প্রকাশিত: ১৭ জানুয়ারি, ২০২৫ ০৭:৪২
দ্বিগুণ লাভের আশায় টমেটো চাষাবাদ করে তাহিরপুরে লোকসান গুনতে হয়েছে কৃষকদের। উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের যাদুকাটা নদীর পূর্বপাড় এলাকা বিন্নাকুলি, ঢালারপাড়, মন্তাজপুর, রহমতপুর জাঙ্গালহাটির প্রায় ৫০০ একর জমিতে টমেটো চাষাবাদ করে কৃষকরা সর্বশান্ত হয়ে গেছেন।
এলাকার কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বিগত বছর তারা জেসিকা টমেটো বীজ চাষাবাদ করে দ্বিগুণ লাভবান হয়েছিলেন। সে আশায় এবারও এলাকার সকল কৃষক টমেটো চাষাবাদ করেছিলেন। কিন্তু এলাকার সকল কৃষক জেসিকা টমেটো বীজের পরিবর্তে ১২২০ ও প্রদীপ বীজ এ বছর বপন করেছেন।
১২২০ ও প্রদীপ বীজ জেসিকা বীজের ফলনের চাইতে ২০/২৫দিন পিছিয়ে ফলন হয়েছে। এতে করে টমেটোর চাহিদার সময় বাইরের পাইকারী ব্যবসায়ীরা টমেটো ক্রয়ে অন্য এলাকাতে ঢুকে পড়েছে। এমতাবস্থায় বাইরের পাইকার না পেয়ে বাধ্য হয়ে কম দামে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের নিকট টমেটো বিক্রয় করতে হচ্ছে তাদের।
মন্তাজপুর গ্রামের টমেটো চাষী জালাল উদ্দিন বলেন, আমরা সাধারণত টমেটো চাষাবাদের পর পুরো জমি পাইকারের নিকট বিক্রি করে থাকি। পাইকার সুবিধামত সময়ে জমি থেকে তার জনবল দিয়ে টমেটো জমি উঠিয়ে বিক্রি করে থাকে।
তিনি আরো জানান, বিগত বছর তিনি টমেটো চাষাবাদ করে দ্বিগুণ লাভবান হয়েছিলেন। এ বছর তিনিসহ এলাকার সকল কৃষক জেসিকা বীজ পরিবর্তন করে ১২২০ ও প্রদীপ বীজ রোপন করে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এক কিয়ার (৩০ শতকে এক কিয়ার) জমিতে টমেটো লাগাতে তার খরচ হয়েছে ৫০ হাজার টাকা। পাইকারের কাছে এক কেয়ার টমেটো বিক্রি করেছেন ৪০ হাজার টাকায়। বিগত বছর সম পরিমাণ খরচে এক কিয়ার জমির টমেটো বিক্রি করেছেন ৯০ হাজার থেকে এক লক্ষ টাকায়।
বিন্নাকুলি গ্রামের কৃষক আব্দুল হক বলেন, টমেটো চাষীগণ উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ পান না। জালাল উদ্দিন নামে একজন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা রয়েছেন তাদের ওখানে, সপ্তাহে ৫ কর্মদিবসের মধ্যে একদিনও তার দেখা মিলে না।
তাহিরপুর উপজেলা কৃষি অফিসার মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। কৃষকরা আগাম জাতের টমেটো বীজ বপন করলে, হয়তোবা লোকসানের মুখ দেখতেন না। বিশেষ করে টমেটো চাষাবাদে কৃষকরা উপজেলা কৃষি অফিস থেকে আগেই পরামর্শ নিলে অনেক ভালো হতো।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন