নুর মোহাম্মদের সান্ধ্য বাণিজ্য

প্রকাশিত: ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ০৮:০৫

দৈনিক ৬ হাজার  টাকার চানা পেঁয়াজু বিক্রি

সুনামগঞ্জ পৌর শহরের ওয়েজখালী বাজারে প্রতিদিন ৬—৭ হাজার টাকা চানা, পেঁয়াজু ও ঝালমুড়ি বিক্রি করেন নুর মোহাম্মদ। তার তৈরিকৃত চানা পেঁয়াজু ও ঝালমুড়ির সুনাম রয়েছে এলাকায়। বিকাল হলেই অসংখ্য ক্রেতা ভিড় করেন তার দোকানে। দোকানে কোন কর্মচারী নেই। দুই ছেলেকে সাথে নিয়ে নুর মোহাম্মদ বিরতিহীনভাবে এসব তৈরি ও বিক্রি করেন। শুধু এলাকার মানুষজনই নয়, দূরদূরান্ত থেকে অনেকে এসে পেঁয়াজু কিনেন। অনেকে বাসায়ও নিয়ে যান। 
শহরের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কালীপুর গ্রামের বাসিন্দা নুর মোহাম্মদ। চানা পেঁয়াজু এবং ঝালমুড়ি ব্যবসা থেকে তিনি সফলতা লাভ করেছেন। এই ব্যবসা দিয়েই তিনি স্ত্রী ও চার সন্তানের সংসার চালাচ্ছেন। 
নুর মোহাম্মদ জানান, প্রতিদিন গড়ে ছয় থেকে সাত হাজার টাকার চানা পিঁয়াজু  এবং ঝালমুড়ি বিক্রি হয়। দোকানে সুন্দর ও পরিপাটি করে চানা পেঁয়াজু সাজিয়ে রাখা হয়। বিকেলে অসংখ্য ক্রেতা আসেন পছন্দের পেঁয়াজু কেনার জন্য। দোকানে বসে খাওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে। বেশির ভাগ ক্রেতা নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত এবং দিনমজুর। প্রতিদিন বিকাল ৩ টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা থাকে দোকান। তবে রমজান মাসে বিক্রি বেশি হয় বলে জানান তিনি। 
নুর মোহাম্মদ আরও জানান, ওয়েজখালী এলাকায় সড়কের পাশে পেঁয়াজু বিক্রির করেই সংসার চালান তিনি। প্রায় দুই যুগ ধরে ব্যবসা করছেন। এরই মধ্যে তার তৈরি পেঁয়াজুর স্বাদের কথা এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে আশপাশের এলাকায়। 
ঠেলা গাড়ি চালক কালিপুরের বাসিন্দা রিয়াজ উদ্দিন বলেন, নুর মোহাম্মদের পেঁয়াজুর স্বাদ ভালো, সবাই জানে। আমার কাছেও ভালো লাগে, তাই তার দোকানে আসি, চানা পিঁয়াজু এবং ঝালমুড়ি খাই। 
গনিপুর এলাকার রনু মিয়া বললেন, সারা বছরই নুর মোহাম্মদের দোকানে পেঁয়াজুসহ নানা ধরনের ভাজা—পোড়া খাবার তৈরি করা হয়। আমরা এসে খাই।
কার চালক মানিক মিয়া বলেন, আমি নুর মোহাম্মদের চানা পেঁয়াজু এবং ঝালমুড়ি খুবই সুস্বাদু। তাছাড়া পরিস্কার পরিচ্ছন্নভাবে খাবার তৈরি ও পরিবেশন করেন তিনি। 
নুর মোহাম্মদ বলেন, আমি দীর্ঘ বিশ বছর ধরে এই ব্যবসাটা নিয়মিত করে আসছি। আমার চার সন্তান সহ সাত সদস্যের পরিবার। দুই ছেলে ও এক মেয়েকে বিবাহ দিয়েছি। এক মেয়ে ১০ম শ্রেণিতে পড়ে। একমাত্র চানা পেঁয়াজু এবং ঝালমুড়ি বিক্রিই আমার ভরসা। ছেলে মেয়েদের বিবাহ কাজে কিস্তিতে ঋণ নিয়েছি। সপ্তাহে চার হাজার টাকা কিস্তি দিতে হয়। দিনে ছয় হাজার টাকা বিক্রি হলে হাজার দেড়েক টাকা লাভ হয়। তা দিয়ে চলে না। সুদের কিস্তি না থাকলে চলতে পারতাম, সমস্যা হতো না। এরপর আছে ঘর ভাড়া। তাছাড়া আগের তুলনায় ব্যবসা কম। কারণ হচ্ছে প্রতিটা আইটেমের দাম বেড়েছে, এতে লাভ কমেছে।
তিনি আরও বলেন, কিস্তির কারণে মাথা উঁচু করে দাঁড়াইতে পারি না। আমি এই ব্যবসার জন্য সরকারিভাবে ব্যাংক ঋণ চাই। মাসিক কিস্তিতে ব্যাংক ঋণের সহায়তা পেলে ব্যবসায় আরও উন্নতি করতে পারতাম। 


 

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার