প্রকাশিত: ০৬ মার্চ, ২০২৫ ২২:২৬
মাটিয়ান ও বনুয়া হাওর
পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক মাটিয়ান হাওরে ফ্লাড ফিউজ প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন হলে মাটিয়ান ও বনুয়া হাওরে আর জলাবদ্ধতা থাকবে না। দুই কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে কাজে দুটি প্রকল্পে মাটি ভরাট ও বøক নির্মাণে ৩৬ কোটি টাকা ব্যয় হবে। এই প্রকল্পের কাজ পায় সিলেটের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান জামিল ইকবাল। ২০২৪ সালের মে মাসে এই কাজের কার্যাদেশ দেওয়া হয়। সে সময়ে হাওরে প্রচুর পানি থাকায় কাজ শুরু করতে হয়েছে ডিসেম্ভর মাসে। চলতি বছরের ফেব্রæয়ারি মাসের মাঝামাঝি সময়ে মাটির কাজ শেষ হয়েছে।
এছাড়াও প্রকল্পগুলো হলো সিসি বøক আরমোরিং ও মাটির কাজ। ইতোমধ্যেই মাটির কাজ শতভাগ সম্পন্ন হয়েছে। প্রকল্প কাজে বøক নির্মাণ কাজের ৪০ ভাগ সম্পন্ন হয়েছে। ৬৫ কেজি থেকে ৫২০ কেজি ওজনের বিভিন্ন সাইজের প্রতিটি বøক তৈরি করা হয়েছে। ৬ মিটার উঁচু ও ৭ মিটার প্রস্থ ২ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যে তৈরি করা হবে ফ্লাড ফিউজ।
মাটিয়ান হাওরপাড়ের কৃষক মতিউর রহমান বলেন, মাটিয়ান হাওরে আরমোরিং প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে হাওরপাড়ের কৃষকরা তাদের ফসল নিয়ে আর ঝুঁকিতে থাকতে হবে না। বিশেষ করে একই স্থানে প্রতি বছর মাটি ফেলতে হবে না।
পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি কাসমির রেজা বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের আরমোরিং প্রকল্পটি খুবই ভালো একটি উদ্যোগ। প্রতিটি হাওরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানটি আরমোরিং প্রকল্পের মাধ্যমে কাজ করলে হাওরগুলো নিরাপদে থাকবে। তাছাড়া প্রতি বছর হাওরের কান্দা কেটে বাঁধে মাটি ফেলানোর কারণে কান্দাগুলো ছোট হয়ে যাচ্ছে। যার ফলে হাওরে অনেক গো-চারণভূমি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
শনির হাওরপাড়ের কৃষক মিয়া হোসেন বলেন, শনির হাওরের গুরুত্বপূর্ণ বাঁধ আহম্মকখালি। প্রতিবছরই পানি উন্নয়ন বোর্ড বাঁধটিতে প্রকল্পের কাজ করে। একইস্থানে প্রতিবছর কাজ করানোর কারণে বাঁধ এলাকাতে বর্তমানে মাটি নেই বললেই চলে। পানি উন্নয়ন বোর্ড এ বছর আহম্মকখালি বাঁধটিতে আরমোরিং প্রকল্পের মাধ্যমে উভয়দিকে বøক স্থাপন করে বাঁধ নির্মাণ করছে। এতে করে প্রতি বছর এ বাঁধে আর মাটি কাটতে হবে না। এতে করে সরকারও অনেক টাকা সাশ্রয় হবে।
তিনি আরো বলেন, এ প্রকল্পটি মাটিয়ান হাওর ও শনির হাওরের আহম্মখালিতে বাস্তবায়ন হলে হাওরবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন বাস্তবায়ন হবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. মনির হোসেন জানান,‘ফ্লাড ফিউজ’ প্রকল্পের কাজ হচ্ছে হাওরে পানি ঢুকানো ও পানি বের করা। পাশর্^বর্তী কিশোরগঞ্জ জেলার সবগুলো হাওরেই ‘ফ্লাড ফিউজ’ প্রকল্পের কাজ করানো হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে মাটিয়ান ও বনুয়া হাওরের ফসল নিরাপদে কৃষকের ঘরে উঠবে।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন