোকার আগেই গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। সে তার দোষ স্বীকার করেছে। সে অনুযায়ী ছাড় পাবে। থানায় আসামী সোপর্দ করার পর আপনি চা খাইয়েছেন? এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, এজহার বা চার্জশিটের সময় আমরা এটা উল্লেখ করে দেবো।

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার