প্রকাশিত: ২৪ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:২৭
সুনামগঞ্জের পাগলা—জগন্নাথপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে ঢাকাগামী দুইটি বাস, সিএনজি অটোরিকশা ও প্রাইভেট কারে হানা দেয় একদল ডাকাত। সড়কে লরি ও গাছ ফেলে যাত্রীবাহী যানবাহন আটকে অস্ত্রসহ ঢুকে পড়ে ১৫—২০ সদস্যের ডাকাত দল। গাড়ি ভাঙচুর ও যাত্রীদের মারধোর করে নগদ টাকা পয়সা, মোবাইল ও স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেয়।
বুধবার রাত ১২টার দিকে পাগলা—জগন্নাথপুর সড়কের দারাখাই সেতু এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় ডাকাতদের হাতে থাকা ধারালো অস্ত্রের আঘাতে অন্তত ১০ জন যাত্রী আহত হন। এসময় ডাকাতরা একটি প্রাইভেট কার আটকালে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গাছের উপর দিয়েই গাড়ি চালিয়ে নেন আলি হোসেন নামের এক চালক। ঘটনাস্থলের কিছু দূর রাত্রীকালীন ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্ট মাঠে গিয়ে ডাকাতের খবর দিয়ে সহযোগিতা চাইলে সাথে সাথে খেলোয়াড় ও স্থানীয়রা ছুটে আসেন ঘটনাস্থলে। তাদের দেখে পালিয়ে যায় ডাকাতরা। রাতের অন্ধকারে ধাওয়া দিয়েও ডাকাতদের ধরতে পারেননি তারা। তবে বিপদের মুখ থেকে বাঁচিয়ে দিয়েছেন দুইটি বাস সহ ৪টি যানবাহনের যাত্রীদের।
এসময় স্থানীয় এক যুবক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে লাইভ করলে আশপাশে লোকজন এগিয়ে আসে। ডাকাতির স্থলটি সুনামগঞ্জের তিনটি থানার মোহনাস্থল হিসেবে পরিচিত এবং ছাতক থানার শেষ সীমানায়। ৯৯৯ এ কল করে পুলিশকে জানালে বুধবার রাতেই ছাতক থানার পাশাপাশি জগন্নাথপুর ও শান্তিগঞ্জ থানার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।
স্থানীয় লোকজন, পুলিশ ও ভুক্তভোগী যাত্রীরা জানান, ১৫—২০ জনের ডাকাতদল সড়কে একটি লরি আড়াআড়ি করে এবং গাছ ফেলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। সড়কে গাছ দেখে চালক গাড়ি থামালে সংঘবদ্ধ ডাকাতদল গাড়িতে ঢুকে অস্ত্রের মুখে যাত্রীদের জিম্মি করে। ডাকাতদল যাত্রীদের ব্যাগ, নগদ টাকা ও মোবাইলফোন ছিনিয়ে নেয়। এসময় যাত্রীরা বাধা দিলে ডাকাতরা যাত্রীদেরও মারধর শুরু করে। ডাকাতরা এসময় বাসেও ভাঙচুর চালায়।
মামুন পরিবহনের সুপার ভাইজার মনির হোসেন বলেন, ‘পাগলা—জগন্নাথপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে দারাখাই সেতু এলাকায় লরি ও গাছ ফেলে ১৫—২০ জনের ডাকাতদল অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে যাত্রীদের নগদ টাকা মোবাইল নিয়ে যায়। বাধা দিলে মারধর করতে থাকে। আমাদের গাড়ির দরজা—জানালা ভাংচুর করেছে।’
আহত যাত্রী রাসেল আহমদ বলেন, ‘বাবাকে নিয়ে চিকিৎসার জন্য ঢাকা যাচ্ছিলাম। পথে হঠাৎ করে ভয়াবহ অভিজ্ঞতার মুখে পড়ি। ডাকাতরা আমাদের সব কিছু ছিনিয়ে নিয়ে গেছে। কয়েকজনকে মারধোর করেছে। ডাকাতিরস্থল তিনটি থানার মোহনাস্থলে হওয়ায় আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা পেতেও সমস্যা হয়েছে। পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসলে ডাকাতরা পালিয়ে গেছে।
ছাতক থানার ওসি মো. গোলাম কিরিয়া বলেন, ‘বুধবার রাতে খুব বেশি কুয়াশা পড়েছিল। রাস্তা—ঘাট দেখা যাচ্ছিল না। এই সুযোগে তিন থানার মোহনায় সড়কে লরি ও গাছ ফেলে ডাকাতরা দুটি গাড়ি আটক করে যাত্রী ও চালকদের জিম্মি করে ডাকাতি করেছে। পরে স্থানীয়রা প্রতিরোধ করলে, ডাকাতদল পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থলটি থানা থেকে অনেক দূরে, খবর পেয়ে আমরা রাতেই ঘটনাস্থলে যাই। পাশের শান্তিগঞ্জ ও জগন্নাথপুর থানার পুলিশও এসেছিল। এই ঘটনায় কোন মামলা হয়নি কারণ যারা ভুক্তভোগী সবাই ঢাকায় চলে গেছে। ডাকাতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।’
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন