প্রকাশিত: ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ২২:৩১
শীতের মৌসুমজুড়েই ডিম, পোল্টি্র মুরগি, সবজির দাম কিছুটা স্থিতিশীল থাকলেও এখন ধাপে ধাপে বাড়তে শুরু করেছে। রমজান মাস সামনে এরই মধ্যে সুনামগঞ্জ পৌর শহরের খুচরা বাজারগুলোতে ব্রয়লার মুরগি কিনতে কেজিতে গুণতে হচ্ছে ২২০ টাকা। অথচ সপ্তাহ আগেও এটি পাওয়া যেত ১৯০—২০০ টাকায়। এদিকে বেড়েছে লেবুর দামও। শহরে জনসাধারণের সবচেয়ে নির্ভরশীল মার্কেটগুলোতে প্রতি হালি লেবু প্রকারভেদে ৫০/৮০/১০০ টাকা দরে বিক্রয় হচ্ছে।
বুধবার শহরের একাধিক বাজার ঘুরে দেখা যায়, ব্রয়লার মুরগি কেজি প্রতি ২২০ টাকায় বিক্রয় হচ্ছে। এছাড়া লেয়ার মুরগি ৭০০—৭৫০ টাকা প্রতি পিস, দেশি মুরগি ৬৫০ টাকা, সোনালী ৩০০— ৩৫০ কেজি দরে বিক্রয় করতে দেখা যায়।
ব্রয়লার মুরগি ও ডিমের দাম বাড়ায় বেশ অস্বস্তিতে পড়েছেন নিম্ন আয়ের ক্রেতারা। তারা বলছেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই বাজারে নিম্নআয়ের মানুষের প্রাণিজ আমিষের উৎস ব্রয়লার মুরগির দামও হাতের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। রোজায় ব্রয়লার মুরগির দাম আরও বাড়লে জীবন ধারণ করা এক প্রকার দুরূহ হয়ে যাবে। গরিবের একমাত্র ভরসা হচ্ছে পোল্টি্র মুরগি, পাঙ্গাশ মাছ এবং তেলাপিয়া মাছ। তাই শবেবরাত, রোজাকে কেন্দ্র করে ব্রয়লার মুরগিসহ মাছের বাজার যেন অস্থিতিশীল হয়ে না ওঠে, সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানান ক্রেতারা।
বাজার করতে আসা ইয়াকুব আলী বললন, বাজারে নিত্যপণ্য ও সবজির দাম সহনীয় পর্যায়ে আছে। পোল্টি্র মুরগি এবং গরুর মাংসের দাম বাড়ায় সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। গরুর মাংসের দোকানে ওজনে কম দেওয়ার একটা অভ্যাস রয়েছে। ক্রেতারা প্রতিনিয়তই ঠকছেন। এ বিষয়ে কঠোর নজরদারি দরকার। এছাড়া রমজানে সিন্ডিকেট করে পণ্যের দাম বাড়ানোর একটা চর্চা আছে, সেজন্য বাজার মনিটরিং করা দরকার।
শহরের আরেক ক্রেতা মাহদি হাসান বলেন, বর্তমানে বাজার নিয়ন্ত্রণে আছে। কিন্তু সয়াবিন তেল এবং পোল্টি্র মুরগির দামটা কমাতে হবে। রমজানে দাম বাড়িয়ে বিক্রির অভ্যাস সেই পুরনো দিনের রীতি আছে ব্যবসায়ীদের, এসব কন্ট্রোল করতে হবে।
পাইকারি বিক্রেতা প্রসেনজিৎ দে জানান, বাজারে আলু, পেঁয়াজ, রসুন সহ নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে আছে। আমরা খুচরা বিক্রেতাদেরকে কম লাভে বিক্রির পরামর্শ দিচ্ছি।
সবজি বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জহির মিয়া বলেন, বাজারে লেবুর দামটা বেড়েছে। ডিম প্রতি হালি ৪২ টাকা করে পাইকারি বিক্রি করছি। খুচরা বিক্রেতারা ৪৫/৪৮/৫০ টাকা দরে বিক্রি করছেন। তবে রমজানের প্রথম সপ্তাহে দাম কিছুটা বাড়লেও দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে দাম কমবে, বিগত দিনে এমনটা হয়েছে। লেবুর দামটা কেন বেড়েছে, জানতে চাইলে তিনি বলেন, লেবুর আমদানি কম। চাহিদার তুলনায় আমরা লেবু কম পাচ্ছি, দামটাও বেশি।
পোল্টি্র মুরগির ব্যবসায়ী আলেক মিয়া বলেন, গত কয়দিন ধরে মুরগির দাম বেড়েছে। আমরা পাইকারি কিনে আনি। দাম বাড়লে আমাদের সমস্যা। খামারিরা দাম বাড়ায়। আমরা স্বল্প লাভ করে বিক্রি করছি।
জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. রফিকুল ইসলাম বলেন, দফায় দফায় পোল্টি্রর দাম বাড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। কেন এমনটা হচ্ছে, আমরা খোঁজ নিয়ে দেখব।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) দেবানন্দ সিনহা বলেন, আমি যেহেতু অতিরিক্ত দায়িত্বে আছি। সপ্তাহে দুই দিন সুনামগঞ্জের বাজারগুলো মনিটরিং করব।
পোল্টি্র মুরগীর দাম বাড়ার বিষয়ে তিনি বলেন, বিক্রেতারা ক্রয়মূল্য থেকে নির্ধারিত লাভে বিক্রি করছে কি না, ভাউচার সহ মূল্য তালিকা সেঁটে রাখছে কি না, আমি সেটা দেখব। যদি এর ব্যত্যয় ঘটে, অতিরিক্ত লাভে বিক্রি করতে চেষ্টা করে, তাহলে ব্যবস্থা নেব।
জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া বললেন, বাজার মনিটরিং করার জন্য এডিএম সাহেবকে বলা হয়েছে, তিনি বিষয়টি দেখবেন।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন