শান্তিগঞ্জ 

আগাম নোটিশ না  দিয়ে বিদ্যুৎ বন্ধ 

প্রকাশিত: ২৭ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:২৬

শান্তিগঞ্জ উপজেলার পল্লী বিদ্যুতের ৪ নম্বর ফিডারের এলাকা দুইটি ইউনিয়নজুড়ে। ইউনিয়ন দুইটি হচ্ছে পশ্চিম পাগলা ও দরগাপাশা। পশ্চিম পাগলার পশ্চিম কান্দিগাঁও মাদ্রাসাপাড়া এলাকা থেকে দরগাপাশা ইউনিয়নের পাইকাপন পর্যন্ত এর বিস্তৃতি। এরমধ্যে পাগলা বাজার, আক্তাপাড়া মিনাবাজার, ছয়হাড়া মৌগাঁও পয়েন্ট, ভমবমি বাজার ও বাংলা বাজারের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকা রয়েছে এই ফিডারের আওতায়। আছে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, উপ—স্বাস্থ্য কেন্দ্র, হ্যাল্থ সেন্টারসহ জনগুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। পল্লী বিদ্যুতের এই ফিডারের আওতায় বিদ্যুৎ বন্ধ রাখতে হলে কোনো আগাম নোটিশ দেন না বলে জানিয়েছেন উপজেলার পল্লী বিদ্যুতের এজিএম ইয়াছিন মাহমুদ ইমরান। 
তিনি বলেছেন, গুরুত্বপূর্ণ স্থান হলে অথবা উপজেলার সব ফিডার বন্ধ থাকলে এলাকায় মাইকিং করে জানিয়ে দেই আমরা। না হলে জানানো হয় না। ৪ নম্বর ফিডারের এলাকার হাজারো মানুষের গুরুত্ব আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মেন্টেইনেন্সের’ কাজ হলে আমরা খুব একটা জানাই না।
জানা যায়, গত শনিবার ও রবিবার দুইদিন সকাল ১০ টা থেকে বিকাল পর্যন্ত বিদ্যুৎ ছিলো না ৪ নম্বর ফিডারের বিশাল এলাকায়। কোনো মাধ্যমে জানানোও হয়নি যে, এই দুই দিন সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত ৪ নম্বর ফিডারে বিদ্যুৎ থাকবে না। বিদ্যুৎ না থাকার কারণে সকাল ১০ টার পরে নানাবিধ সমস্যায় পড়তে হয় দুই ইউনিয়নের নাগরিকদের। অনেকে মোবাইল ফোন চার্জ করান নি, অনেকের পানির ট্যাংকিতে পানি তুলে  না রাখার কারণে ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। অনেক রেস্তোরাঁয় পানি না থাকায় এই দুইদিন সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত ব্যবসায় বিঘ্ন ঘটেছে। আগে জানা থাকলে প্রত্যেকেই তার অবস্থা অনুযায়ী পূর্ব প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে পারতেন বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
পল্লী বিদ্যুতের একাধিক সূত্র জানায়, অনেক সময় সড়কে গাছের ডাল ও মেন্টেইনেন্সের কাজের জন্য লাইন বন্ধ রাখতে হয়। এটা কোনো রুটিন মাফিক কাজ নয়, ইমার্জেন্সিতে করতে হয়। এই যেমন ধরুন, রোববার সদরপুর এলাকায় মাত্র পাঁচ মিনিটির কাজ ছিলো। এটা ঠিক না করলে, আরো বড় সমস্যা হয়ে যেতে পারতো। এইটা ঠিক করতে গিয়ে আরো বড় সমস্যা  হয়ে গেছে। তাই সারাদিন বাধ্য হয়েই ৪ নম্বর ফিডারে বিদ্যুত সরবরাহ বন্ধ রাখতে হয়েছে। তবে দীর্ঘ সময় লাইন বন্ধ রাখলে অন্তত ফেসবুকের মাধ্যমে একটি স্ট্যাটাস পোস্ট দিয়ে হলেও জানানো যায়। আগামীতে এদিকে খেয়াল রাখা উচিত।
ভোক্তভোগীরা বলেন, লাইনের বিভিন্ন কাজ থাকতেই পারে। আমাদের সেবা প্রদানের জন্য কাজ করা দরকার হবে এটা স্বাভাবিক। লাইন বন্ধ রাখার প্রয়োজন হলে বন্ধ রাখুক আমাদের আপত্তি নেই, কিন্তু কথা হচ্ছে আমাদের জানানো উচিত। যে কোনো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পল্লী বিদ্যুতের অফিসিয়াল পেইজে বার্তাটি দিয়ে দিলে তারাও দায় সারা হয়ে যান আর আমরাও জেনে যাই।  এইটুকু কাজ করতে সদিচ্ছা ছাড়া আর কিছুরই দরকার নাই। এবং সবাইকে সমান নজরে আনা দরকার। সকল এলাকার সব নাগরিকই গুরুত্বপূর্ণ। ‘গুরুত্বপূর্ণ’ এলাকা না হলে আমরা জানাই না— এজিএমের এই বক্তব্য দুঃখজনক। 
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দরগাপাশা ইউনিয়নের দুই রাইস মিল ব্যবসায়ী বলেন, দুই দিন বিদ্যুৎ বন্ধ থাকবে, যদি জানতাম তাহলে অন্তত ৫/৬ জন করে লেবার রাখতাম না। আমাদের ভীষণ ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া বাসার ট্যাংকিতে পানি না তোলার কারণে রান্নাবান্না ও টয়লেটের কাজে খুবই অসুবিধা হয়েছে। আমরা যদি আগে জানতাম তাহলে পূর্ব প্রস্তুতি সেরে নিতাম। গুরুত্ব ও অগুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নে তারা বলেন, এ ধরণের মন্তব্যের জন্য এজিএম সাহেরেব দুঃখ প্রকাশ করা উচিৎ। এই কথা তিনি বলতেই পারেন না। তার কাছে প্রত্যেকটি গ্রাহক গুরুত্বপূর্ণ। সুতরাং কম গুরুত্বপূর্ণ আর বেশি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা বলতে আলাদা করা তার উচিত হয় নি।
শান্তিগঞ্জ পল্লীবিদ্যুতের এজিএম ইয়াছিন মাহমুদ ইমরান বলেন, লাইন জড়াজীর্ণ থাকার কারণে ও অন্যান্য সমস্যার জন্য জরুরী ভিত্তিতে  বিদ্যুৎ বন্ধ রাখতে হয়েছে। সাধারণত ১০ টার পরে মানুষের বিদ্যুতের প্রয়োজন কম থাকে। পুরো লাইন বন্ধ থাকলে আমরা জানাই, না হলে জানাই না। এছাড়া উপজেলা সদরে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা থাকার কারণে তাদের বলা হয়, পাগলা—দরগাপাশা এলাকাসহ যেসব এলাকা কম গুরুত্বপূর্ণ সেসব এলাকায় বলা হয় না। আগামীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হলেও জানানোর চিন্তা আছে আমাদের।
শান্তিগঞ্জ উপজেলা পল্লী বিদ্যুতের এরিয়া পরিচালক ফরিদুর রহমান ফরিদ বলেন, আমার দৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ও অগুরুত্বপূর্ণ বলতে কিছু নেই, সকলেই গুরুত্বপূর্ণ। যে কোনো প্রয়োজনে দীর্ঘ সময় বিদ্যুত বন্ধ রাখলে অবশ্যই ঘোষণা দিতে হবে। আগামী সভায় আমি এসব বিষয়ে কথা বলবো।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সুনামগঞ্জ পল্লী বিদ্যুতের জিএম মিলন কুমার কুন্ডুর সরকারি ওয়েবসাইটে দেওয়া নাম্বারে একাধিকবার কল দিলেও কল রিসিভ করেন নি তিনি। 
 

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার