প্রকাশিত: ২৭ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:২৩
ভোট হালনাগাদে ৬ শর্ত
ভোট হালনাগাদ করতে ৬ শর্ত জুড়ে দেয়ার কারণে নানামুখী হয়রানির শিকার হচ্ছেন ভোটার ও গণনাকারীরা। নতুন ভোটার হওয়ার জন্য নির্বাচন কমিশনের বেঁধে দেয়া শর্তগুলো হলো— জন্ম নিবন্ধনের ফটোকপি, মা বাবার আইডি কার্ডের ফটোকপি, সার্টিফিকেটের ফটোকপি (ছাত্রছাত্রীদের ক্ষেত্রে) বিদ্যুৎ বিলের কপি, কাবিন নামার ফটোকপি (বিবাহিতদের জন্য প্রযোজ্য) ও নাগরিক সনদ।
ভোট গণনাকারীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সারা দেশের ন্যায় তাহিরপুর উপজেলায় ২০ জানুয়ারি থেকে ভোট হালনাগাদ করতে ভোটারদের বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন সুপারভাইজার ও গণনাকারীরা। তাদের কাবিন নামার কপি দিতে ভোটাররা হয়রানির শিকার হচ্ছেন। তাহিরপুর উপজেলায় এ বছর ৭টি ইউনিয়নে ভোট হালনাগাদ করতে ১৭ জন সুপারভাইজার এবং ৭৬ জন ভোট গণনাকারী নিয়োগ দিয়েছে তাহিরপুর উপজেলা নির্বাচন অফিস।
ভাটি তাহিরপুর গ্রামের নারী ভোটার জোহা আক্তার জানান, তার পিতার বাড়ি জামালগঞ্জ উপজেলায়। তিনি ভোটার হতে গিয়ে প্রয়োজনীয় সকল কাগজপত্র মিলাতে পারলেও তাকে কাবিননামা আনার জন্য যেতে হবে জামালগঞ্জ উপজেলাতে। এ বিষয়টিতে তিনি হয়রানিতে পড়েছেন বলে জানান।
ঠাকুরহাটি গ্রামের মান্না মিয়া জানান, তিনি ভোটার হতে গিয়ে তার নাগরিক সনদপত্র পাওয়ার জন্য তিনদিন ধরে ইউনিয়ন পরিষদে ঘুরাঘুরি করছেন। ইউনিয়ন পরিষদে সচিব না থাকার কারণে তিনি নাগরিক সনদপত্র সংগ্রহ করতে পারছেন না।
ভোট গণনাকারী তাহিরপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হোসেন আহমদ বললেন, বিগত সময়ে ভোট হালনাগাদ করতে ভোটারদের শুধু নাম, ঠিকানা অথবা অনেক ক্ষেত্রে আইডি কার্ড দেখেই ভোট তোলা হয়েছে। এ বছর ভোট হালনাগাদ করতে করতে ৬টি শর্ত আরোপ করায় ভোটররা হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাচন অফিসার মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, তাহিরপুর উপজেলায় এ বছর ৭টি ইউনিয়নে ভোট হালনাগাদ করতে ১৭ জন সুপারভাইজার এবং ৭৬ জন ভোট গণনাকারী নিয়োগ দেয়া হয়েছে। ভোট হালনাগাদ করতে ৬ শর্তের মধ্যে সার্টিফিকেটের ক্ষেত্রে যারা এসএসসি পাশ করেছে তাদের বেলায় সার্টিফিকেট প্রয়োজন হবে, যারা ফেল করেছে তাদের বেলায় প্রযোজ্য নয়।
কাবিন নামার বিষয়ে তিনি জানান, অনেক ক্ষেত্রে ভোটারের বাবা মায়ের ঠিকানা অন্য উপজেলাতে। কিন্তু ভোটার হতে চায় তাহিরপুর উপজেলাতে। সেক্ষেত্রে কাগজপত্র মিলানোর জন্য কাবিননামা চাওয়া হয়। অন্যদের বেলায় কাবিননামা প্রয়োজন হবে না বলে তিনি জানান।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন