প্রকাশিত: ১৮ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:৩২
শান্তিগঞ্জ উপজেলার প্রতিটি ঘরে ঘরে বেড়েছে শীতকালীন রোগের প্রাদুর্ভাব। শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধ পর্যন্ত অনেক মানুষই আক্রান্ত হচ্ছেন পাতলা পায়খানা, জ¦র, সর্দি, কাশি ও খোসপাঁচরা রোগে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও আট ইউনিয়নের উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে যেসব রোগীরা সেবা নিতে যাচ্ছেন তাদের বেশির ভাগই এসব রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন দায়িত্বরত ডাক্তাররা। তারা বলেন, রোগীর স্বাস্থ্য সচেতন না থাকা, ঠান্ডা নিয়ে অনীহা ইত্যাদির কারণে এমন রোগীর সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে।
হাসাপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বহির্বিভাগে যে সব রোগী সেবা নিতে আসেন তাদের ৮০ শতাংশের উপরে ঠান্ডাজনিত রোগ। এর মধ্যে পাতলা পায়খানা, জ¦র, সর্দি, কাশি ও খোসপাঁচরার রোগী রয়েছেন। ইদানিং খোসপাঁচরায় আক্রান্ত হয়ে প্রচুর রোগী আসছেন চিকিৎসা নিতে। অন্যান্য রোগ বছরের প্রায় সব সময় হলেও খোসপাঁচরা শীতকালে বেশি হয়। শিশু, বৃদ্ধ, মহিলাসহ সব বয়সী লোকরা এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন বেশি। বিশেষ করে যারা দলবদ্ধভাবে থাকেন থাকেন যেমন- বিভিন্ন বোর্ডিং-এর শিক্ষার্থী। তারা এই রোগে আক্রান্ত হন বেশি। খোসপাঁচরা বেশ ছোঁয়াচে এবং রোগটি নিয়ে তেমন কোনো সচেতনতা নেই এই অঞ্চলের মানুষের মাঝে। এজন্য রোগটি বেশি ছড়াচ্ছে। এ ধরণের রোগ থেকে বাঁচতে হলে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দেখানোর পাশাপাশি সার্বিকভাবে সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়েছেন ডাক্তাররা।
পাগলা ব্রাহ্মণগাঁও গ্রামের বাসিন্দা কামরুল ইসলাম। খোসপাঁচরা ও জ¦র সর্দি রোগের চিকিৎসা নিতে এসেছিলেন শান্তিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। তিনি বলেন, প্রায় দেড় মাস ধরে শরীর চুলকাচ্ছে। গত সপ্তাহ থেকে শরীর দুর্বল ও জ¦র জ¦র ভাব। দুই-তিনদিন ধরে কাশিও আছে। বাধ্য হয়েই আজ চিকিৎসা নিতে এসেছি। আমার পরিবারের আরো দু’একজন খোসপাঁচরা রোগে আক্রান্ত। স্থানীয় ফার্মেসি থেকে ঔষধ কিনে খাওয়াচ্ছি। হাসপাতালে আসার পর দেখছি আমার মতো আরো অনেক লোক এই রোগে আক্রান্ত।
শান্তিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক ডা. তারেক জামিল অপু বলেন, গত ডিসেম্বরের তথ্য অনুযায়ী ৪০ শতাংশ রোগী পাতলা পায়খানায় আক্রান্ত। প্রচুর শিশু রোগী আসেন আমাদের এখানে। শীতের প্রাদুর্ভাব বাড়ার পর থেকে বহির্বিভাগেও অনেক রোগী আসেন চর্মরোগজনিত সমস্যা নিয়ে। তাদের সামাল দিতে আমাদের রীতিমতো হিমশিম খেতে হয়। শীতকালে এসব রোগ বেশি হয়। যতদিন শীতের প্রকোপ থাকবে শিশুদের ঠান্ডা থেকে নিরাপদে রাখতে হবে। কুসুম গরম পানি দিয়ে নিয়মিত গোসল করতে হবে। শরীর যেনো শুষ্ক হয়ে না যায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে। ধুলাবালু থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন