প্রকাশিত: ০৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ২২:১৩
শ্রেণি কার্যক্রম শুরু হওয়ার এক মাস সময় পার হয়ে গেলেও হাওর অধ্যুষিত সুনামগঞ্জ জেলার শান্তিগঞ্জ উপজেলায় এখনো মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে পাঠ্যবই হাতে পান নি কোমলমতি শিক্ষার্থীরা।
দু’একটি শ্রেণিতে কিছু বই পেলেও বেশিরভাগ শ্রেণির শিক্ষার্থীর হাতে এখনো পৌঁছায় নি পাঠ্যবই। এ পর্যন্ত ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা ৩টি করে বই পেলেও অষ্টম শ্রেণির কোনো শিক্ষার্থী একটি বইও হাতে পান নি। একই অবস্থা উপজেলার মাদ্রাগুলোতেও। এদিকে, প্রাথমিকে প্রথম থেকে চতুর্থ শ্রেণির সব বই উপজেলার কর্মকর্তারা বুঝে পাওয়ার পর শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দিলেও প্রাক্-প্রাথমিকের ‘আমার বই’ নামের বইটি এখনো বুঝে পান নি তারা। পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা বাংলা, ইংরেজি ও গণিত বই পেয়েছেন বছরের শুরুতেই। চলতি মাসের ১২ তারিখ বাকি বইগুলো শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়ার কথা রয়েছে। এই অবস্থায় উপজেলার প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধারাবাহিক শ্রেণি কার্যক্রম শুরু করতে হিমশিম খাচ্ছেন শিক্ষকরা। বই না পাওয়ায় নিরুৎসাহিত হয়ে অনেক শিক্ষার্থীই আসছেন না শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। শিক্ষার্থী উপস্থিতি তুলনামূলক কম থাকায় চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান। শিক্ষক ও অভিভাবকরা বলছেন, যথাসময়ে বই হাতে না পাওয়ায় সিলেবাস ‘কমপ্লিট’ করার চাপে পড়বেন শিক্ষার্থীরা। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সকল পাঠ্যবই শিক্ষার্থীর হাতে তুলে দেওয়ার দাবি করেন সচেতন অভিভাবকবৃন্দ।
শান্তিগঞ্জ উপজেলার মাধ্যমিক বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, এই উপজেলায় ২৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রায় ১৩ হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন। প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে একটি মাদ্রাসাসহ কলেজিয়েট হাইস্কুল ৪টি, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ১৬টি, মাদ্রাসা ৬টি ও প্রাথমিক বিদ্যালয় (অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত) ২টি। ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণিতে বাংলা, ইংরেজি ও গণিত বই হাতে পেয়েছেন শিক্ষার্থীরা। অষ্টম শ্রেণিতে একটি বইও পাননি কোনো শিক্ষার্থী। নবম শ্রেণিতে দু’একটি বই এখনো বাকী থাকলেও দশম শ্রেণিতে মোটামুটি সব পেয়েছেন শিক্ষার্থীরা। প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্র জানায়, সরকারি, বেসরকারি, বেসরকারি সংস্থা কর্তৃক পরিচালিত ও কিন্ডারগার্টেন স্কুলসহ মোট ২শ’ ২৩টি প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে এই উপজেলায়। এসব স্কুলে প্রায় ২৪ হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন। এর মধ্যে সরকারি ৯৭টি, বেসরকারি ১১টি, বেসরকারি সংস্থা কর্তৃক পরিচালিত ১শ’ ৫টি ও কিন্ডারগার্টেন ১০টি। সব স্কুলে ইতোমধ্যে প্রথম থেকে চতুর্থ শ্রেণির সম্পূর্ণ বই শিক্ষার্থীদের দেওয়া হয়েছে। বাকি রয়েছে পঞ্চম শ্রেণির সমাজ, বিজ্ঞান ও ধর্ম এবং প্রাক্-প্রাথমিকের আমার বই।
মো. নিজাম উদ্দিন নামের একজন শিক্ষক ও অভিভাবক বলেন, যথাসময় পাঠ্যবই হাতে না পাওয়াটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। আমার ঘরে ৭ম ও ৮ম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত দু’জন শিক্ষার্থী আছেন। নতুন বই পাওয়ার যে আগ্রহ, বই হাতে পাওয়ার পর শিক্ষার্থীদের মাঝে যে প্রেরণা কাজ করে বা তাদের মাঝে যে জাগরণ তৈরি হয় তা কিন্তু ইতোমধ্যে চলে গেছে। বিশেষ করে অষ্টম শ্রেণির ছেলেমেয়েরা বই পাওয়ার আনন্দ থেকে বঞ্চিত হয়ে গেলো। আমরা জানি যে, গত সরকার যে ‘অযৌক্তিক’ একটি কারিকুলাম শিক্ষার্থীদের উপর চাপিয়ে দিয়েছিলো সেকারণে আগের বই বাতিল করে নতুন বই ছাপানোর কাজে হাত দিতে হয়েছে। তাই এই সমস্যায় পড়তে হয়েছে। আমাদের আশা ছিলো সরকার শিক্ষার ব্যাপারে আরো দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য প্রায় দেড় মাস হয়ে গেলেও শিক্ষার্থীরা এখনো বই হাতে পায় নি। তারা অমনোযোগী হয়ে পড়েছে। আমরা এ ব্যাপারে খুবই চিন্তিত, উদ্বিগ্ন
উপজেলার পাথারিয়া ইউনিয়নের সুরমা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ আমিনুল ইসলাম বলেন, যথাসময় বই হাতে না পাওয়ায় শিক্ষার্থীদের পাঠদান চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। উপজেলায় যে বই আসছে সে বই-ই তারা আমাদের দিচ্ছে। উপজেলায় তো কোনো সমস্যা নেই, সমস্যা হচ্ছে বই আসছে না। ১৫/২০দিন পরে রমজান মাসের বন্ধ। বন্ধ শেষ হলেই অর্ধ বার্ষিক পরীক্ষা। এই সময়ের মধ্যে পরীক্ষার সিলেবাস শেষ করা কোনোভাবেই সম্ভব না। শিক্ষার্থীরা চরম চাপে পড়বেন। আমরা সরকারের কাছে বিনীতভাবে অনুরোধ করছি, যত দ্রুত সম্ভব শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দেওয়া এখন খুবই জরুরী।
সুনামগঞ্জ জেলার মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এগুলো তো হচ্ছে মন্ত্রণালয়ের কাজ। উচ্চ পর্যায়ে কথাবার্তা হচ্ছে। ফ্রেরুয়ারি মাসের ২১ তারিখের মধ্যে সব বই দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সচিব মহোদয় নিজে এই বিষয়টি মনিটরিং করছেন। সম্ভব হলে ১৫ তারিখের মধ্যেই দিয়ে দিবো। যত দ্রুত সম্ভব বই দেওয়ার ব্যপারে ভাবছেন কর্তৃপক্ষ।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন