প্রকাশিত: ২৪ জানুয়ারি, ২০২৫ ২২:৫৩
দিনের পর দিন এভাবে আটকে থাকে মালবোঝাই ট্রলার
তাহিরপুর উপজেলার বড়ছড়া-চারাগাঁও-বাগলী শুল্ক স্টেশন থেকে নদী পথে দেশের বিভিন্ন ইটভাটায় কয়লা ও সিমেন্ট ফ্যাক্টরিতে চুনাপাথর সরবরাহে ব্যবহৃত সহস্রাধিক ইঞ্জিনচালিত নৌকা দীর্ঘ নৌ-জটের কবলে আটকা পড়ে থাকছে দিনের পর দিন। উপজেলার মাটিয়ান হাওর সংলগ্ন হাঁসমারা বিল থেকে পাইকারতলা নদীর ৪ কিলোমিটার নৌ পথের দুই তীরজুড়ে গত ১০দিন ধরে এ অবস্থা বিরাজ করছে। নদীতে প্রতিদিন সিরিয়াল নিয়ে গড়ে ২০টি নৌকা জট থেকে বের হচ্ছে, আর বিপরীতে ৫০/৬০টি নৌকা এসে পেছনে যোগ হচ্ছে।
শুক্রবার পাটলাই নদীতে নৌ-জটের ঘটনা সরজমিন পরিদর্শনে আসেন তাহিরপুর কয়লা আমদানীকারক গ্রুপের সভাপতি খসরুল আলম, সাধারণ সম্পাদক সবুজ আলম ও সহ সভাপতি বাচ্চু মিয়া। এ সময় তাদের সাথে ছিলেন বড়ছড়া, চারাগাঁও ও বাগলীশুল্ক স্টেশনের আমদানীকারক ও ব্যবসায়ীরা।
জানা গেছে, ঢাকা, সাভার, নারায়ণগঞ্জ, ফরিদপুর, যশোর খুলনা, বরিশাল, রংপুর, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, দাউদকান্দি, ভৈরব, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, বাঘাবাড়ী, ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ সহ সারাদেশের বিভিন্ন ইট ভাটায় কয়লার মোকাম ও সিমেন্ট ফ্যাক্টরিতে চুনাপাথর সরবরাহের জন্য বড়ছড়া চারাগাঁও এবং বাগলী শুল্ক স্টেশন থেকে ছেড়ে আসা কোটি কোটি টাকার কয়লা ও চুনাপাথর বোঝাই নৌকাগুলো উপজেলার সুলেমানপুরে পাটলাই নদীতে নৌ জটে ট্রলার আটকা পড়ে থাকে চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে। এ নিয়ে প্রতিনিয়ত নৌকার মাঝি ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে রাতের বেলা এক শ্রেণির চাঁদাবাজদের সাথে কথা কাটাকাটি, ভয়ভীতি আর হুমকি ধামকি প্রদর্শন ও লাঞ্ছিত করার ঘটনাও ঘটছে।
শুক্রবার সরেজমিন দেখা যায়, উপজেলার হাঁসমারা বিলের দক্ষিণ দিক থেকে সুলেমানপুর বাজারের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া পাইকরতলা, ইকরদাইর, ফুকরার খালের দুইপাশে নোঙর করে সারিবদ্ধভাবে বসে আছে প্রায় সহস্রাধিক কয়লা ও চুনাপাথর বোঝাই ইঞ্জিনচালিত নৌকা। নৌকার মাঝি ও কয়লা/চুনাপাথর ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলাপকালে তারা জানান, মাঘ মাসের প্রথম থেকে চৈত্রের ১৫ তারিখ পর্যন্ত বিগত প্রায় দুই যুগ ধরে এই নৌ জটের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তাদের। কারণ হিসেবে তারা জানান, প্রতি বছর হেমন্তে হাওরের পানি শুকিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পলি পড়ে নদীর গভীরতা ও প্রশস্ততা কমে যায়।
উপজেলার মাটিকাটা গ্রামের কয়লা আমদানিকারক বোরহান উদ্দিন জানান, তার দুটি কয়লা বোঝাই নৌকা গত ৯/১০দিন ধরে সুলেমানপুরে আটকা ছিল। একটি নৌকা ছেড়ে গেছে, আরেকটি রয়ে গেছে। এ অবস্থায় সময়মতো ইট ভাটায় কয়লা না পৌঁছতে পারলে বকেয়া পাওনা কয়েক লাখ টাকা আটকা পড়বে। তার মতো শত শত ব্যবসায়ী এই নৌ—জটের গ্যাড়াকলে আটকা পড়ে গুণছেন লোকসান।
এ নৌ—জটে ভোগান্তির শিকার কয়লা চুনাপাথর ব্যবসায়ী ও নৌকার মাঝিরা বলেন, কয়লা আমদানি কারক গ্রুপ বিষয়টি নিয়মিত তদারকি করলে ২/৩দিনের ভেতর — নৌ জট দূর হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তাহিরপুর কয়লা আমদানী কারক গ্রুপের সভাপতি খসরুল আলম বলেন, পাটলাই ও পাইকরতলা নদীর নাব্যতা সংকটের কারণে প্রতিবছর হেমন্ত মৌসুম এলেই কয়লা চুনাপাথর পরিবহনে ব্যবসায়ীদের নানামুখী সমস্যায় পড়তে হয়।
গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক সবুজ আলম বলেন, তাহিরপুর কয়লা আমদানী কারক গ্রুপের (বড়ছড়া—চারাগাঁও—বাগলী) থেকে সরকার প্রতিবছর ৭০ থেকে ৮০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করে থাকে। তিনি ব্যবসায়ীদের সুবিধার দিক বিবেচনা করে পাটলাই ও পাইকরতলা নদীটি জরুরী ভিত্তিতে খনন করার দাবি জানান।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন