ফসল নিয়ে চিন্তায় কৃষক

প্রকাশিত: ০১ মার্চ, ২০২৫ ২২:২৫

জেলার শস্যভাণ্ডার খ্যাত দেখার হাওরের ফসল রক্ষার জন্য মহাসিং নদীর দুই পাড়ে ডাইক—এক ও ডাইক—দুই নাম দিয়ে আট প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি দিয়েছে শান্তিগঞ্জ উপজেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড ও উপজেলা প্রশাসন। উথারিয়া ক্লোজারসহ গুরুত্বপূর্ণ এসব বাঁধে প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছিল দেড় কোটিরও বেশি টাকা। নির্দেশনা অনুযায়ী ২৮ ফেব্রুয়ারি’র মধ্যে সবগুলো প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এই হাওরের কোনো প্রকল্পের কাজ এখনও পর্যন্ত শতভাগ শেষ হয় নি। কোনো কোনোটিতে সামান্য ঘাস লাগিয়ে দায় সেরেছেন কমিটির কৃষকরা। বেশিরভাগ প্রকল্পে এখনো শুরুই হয় নি ঘাস লাগানোর কাজ। দু’টি প্রকল্পের কাজ হয়েছে নিম্নমানের। এরমধ্যে ৫১ নম্বর প্রকল্পের বেশির ভাগ জায়গায় মাটির বদলে বালু মাটিই বেশি ব্যবহার করা হয়েছে। ৪৯ নম্বর প্রকল্পের কাজ এখনো চলমান। এই প্রকল্পে শ্রমিকরা এখনো মাটির কাজই করে যাচ্ছেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ঘাস লাগিয়ে সম্পূর্ণ কাজ শেষ করার কথা থাকলেও ধারণা করা হচ্ছে, বাঁধের ৫০ শতাংশ কাজও এখনো শেষ হয় নি। এই প্রকল্পের বাস্তবায়ন কমিটির লোকজন বলছেন কাজ দেরিতে পেয়েছেন বলেই শেষ হতে দেরি হচ্ছে। এই দৃশ্য শুধু দেখার হাওরেই নয়, উপজেলার ৬৫ টি প্রকল্পেরই একই অবস্থা। খোদ পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাই বলছেন ৮৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। যদিও মাঠ পর্যায়ে এর বাস্তবতা নিয়ে অনেক প্রশ্ন থেকেই যায়। 
কৃষকরা বলছেন, বাঁধের কাজ নিয়ে তাঁরা চিন্তায় আছেন এবং এসব বাঁধের অসমাপ্ত কাজ যেনো দ্রুত শেষ করা হয় সেই তাগিদ দেন তাঁরা।
শনিবার দুপুরে দেখার হাওরের আটটি প্রকল্প ঘুরে দেখা যায়, ছয়টি প্রকল্পে কোনো শ্রমিক বা প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির লোকজন নেই। দু’টির একটিতে এখনো মাটির কাজ করছেন আটজন শ্রমিক এবং অপরটিতে লাগানো ঘাসের উপর পানি দিচ্ছেন একজন। তিনটি প্রকল্পের সামান্য অংশে ঘাস লাগিয়ে দায় সেরেছেন পিআইসি’র সদস্যরা। বাকীগুলো বিরানভূমির মতো। ধুুলো উড়ছে, দেখার কেউ নেই। অপরদিকে, একাধিক বাঁধে স্লোভ এখনো ঠিক করা হয়নি। ৫১ নম্বর প্রকল্পের স্লোভে সামান্য ধাক্কায় ধ্বসে পড়ছে ব্যবহার করা বালু মাটি। কোনো কোনো বাঁধে তুলনামূলক কম মাটিও ব্যবহার করা হয়েছে। 
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আস্তমা ও আসামপুর গ্রামের দুই কৃষক বললেন, প্রকল্প নিয়ে এই বছর কমিটির লোকজন তামাশা করছেন। এখনো কাজ শেষ হয় নি। ঘাসও লাগায়নি কেউ কেউ। বালু মাটির ব্যবহার দেখলে মনে হয় বাঁধটি যেনো বালু দিয়ে বাঁধা। আগাম বন্যা আসেনি বলে আল্লাহ জান বাঁচিয়ে রেখেছেন। আমরা জোর দাবি জানাচ্ছি, যত দ্রুত সম্ভব হাওরের অরক্ষিত বাঁধগুলোকে সুরক্ষিত করতে হবে। এ অবস্থায় আমরা আমাদের ফসল নিয়ে খুবই শঙ্কার মধ্যে আছি!
৫১ নম্বর প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম বলেন, আগামীকালের মধ্যে শ্রমিকরা ঘাস লাগানো শেষ করবেন। বালুর বাঁধের ব্যপারে প্রশ্ন করা হলে তিনি বললেন, আমরা এখনো কাজ করছি। এগুলো সরিয়েছি। আরো থাকলে আমরা দ্রুত সরিয়ে নেবো। ৪৯ নম্বর প্রকল্পের সভাপতি শফিকুন নূর বলেন, আমরা দেরিতে কাজ পেয়েছি তাই কাজ শেষ হতে দেরি হচ্ছে। আশা করছি এই সপ্তাহের মধ্যে কাজ শেষ হয়ে যাবে।
শান্তিগঞ্জ উপজেলায় দায়িত্বপ্রাপ্ত পানি উন্নয়ন বোডের উপ—সহকারী প্রকৌশলী মোমিন মিয়া বললেন, উপজেলায় হাওর রক্ষা বাঁধের কাজ প্রায় ৮৫ শতাংশ শেষ হয়েছে। কোথাও কোথাও ঘাস লাগানো বাকী। দেখার হাওরের কিছু কাজ দু’একদিনের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে। বালু মাটি অনেকটা সরিয়ে নিতে বাধ্য করেছি। আরো থাকলে তাও সরাতে বলবো।
শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বললেন, ঘাস লাগানোর কাজ শুরু হয়েছে। যে কাজগুলো বাকী আছে সেগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য তাগিদ দিচ্ছি। 

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার