সওজের  জায়গায় বসা দোকানিরা সংকটে

প্রকাশিত: ১৭ জানুয়ারি, ২০২৫ ০৭:৪৫

সিলেট-সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কে সুনামগঞ্জ অঞ্চলের বিস্তৃতি ৪৬ কিলোমিটার। সুনামগঞ্জের প্রবেশমুখ হাছন রাজার তোরণ থেকে গোবিন্দগঞ্জের সেতুর পূর্বপাড় পর্যন্ত পথে অন্তত ষোলোটি স্থানে বসেন অস্থায়ী ব্যবসায়ীরা। এসব স্থানের প্রায় শতভাগ জায়গাই সুনামগঞ্জ সড়ক ও জনপথের। অস্থায়ী স্থাপনা তৈরি করে যেসব ব্যবসায়ীরা সওজের জায়গায় ব্যবসা করে আসছেন তাদের বেশিরভাগই নি¤œ আয়ের মানুষ এবং পরিবারের একমাত্র উপার্জনের মাধ্যমও এসব দোকান। কিছুদিন পর পর সওজের ‘অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ’ অভিযানে ‘উদ্বাস্তু’র মতো হয়ে পড়েন ক্ষুদ্র ও মাঝারি মানের শত শত ব্যবসায়ীরা। এসময় চরম জীবিকার সংকটেও পড়েন তারা। স্থায়ী কোনো সমাধান না থাকায় দুই-একদিনের মধ্যে আবারও নিজেদের ‘দখলি’ জায়গায় অস্থায়ী স্থাপনা তৈরি করেন দিশেহারা মানুষগুলো। কোনো কোনো ক্ষেত্রে সকালে উচ্ছেদ অভিযান হলেও, বিকালেই খোলা আকাশের নিচে দোকান খুলতে বাধ্য হন তারা। কারণ জীবিকা নির্বাহের আর কোন পথ তাদের খোলা নেই। 
এমনও ব্যবসায়ী আছেন, একদিন দোকান বন্ধ থাকলে ঘরের চুলায় আগুন জ্বলে না। এমন পরিস্থিতিতে ভাসমান এসব ব্যবসায়ীদের জন্য স্থায়ী সমাধানের পথ খোঁজার পরামর্শ দিয়েছেন সচেতন মহল।
জানা যায়, সিলেট-সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের সুনামগঞ্জ অংশে ওয়েজখালী, নীলপুর, মদনপুর পয়েন্ট (দিরাই রাস্তার মুখ), উজানীগাঁও পয়েন্ট, শান্তিগঞ্জ বাজার, পাগলা বাজার, ডাবর পয়েন্ট, দামোধরতপী পয়েন্ট, বড়কাপন বাজার, জাউয়া বাজার, কৈতক পয়েন্ট, চৌকা পয়েন্ট, ধারণ বাজার, বুকারভাঙা ও গোবিন্দগঞ্জের বিশাল এলাকাসহ অন্তত ষোলটি স্থানের দুই পাশে অবৈধ স্থাপনা তৈরি করে অস্থায়ী ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে আসছিলেন ওইসব এলাকার স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।  বুধ ও বৃহস্পতিবার (১৫ ও ১৬ জানুয়ারি) দুই দফায় আবারও উচ্ছেদ অভিযান চালায় সুনামগঞ্জ জেলার সড়ক ও জনপথ বিভাগ। উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেন এস্টেট ও আইন কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেস, যুগ্ম-সচিব আবদুল লতিফ খান। দুই দিনই সাথে ছিলেনÑ সুনামগঞ্জ সদর সড়ক বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. আশরাফুল হামিদ ও ছাতক সড়ক উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী শাহাদাত হোসেন। এই অভিযানে উচ্ছেদ হয় শত শত ব্যবসায়ীর উপড়ি দোকান। 
যেসব দোকানের আয়-উপার্জনের সাথে জড়িত ওই দোকানীর পুরো পরিবারের উত্থান-পতনের গল্প। ছেলে-মেয়ের পড়াশোনা, বৃদ্ধ মা-বাবার চিকিৎসা খরচসহ সংসারের সকল খরচ মিঠে এই দোকানোর উপর। উচ্ছেদ হওয়া দিশেহারা ব্যবসায়ীরাও চান তাদেরকে যেনো পুনর্বাসন করা হয়। 
স্থানীয়রা বলছেন, ক’দিন পর পর মাইকিং করে জানানো হয় স্থাপনা উচ্ছেদের কথা। পরে তারা এসে ভেঙে দিয়ে যায়। ভাঙার পরে সওজের লোকজন আর কোনো খুঁজ নেয় না। তারপর আবারও ব্যবসায়ীরা নিজেদের পূর্বের জায়গায় স্থাপনা তৈরি করেন। এলাকার চেয়ারম্যান, অন্যান্য জনপ্রতিনিধিসহ প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে এসব ব্যবসায়ীদেরকে পুনর্বাসন করা দরকার। তা না হলে এই ভাঙা গড়ার খেলা চলতেই থাকবে।
পাগলা বাজার বাসস্ট্যান্ড এলাকার ব্যবসায়ী ওয়াসিম মিয়া ও সবুজ আহমদ। তারা বলেন, ‘এই ভাঙা গড়ার খেলা আর কত কাল চলবে? সরকার তাদের জায়গা নিয়ে নিলে আমাদের কোনো আপত্তি নেই, কিন্তু যে যায়গা পতিত পড়ে থাকে সে জায়গায় সরকারিভাবে যদি একটি শেড তৈরি করে দেয় তাহলে অন্তত আমরা ব্যবসা করে চলতে পারতাম। আমাদের এই দুঃখ শোনার ও বুঝার মানুষ যেনো এই দেশেই নাই।’
শান্তিগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান  ফারুক আহমদ বলেন, ‘বার বার অস্থায়ী দোকানপাট ভাঙা অত্যন্ত দুঃখজনক। একই সাথে সরকার তার নিজের জমি বুঝে পাবে এটাও স্পষ্ট সত্য কথা। তবে বিশাল সংখ্যক দোকানীদের পূনর্বাসনের বিষয়টিও ভাবতে হবে। সরকারের সামর্থ্য অনুযায়ী যতটুকু পারা যায়, যত দ্রæত সম্ভব ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসন করা দরকার। প্রশাসনের কাছে আমাদেরও জোর দাবি এই পদক্ষেপ নেওয়া গেলে অন্তত গরিব মানুষগুলো উপকৃত হবেন।’
জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া বলেন, ‘পুনর্বাসন করতে পারলে ভালো হতো। সরকারি অব্যবহৃত জায়গায়কে বন্দোবস্ত দেওয়ার দাবিকে একটি ভালো দাবি উল্লেখ করে তিনি বলেন- জাউয়া বাজার, গোবিন্দগঞ্জ বাজারসহ এসব এলাকার আরো যে বাজারগুলো আছে, তারা যদি আমাদের কাছে আবেদন করেন তাহলে তাদের আমরা বন্দোবস্ত দিতে পারি। যারা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন তাদের নামসহ একটি তালিকা যদি দেন, তাহলে তাদের সাথে কথা বলে দোকান বন্দোবস্ত দিয়ে পুনর্বাসনের একটি উদ্যোগ নিতে পারি।

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার