প্রকাশিত: ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০৮:৪৬
তাহিরপুরের হাওরপারের গ্রামগুলো বর্ষায় বিশাল জলরাশির ঢেউয়ের আঘাত থেকে বাঁচিয়ে রাখতে জলজ বৃক্ষ হিজল-করচ গাছ রোপণ ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে জনমনে। উপজেলার টাঙ্গুয়া পারের গ্রামসহ প্রায় শতাধিক গ্রামের চারপাশে প্রতিরক্ষা বাঁধ হিসাবে হিজল করচ গাছ লাগানোর ফলে বর্ষায় গ্রামগুলো অনেকটাই ঢেউয়ের আঘাতে ভাঙনের কবল থেকে নিরাপদে রেখেছে। সেজন্য হাওর জনপদের মানুষজনদের ঢেউয়ের কবল থেকে নিরাপদে রাখার লক্ষ্যে সিলেট বন বিভাগের উদ্যোগে তাহিরপুর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে বুধবার দিনব্যাপী টাঙ্গুয়ার হাওর ওয়াচ টাওয়ার সংলগ্ন এলাকায় ৬৫ একর জমিতে ৪০ হাজার হিজল, করচ বৃক্ষ রোপণ ও পরিস্কার পরিচ্ছন্ন অভিযানে অংশগ্রহণ করেছে শিক্ষার্থীরা।
বৃক্ষরোপণ কাজে অংশ নিয়েছে তাহিরপুর সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়, তাহিরপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ, মোয়াজ্জেমপুর উচ্চ বিদ্যালয়, বাদাঘাট পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয় ও জয়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী। শিক্ষার্থীরা উৎসবমুখর পরিবেশে ৪০ হাজার হিজল, করচ জাতীয় গাছ রোপণ করে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া, সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির, তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আবুল হাসেম ও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকগণ।
জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কাজ করা উন্নয়ন সংস্থা সেন্টার ফর ন্যাচারাল রিসোর্স সার্ভিস (সিএনআরএস) এর সুনামগঞ্জ জেলা সমন্বয়কারী ইয়াহিয়া সাজ্জাদ বলেন, জলজ বৃক্ষ হিজল করচ রোপণের জন্য হাওরপারের গ্রামের লোকজনকে সিএনআরএস সব সময় উৎসাহিত করে আসছে। বর্ষায় পানি ও ঢেউয়ের আঘাতে হিজল করচ গাছকে কোন ক্ষতি করতে পারে না বা গাছগুলো বৃদ্ধিতে কোন প্রকার জৈব অথবা রাসায়নিক সার ব্যবহার করতে হয় না, ফলে হাওরাঞ্চলে এ সকল গাছ রোপণ করতে হাওরপারের লোকজন ব্যাপক উৎসাহী।
13_2_25(1).jpg)
পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি কাসমির রেজা বলেন, বনায়ন প্রকল্পটি বাস্তবে রূপ নিলে জলজ বনায়নের মাধ্যমে টাঙ্গুয়া হাওরের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও নির্ভরশীল জনগোষ্ঠির আর্থসামাজিক উন্নয়ন করা সহ সমাজ ভিত্তিক বনায়ন সৃষ্টির মাধ্যমে জলজ প্রতিবেশের উন্নয়ন করা, সহ-ব্যবস্থাপনা কৌশলকে শক্তিশালী করা, উপকারভোগীদের অর্থনৈতিক সুবিধা বৃদ্ধি করা, দুর্যোগ প্রশমন ও জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব হ্রাস এবং নতুন এলাকায় জলজ বনায়নে উৎসাহ বৃদ্ধি হবে। বনায়ন প্রকল্পটি পরিপূর্ণ বাস্তবায়িত হলে পাখির আবাসস্থল সৃষ্টি হবে, জলজ জীববৈচিত্র্যের সমৃদ্ধি বাড়বে, সুফলভোগীদের প্রতি বছর বাড়তি আয়ের সুযোগ সৃষ্টি হবে, বসতভিটা ক্ষয়ের মাত্রা হ্রাস হবে এবং এই বনায়ন দেখে পার্শ্ববর্তী নতুন এলাকায় জলজ বনায়ন রোপণে উৎসাহ সৃষ্টি করবে।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আবুল হাসেম বলেন, টাঙ্গুয়ার হাওরে পর্যটকরা এসে যত্রতত্রভাবে প্লাস্টিক বর্জ্য ফেলে রেখে যায়। টাঙ্গুয়ার হাওরে একটি সচেতনতামূলক কার্যক্রম হিসাবে প্লাষ্টিক বর্জ্য পরিস্কার পরিচ্ছন্ন ও বৃক্ষ রোপণ কার্যক্রম উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে শিক্ষার্থীদের নিয়ে শুরু করেছি।
সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির বলেন, টাঙ্গুয়ার হাওরের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বনায়ন কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়েছে। চলতি বছর টাঙ্গুয়ার হাওরে ৪০ হাজার জলজবৃক্ষ হিজল ও করচ গাছ রোপণ করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া বলেন, শিক্ষার্থীরা যেন গাছগুলোকে দেখে রাখে এজন্যই শিক্ষার্থীদের বৃক্ষ রোপণ কাজে সংযুক্ত করা হয়েছে। প্রয়োজনে প্রতি গাছে শিক্ষার্থীদের নেমট্যাগ লাগিয়ে দেয়া হবে, ওরা যেন বলতে পারে এ গাছটি আমি লাগিয়েছি।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন