প্রকাশিত: ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ০৮:০৬
সংগৃহীত ছবি
নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্যের কারণে মানুষ হাঁসফাঁস করছে। এজন্য বাজার নিয়ন্ত্রণে ৫টি কৃষিপণ্যের দাম বেঁধে দিয়েছে সরকার। তবে বাজার চলছে বাজারের নিয়মে। সরকারের বেঁধে দেওয়া দামে বাজারে মিলছে না ডিম, আলু ও তেল। ব্যবসায়ীরা পণ্য তিনটি বিক্রি করছেন আগের দামে।
গত ১৪ সেপ্টেম্বর বেঁধে দেওয়া দাম অনুযায়ী, প্রতিটি ফার্মের ডিম ১২ টাকা, আলু খুচরা পর্যায়ে ৩৫—৩৬ টাকা (হিমাগার পর্যায়ে ২৬—২৭) এবং দেশি পেঁয়াজ ৬৪—৬৫ টাকায় কেজি বিক্রি করতে হবে।
সরকারি সিদ্ধান্ত বাজারে কার্যকর না হওয়ায় কষ্টে ক্ষুব্ধ নিম্ন আয়ের মানুষ। সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে। রবিবার বিকেলে সুনামগঞ্জ পৌর শহরের খুচরা বিক্রেতাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, আলু বিক্রি হচ্ছে— ৪৫—৫০ টাকা কেজি, পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৬০—৬৫ টাকা এবং ডিম বিক্রি হচ্ছে প্রতি পিস ১৩—১৪ টাকা করে। এছাড়াও চিনি ১২০ টাকা কেজি, সয়াবিন (বোতলজাত) প্রতি লিটার ১৭৭ টাকা, প্যাকেটজাত প্রতি লিটার পামওয়েল ১২৫—১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
অটোরিকশা চালক নুরুজ্জামান বলেন, দুই—তিন দিন আগে খবরে শুনলাম আলুর দাম ৩৫ টাকা। অথচ আজকে বাজার থেকে ৪৫ টাকায় এক কেজি আলু কিনেছি। আধা কেজি পেঁয়াজ কিনছি ৩৫ টাকায়। এসব খবর শুনে বিশ্বাস করা যায় না। বাজারে গেলে দোকানদারদের এসব খবরের কথা শুনাইলে আরও রাগ করে। আমরা সাধারণ মানুষের দুঃখ কষ্ট দেখার কেউ নাই।
ওয়েজখালির মনির মিয়া বলেন, সরকার পণ্যের যে দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে সেই দামে বিক্রি সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে দোকানদাররা। জগন্নাথবাড়ী রোডের পাইকারি বিক্রেতারা জানান, প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৫৪—৫৮ টাকা, আলু প্রতি কেজি ৪০ টাকা এবং প্রতি পিস ডিম ১২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এ বিষয়ে পাইকারি বিক্রেতা মোশাররফ আল মাহদি বলেন, আমরা এখন লোকসানে পণ্য বিক্রি করছি। পেঁয়াজ প্রতি কেজিতে তিন টাকা করে লোকসান দিচ্ছি। আলুতেও লোকসান হচ্ছে। কারণ, আমরা এসব পণ্য বেশি দামে কিনে এনেছি। সরকার যে দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে সেই দামে আমরা কিনতেও পারি না। ক্রেতারা এসে আমাদের বলেন, কিন্তু আমরা কী করব? কমে কিনতে পারলে, আমরা কমদামে বিক্রি করতে পারতাম।
জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আল আমিন বলেন, বাজারে আলু বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে। এটা আজ (রবিবার) আমরা জেনেছি। অতি মুনাফা লোভী সিন্ডিকেট সারাদেশে এই কাজ করছে। তিনি বলেন, আমরা নিয়মিতই বাজার মনিটরিং করছি। নির্ধারিত মূল্যে অবশ্যই পণ্য বিক্রি করতে হবে, না হলে আমরা আইনি পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবো।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন