সড়ক যেনো মৃত্যুফাঁদ

প্রকাশিত: ০৮ মার্চ, ২০২৫ ০৭:২৪

বিশ্বম্ভরপুর-তাহিরপুর-মধ্যনগর সহ তিন উপজেলার সীমান্তের লাখো মানুষের জেলা শহরে যাতায়াতের মাধ্যম হল সীমান্তবর্তী সড়কটি। দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তবর্তী সড়কটি সংস্কার না করার ফলে এলাকাবাসী, পর্যটক ও যানবাহনের জন্য সড়কটি এখন বিষফোঁড়া হয়ে দাঁড়িয়েছে। মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে ভাঙাচুড়া এ সড়ক দিয়েই চলছে যানবাহন।
বিশেষ করে ২০২২ সালের ভয়াবহ বন্যায় সীমান্ত সড়কের বেশ কয়েকটি স্থানে পাহাড়ি ঢলে ভেঙে খালে পরিণত হলেও এখন পর্যন্ত সংস্কার করা হয়নি। বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার পলাশ বাজার থেকে ধনপুর, চিনাকান্দি, মাছিমপুর, শরিফগঞ্জ হয়ে লাউড়েরগড় বাজার পর্যন্ত সড়কটির অবস্থা একেবারে নাজুক হয়ে পড়েছে। পুরো সড়কে প্লাস্টার ওঠে সিঙ্গেল বালি সরে ছোট বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে এ সড়কে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনাও ঘটছে।
লাউড়েরগড় গ্রামের মো.আব্দুল হান্নান বলেন, যাদুকাটা নদী থেকে বালি পাথর সহ বিভিন্ন পণ্য নিয়ে ডিস্ট্রিক্ট ট্রাকসহ বিভিন্ন ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে সীমান্তের এ সড়কটি ভেঙে চলাচলের একেবারে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সড়কের পাশেই প্রাথমিক, উচ্চ মাধ্যমিক, মাদ্রাসা ও শাহ আরেফিনের আস্থানা রয়েছে। এসব স্পটে অটোরিকশা, সিএনজি, মোটরবাইক দিয়ে যাত্রীরা চলাচল করতে গিয়ে প্রায় সময়ই দুর্ঘটনার কবলে পড়ছেন। বিকল্প পথ না থাকায় শিক্ষক- শিক্ষার্থী সহ সীমান্তের লোকজন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন।
চারাগাঁও গ্রামের সাদ্দাম হোসেন রানা বলেন, তাহিরপুর সীমান্তে তিনটি (বড়ছড়া, চারাগাঁও, বাগলী) শুল্কস্টেশন, টাঙ্গুয়ার হাওর, শহীদ সিরাজ লেক, বারেকটিলা, শিমুল বাগানসহ পর্যটন স্পট রয়েছে। এসব স্পটে ব্যবসায়ী, পর্যটক সহ এলাকাবাসীর জন্য সীমান্ত সড়ক দিয়ে যাতায়াত করা এখন দায় হয়ে পড়েছে। জেলা সদর থেকে মোটরসাইকেল, সিএনজি ও অটোবাইকে এই সড়ক দিয়েই মধ্যনগর পর্যন্ত লোকজন যাতায়াত করেন। ভাঙ্গাচুড়া সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা নিয়ে বর্ডারগার্ড বিজিবিসহ সীমান্তবাসীর দুর্ভোগের শেষ নেই। সড়কের বেহাল দশার কারণে অসুস্থ রোগীদের নিয়ে প্রতিনিয়ত বিপাকে পড়তে হচ্ছে তাদের। ভাঙাচুরা সড়কে চলাচল করতে গিয়ে প্রায় সময় ছোট বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। সড়কটির বেশিরভাগ অংশে পিচ উঠে ছোট বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সীমান্ত সড়কের চাঁনপুর, রজনী লাইন, লালঘাট, বাঁশতলা, রঙ্গাচড়াসহ কয়েকটি স্থান পাহাড়ি ঢলে ভেঙে গেছে। পর্যটন স্পট বারেক টিলার উপরে পাহাড়ি আঁকাবাঁকা রাস্তাটি একেবারেই ভেঙে তছনছ হয়ে পড়েছে। এছাড়া শহীদ সিরাজ লেকের সামনে এবং ট্যাকেরঘাট চুনাপাথর খনি প্রকল্পের ওয়েটব্রিজের সামনে ও লাকমা বাজারের সম্মুখ সড়কে পাকা না থাকায় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।


পর্যটক সালাম নামের একজন বলেন, সীমান্ত সড়কটির একেবারে নাজুক অবস্থা। জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কের এমন বেহাল অবস্থা মেনে নেয়া যায় না। স্থানীয় জন-প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্টদের সড়কটি দ্রæত মেরামত করার দাবি জানান তিনি।
কয়লা ব্যবসায়ী জিল্লুর রহমান বলেন, ভাঙাচুরা সীমান্ত  সড়ক দিয়েই ব্যবসায়িক কাজে জেলা শহর থেকে শুল্কস্টেশনগুলোতে যাওয়া-আসা করতে হয় তাদের। দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির এমন বেহাল অবস্থা হলেও সংশ্লিষ্টরা কোনো গুরুত্ব দিচ্ছেন না।
শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আলী হায়দার বললেন, সীমান্ত সড়কটি জনগুরুত্বপূর্ণ। এ সড়কের পাশেই রয়েছে বিজিবি ক্যাম্প ও তিনটি স্থল শুল্কস্টেশন। যেখান থেকে সরকার প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা রাজস্ব পাচ্ছে। অথচ সড়কটিতে কোনো উন্নয়নের ছোঁয়া নেই।
এলজিইডির সুনামগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, তাহিরপুর সীমান্তের ট্যাকেরঘাট-মহেষখলা ২৮ কি.মি. সড়কটির বিশেষ প্রকল্পের আওতায় নেয়া হয়েছে। তাহিরপুর সীমান্ত সড়কটি একনেকে অনুমোদন হয়েছে এবং শুধু তাহিরপুর সীমান্ত সড়কে ১৬ কোটি টাকার কাজ চলমান রয়েছে। তিনি বলেন, বিশ্বম্ভরপুর সীমান্ত সড়কের জন্য ৫৬ কোটি টাকার ভাঙন রোধে সংস্কারের জন্য প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। তবে, এখনও অনুমোদন পাননি তারা।
 

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার