পাওয়া যাচ্ছে না বাঁধের মাটি

প্রকাশিত: ২৩ জানুয়ারি, ২০২৫ ০৭:৪৬

হাওর থেকে নামেনি পানি 

তাহিরপুর উপজেলার বৃহৎ মাটিয়ান হাওরের অন্তর্ভুক্ত মহালিয়া, পালই, বৌন্না হাওর থেকে এখনো পানি নামেনি। পানি না নামায় এসব হাওরের জমিতে বোরো ধানের চারা রোপণ করতে পারছেন না কৃষকরা। অপরদিকে মাটি কাটার জন্য শুকনো স্থান না থাকায় ফসল রক্ষা বাঁধের মাটি নিয়ে বিড়ম্বনায় পড়েছে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি। যার কারণে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাস্তায়নে ও জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে নির্মিত ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ করতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছে ১৪টি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) সভাপতিরা। বাঁধ এলাকায় পানি না কমা ও মাটি না থাকার উদ্ভুত সমস্যা নিরসনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন জেলা ও উপজেলা কাবিটা মনিটরিং ও বাস্তবায়ন কমিটি। 
জানা যায়, তাহিরপুর উপজেলায় চলতি বছর ১৭ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যার মধ্যে মাটিয়ান হাওরে বোরো জমি রয়েছে সাত হাজার হেক্টর। এসব জমির ফসল রক্ষা বাঁধের কাজের জন্য মাটিয়ান হাওরে ৩৬টি প্রকল্প (পিআইসি) অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বাঁধের কাজের নকশা ও প্রাক্কলন খরচের সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির মিল না থাকায়  ৩৬ টি প্রকল্পের ১৪টি প্রকল্পের সভাপতি বাঁধ নির্মাণ কাজ করতে আগ্রহী নন। এ হাওরের ১৪টি প্রকল্পের সভাপতি বাঁধের কাজ করবেন না মর্মে ইতোমধ্যে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি, নির্বাহী অফিসারের নিকট লিখিত আবেদন করেছেন। তারা হলেন পিআইসি সভাপতি সিজিল মিয়া, গোলাম নূর, শাহ আলম, শামছুজ্জামান, দুলাল মিয়া প্রমুখ। 
এমন সমস্যা সমাধানের লক্ষে বুধবার দুপুরে ফসল রক্ষা বাঁধ পরিদর্শন করেন ফসলরক্ষা বাঁধ প্রকল্প বাস্তবায়ন জেলা কমিটির সদস্য সচিব ও পাউবো নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার, উপজেলা কমিটির সভাপতি ও তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ আবুল হাসেম, জেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য ও  জেলা জামায়াতের আমির মাও. তোফায়েল আহমদ, পাউবো উপ—বিভাগীয় প্রকৌশলী (এসও) মমিন মিয়া,  তাহিরপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য বাবরুল হাসান বাবলু।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, মাটিয়ান, মহালিয়া, পালই, বৌন্না হাওর প্রকল্প এলাকার বেশ কিছু জায়গায় শুধু পানি আর পানি। যেখানে চাষের জন্য ট্রাক্টর চলার কথা সেখানে নৌকা চলছে। বাঁধের একপাশে নদী অন্যপাশে হাওরে পানি। কাছাকাছি কোথাও শুকনো জায়গা নেই যেখান থেকে বাঁধের মাটি আনা যাবে। প্রাকৃতিক ভাবে নিচু এলাকা হওয়ায় নদীর পানি থেকে হাওরের পানি তলানিতে। যার কারণে নদীতেও যাচ্ছে না পানি। এরপরও ফালইর হাওর নামক জায়গায় ফসল রক্ষা বাঁধ কেটে হাওর থেকে নদীতে পানি বের করার চেষ্টা করা হয়েছে। 
মাটিয়ান হাওর পারের পিআইসি সভাপতি গোলাম নুর জানান, মাটিয়ান হাওরে তাকে যে প্রকল্প দেওয়া হয়েছে এবং প্রকল্পে পানি উন্নয়ন বোর্ড বাঁধ নির্মাণ কাজে যে পরিমাণ অর্থ ব্যয়ের হিসাব নির্ধারণ করেছেন, ব্যয় হবে তার দ্বিগুণ। যার কারণে তিনি প্রকল্পের কাজ করবেন না বলে ইউএনও বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন।
কৃষক ইমন জানান, গত ১৫ জানুয়ারি কৃষকদের জমি রোপণের স্বার্থে হাওরের পানি নিষ্কাশনের জন্য বনুয়া হাওরের নাওটানা বাঁধটি কেটে দেন ইউএনও। এরপরও পানি কমেনি এবং বোরো রোপণ করার মতো উপযুক্ত হয়নি। এদিকে বাঁধ এলাকায় মাটি নাই, যার কারণে নির্ধারিত সময়েও বাঁধ নির্মাণ করতে পারছেন না সভাপতিরা।
তাহিরপুর উপজেলা কৃষি অফিসার শরিফুল ইসলাম জানান, এ উপজেলায় হাওরে মোট ১৭ হাজার হেক্টর বোরো জমি রয়েছে। এরমধ্যে মাটিয়ান হাওরে শুধু ৭ হাজার হেক্টর জমি। হাওরে কিছু অংশ বাদে অধিকাংশ এলাকায় ইতোমধ্যে বোরো চারা রোপণ হয়ে গেছে। তবে হাওরের কিছু অংশে পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় বোরো রোপণ এবং বাঁধ নির্মাণ করা যাচ্ছে না। তবে তিনি নির্ধারিত সময়েই বাঁধের কাজ শেষ হবে বলে জানিয়েছেন।
জেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য ও জেলা জামায়াতে আমির মাওলানা তোফায়েল আহমেদ বলেন, কয়েক বছর ধরে এখানে বাঁধের জন্য মাটি কাটা হচ্ছে। কাটতে কাটতে আর অবশিষ্ট জায়গা নেই, যেখান আছে সেখানে পানি জমে আছে। এভাবে চলতে থাকলে জেলার সবগুলো জায়গায় মাটি সংকট দেখা দিবে। বাঁধগুলোর মাটি সংরক্ষণ করে রাখার জন্য স্থায়ীভাবে কিছু একটা করার পরিকল্পনা করতে হবে। 
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবুল হাসেম জানান, সরজমিন বাঁধগুলো পরিদর্শন করে দেখেছি। ১৪টি পিআইসি বাঁধ সংলগ্ন হাওরে পানি নিষ্কাশন হয়নি এবং মাটি সংকট রয়েছে। যার কারণে বাঁধের কাজ নির্ধারিত সময়ে শুরু করতে পারছেন সংশি­ষ্টরা। এমন অবস্থায় আমরা জেলা ও উপজেলা কমিটি এসে দেখে গেলাম বাস্তব অবস্থা। আলাপ আলোচনা করে পরবর্তী করণীয় ঠিক করা হবে।  তিনি আরো বলেন, চেষ্টা করা হচ্ছে ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ শেষ করার।
জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, বুধবার সরজমিন বাঁধগুলো পরিদর্শন করে দেখেছি বাঁধ এলাকায় মাটি সংকট রয়েছে। ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্রকল্পের সভাপতি ও সম্পাদকদের নির্মাণ কাজ শেষ করার জন্য চাপাচাপি করলেও মাটি সংকট এবং পানি বেশি থাকায় তারা কাজ করতে পারছেন না। এরকম জটিল পরিবেশে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করার বিষয়ে তিনি বলেন আমরা কিছু জায়গায় এরমম স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ শুরু করেছি।  আগামীতেও স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করতে হবে, অন্যথায় বাঁধ নির্মাণের জন্য এলাকায় মাটি পাওয়া যাবে না।


 

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার