প্রকাশিত: ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ০৯:০১
দেশীয় পাখির অভয়ারণ্য বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ২৮ ব্যাটালিয়ন সুনামগঞ্জ সদর দপ্তর। সরকারি ভাবে পাখি অভয়াশ্রম ঘোষণা না হলেও বনায়ন এবং উপযুক্ত পরিবেশ হওয়ায় হাজার হাজার লাল বক, সাদা বক, পানকৌড়ি, শামুকভাঙা, নীল ডুপি, টিয়া, শালিক সহ নানান দেশী পাখির স্থায়ী বাসস্থান এখানে। সংরক্ষিত এলাকা হওয়ার ফলে নিরিবিলি পরিবেশে পাখিরা নিজেদের বেশি নিরাপদ ভাবে এখানে। বিজিবি সদস্যরা নিজ উদ্যোগে বছরের পর বছর ধরে দেখাশোনা করে পাখিদের আবাসস্থল সংরক্ষণ করে আসছেন। তাই বিগত কয়েকবছর ধরে পাখির সংখ্যা ছিলো চোখে পড়ার মতো। শীত মৌসুমে এই সংখ্যা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। দেশী পাখির সাথে অতিথি পাখিরাও বাসা বাঁধে বিজিবি ক্যাম্পে। কিন্তু চোরা শিকারীদের উৎপাতে আর আগের মতো পাখি নেই এখানে। তাই এবছর পাখির সংখ্যা অনেকটা কমে গেছে। পাখি কমে যাওয়ায় কমে গেছে পাখিদের কলকাকলি। পাখি সংরক্ষণে বিজিবিকে আরও কঠোর হওয়ার আহবান স্থানীয়দের।
সরেজমিনে বিজিবি ক্যাম্প সংলগ্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সারাদিন খাবারের সন্ধান শেষে গোধুলি সময় হাজার হাজার বক, পানকৌড়ি, শালিক, এসে ভীড় জমায় বিজিবি ক্যাম্পের আকাশে। মাঝে মাঝে বালিহাঁস সহ বন্যপ্রাণী আইনে সংরক্ষিত প্রাণীদেরও দেখা মিলেছে। গাছের ডালে বসার আগে ক্যাম্পের চারিদিক ঘুরে বেড়ায় একসাথে। আকাশে তখন শুধু পাখির মেলা দেখা যায়। এদিকে পাখিদের ঘরে ফেরার এই সময়ের অপেক্ষায় থাকে ২০—৩০ জনের কয়েকটি পাখি শিকারীর দল। ক্যাম্পের সীমানা দেয়ালের বাইরে থেকে বড়পাড়া, তেঘরিয়া, লম্বাহাটি সহ আশপাশের কয়েকটি এলাকার উঠতি বয়সী তরুণরা পাখি শিকার করে।অনেক সময় এই পাখি শিকারীদের ধাওয়া দেয় বিজিবি সদস্যরা।
স্থানীয়রা জানান প্রত্যেকদিন ১৫—২০ টি পাখি মারা পড়ে শিকারীর হাতে। আরও অন্তত অর্ধশতাধিক পাখি আহত হয় শিকারীর গুলির আঘাতে। এভাবেই দিন দিন বিজিবি ক্যাম্পের বাইর থেকেই নষ্ট করা হচ্ছে পাখিদের নিরাপদ আবাসস্থল।
ক্যাম্পের পাশের বাসিন্দা আকাশ বলেন, মনে হয় এটা পাখিদের এলাকা। হাজারে হাজারে পাখি উড়ে বেড়ায় এখানে। যা দেখতেও খুব সুন্দর লাগে। কিন্তু ইদানিং যুবকদের দল এসে নিয়মিত পাখি শিকার করে নিয়ে যাচ্ছে। তারা সংখ্যায় বেশি হওয়ায় ভয়ে কিছু বলাও যায় না।
তেঘরিয়া গ্রামের যুবক আবু তালহা বলেন, আমরা যখন মাঠে খেলতে আসি তখন পাখি মারার এই নির্মম দৃশ্য দেখি। প্রত্যেকদিন নির্বিচারে মারা হচ্ছে পাখি। এরা সবাই ক্যাম্পের আশপাশের এলাকার। পাখি মারার কারণে এখন আর আগের মতো পাখি নেই। শিকারী দু’একটাকে আটক করলেই অন্যরা ভয়ে আর পাখি শিকার করতো না।
নাম প্রকাশে ক্যাম্প সংলগ্ন বাড়ির এক যুবক বলেন, এখানের পাখির সংখ্যা এতো পরিমাণ ছিলো যে পাখির গায়ের ও বিষ্ঠার গন্ধ কয়েক মাইল দূর পর্যন্ত নাকে আসতো। ক্যাম্পের পাশের সড়কে মানুষ বিকেলে তাদের বাচ্চা নিয়ে এই পাখি দেখাতে নিয়ে আসতো। কিন্তু এখন ক্যাম্পের পাশে থেকেও পাখির সেই গন্ধ নেই। সব কমে যাচ্ছে। প্রত্যেকদিন ১৫—২০টা পাখি মারা হয়। অনেকেদিন নিষেধ দিয়েছি, কিন্তু কয়েকবার উল্টো আমার উপর শিকারিরা চড়াও হয়েছে। এগুলো দ্রুত নজরদারির আওতায় আনা উচিত।
বিজিবির ২৮ ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লে. কর্ণেল মাহবুবুর রহমান বলেন, আমাদের ক্যাম্প পাখিদের নিরাপদ একটি স্থান। আমরা পাখিদের প্রতি যত্নবান, এখানে পাখিরা নির্বিঘ্নে থাকে। তবে কিছু মানুষ সীমানা দেয়ালের বাইরে থেকে পাখি শিকারও করে, তাদের বিরুদ্ধে আমরা নিয়মিত অপারেশন চালাচ্ছি।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন