বেরিবাঁধ কেটে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা, বিপাকে গ্রামবাসী 

প্রকাশিত: ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ০১:১০

শান্তিগঞ্জের পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়নের একটি গ্রাম নতুন বাবনগাঁও। গ্রামটিকে উত্তর উমেদনগর গ্রাম হিসেবেও চিনেন অনেকে। ইউনিয়নের খাইহাওরের পাদদেশে কোনাডুপি বিলের দক্ষিণ ও লাউগাঙ্গের উত্তরে অবস্থিত গ্রামটি। গ্রামের উপর দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে বেরিবাঁধ। ৬৮ নম্বর পিআইসির বাঁধটিই গ্রামবাসীর চলাচলের একমাত্র সড়ক। এই অংশে সরকারের বেরিবাঁধ নির্মাণের উদ্যোগের কারণেই নতুন বাবনগাঁও গ্রাম চলাচলের সুযোগ পেয়েছে। এজন্য খুশি গ্রামবাসী। কিন্তু তাদের সেই খুশি আর বেশি দিন টিকেনি। রাতের আঁধারে কে বা কারা উদ্দেশ্যে প্রণোদিত ভাবে কেটে দিয়েছে সড়কে রূপান্তরিত হওয়া সেই বেরিবাঁধ। বাঁধের কমপক্ষে ৫ ফুট জায়গা কেটে দিয়েছে দুবৃর্ত্তরা। এ অবস্থায় সড়ক নিয়ে শঙ্কিত গ্রামবাসী।
তারা জানান, নতুন বাবনগাঁওয়ে অন্তত ৫০টি পরিবারের বসবাস। পূর্বপাড়ের মানুষ এই পথ দিয়ে করে হাওরে যান আবার পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের সব কাজেই লাগে এই পথ। ছেলেমেয়েরা এ পথেই যান স্কুল—কলেজ ও মাদ্রাসায়। মুসল্লিরা যান নামাজ পড়তে। বাঁধ কেটে দেওয়ার কারণে অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থীরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে বেগ পোহাতে হচ্ছে। বেশি সমস্যায় পড়েছেন রোগী ও বয়োবৃদ্ধরা।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়নের পুরাতন বাবনগাঁও থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে, খাইহাওরের পাদদেশে,  কোনাডুপি বিলের দক্ষিণ ও লাউগাঙের উত্তরপাড়ে ৬৮ নম্বর পিআইসির বেরিবাঁধ অবস্থিত। বাঁধটি বর্তমানে নতুন বাবনগাঁও (উত্তর উমেদনগর) গ্রামের চলাচলের একমাত্র পথ। গ্রামের মো. একাব উদ্দিনের বাড়ির পেছন থেকে মৃত. শামীম আহমেদের বাড়ি পর্যন্ত প্রায় আর্ধ কিলোমিটারের পথ। পূর্বের কিছু অংশ এখনো পানিতে ডুবে আছে। বাঁধের এই অংশ দিয়ে এখনো ইঞ্জিন চালিত নৌকা চলাচল করে। পশ্চিমাংশ পানিতে ডুবেনি। তাই দুর্বৃত্তরা রাতের আঁধারে পরিকল্পিতভাবে কোদাল দিয়ে কেটে বড় ভাঙা করে দিয়েছে। প্রবল গতিতে ভাঙা দিয়ে নদী থেকে হাওরে পানি প্রবেশ করছে। প্রায় ৫ ফুটের মতো এ ভাঙা ক্রমশ বড় হচ্ছে। ভাঙাটি দেখলে স্পষ্ট বুঝা যায় কোদাল দিয়ে কেউ বাঁধটি কেটে দিয়েছে। এদিকে নৌকাও যাতায়াত করেছে। স্থানীয়রা ধারণা করছেন, মাছ ধরার উদ্দেশ্যে কিংবা নৌকা চলাচলের জন্য এ বাঁধ কেটে দেওয়া হয়েছে।
গ্রামবাসীর দাবি, প্রতি বছরই একটি কুচক্রী মহল বাঁধ কেটে দিতে উদ্যত হয়। কিন্তু বাঁবনগাঁও গ্রামের মানুষের তৎপরাতায় তারা তা করতে পারে না। এ বছর লুকিয়ে ৫ ফুটের মতো একটি ভাঙ্গা তারা করে দিয়েছে। আস্তে আস্তে এটিকে আরো বড় করবে দুর্বৃত্তরা।
নতুন বাবনগাঁও বা উত্তর উমেদনগর গ্রামের বাসিন্দা কবি আফজাল হোসাইন, তাজিমুল ইসলাম ও আজিজুর রহমান বলেন, বাঁধটি নতুন বাবনগাঁও গ্রামের একমাত্র চলাচলের পথ। একটি কুচক্রী মহল তাদের ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে সরকারের লাখ লাখ টাকা খরচ করে বেঁধে দেওয়া এ বাঁধ প্রতি বছরই কেটে দিতে চায়। গত বছর আমরা পাহারা দিয়ে বাঁধ কাটা ঠেকিয়েছি। এ বছরও পাহারা দিচ্ছিলাম। গভীর রাতে আমরা পাহারা ছেড়ে চলে গেলে, কে বা কারা বাঁধটি কেটে দিয়ে যায়। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই। সরকারের কাছে এর সুবিচার কামনা করি। আমরা চাই বাঁধটি পুনঃনির্মাণ করে অন্তত এই অর্ধ কিলোমিটার যেনো পাকা করে দেওয়া হয়। তাহলে দুর্বৃত্তরা আর কাটার সুযোগ পাবে না।
পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য রুজেল আহমদ বলেন, ৬৮ নম্বর পিআইসিতে দুবৃর্ত্তরা যে ভাঙাটি করে দিয়েছে সেটা অত্যন্ত দুঃখজনক। যে বা যারা এমন গর্হিত কাজ করেছে আমি তাদের শাস্তি চাই। প্রশাসনের সুনজর কামনা করছি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আনোয়ার উজ্ জামান বলেন, আমি খোঁজ নিচ্ছি। তারপর ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
 
 

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার