প্রকাশিত: ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ০৮:০৬
পাষণ্ড বাবাসহ আটক ৪
শিশু বিক্রির ঘটনায় আটককৃতরা। ছবি- সু.খবর
এক লক্ষ টাকার বিনিময়ে নিজের দেড় বছরের শিশু সন্তানকে বিক্রি করেছেন এক পাষণ্ড বাবা। মাস খানেক আগে মকবুল হোসেন নামের ঐ নিষ্পাপ শিশু সন্তানকে টাকার বিনিময়ে অন্যের হাতে তুলে দেন শিশুটির পিতা সালেহ নূর (৩০)।
শিশুটির মায়ের অভিযোগের প্রেক্ষিতে সালেহ নূর সহ ঘটনায় জড়িত ৪ জন কে সোমবার রাতে গ্রেপ্তার করেছে শান্তিগঞ্জ থানা পুলিশ। সালেহ নূর জামালগঞ্জের মল্লিকপুর গ্রামের সাবা উদ্দিনের ছেলে। হৃদয় বিদারক এই ঘটনাটি ঘটেছে শান্তিগঞ্জ থানাধীন বাবনিয়া গ্রামে। অন্য গ্রেপ্তারকৃতরা হলো— শান্তিগঞ্জ থানার বাবনিয়া গ্রামের মৃত. আশক আলীর ছেলে মনফর আলী (৪৫), জগন্নাথপুর থানার কাজিরগাঁও গ্রামের মৃত. দারিছ মিয়ার ছেলে রমাই মিয়া (৫৫) ও নরসিংদী সদর থানার স্থায়ী বাসিন্দা ও সুনামগঞ্জ সদর থানার ভাড়াটিয়া খেজাউরা হাছননগর এলাকার মৃত. রফিক আলমের মেয়ে লাকি আক্তার (৩৮)।
মঙ্গলবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে গ্রেপ্তারকৃতদের মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।
শিশু মকবুল হোসেনের মা মাফিয়া বেগমের অভিযোগের ভিত্তিতে তথ্য—প্রযুক্তির সহায়তায় সুনামগঞ্জের ছাতক, জগন্নাথপুর, জামালগঞ্জ ও নরসিংদী সদর থানায় পৃথক অভিযান পরিচালনা করে অভিযুক্তদর গ্রেপ্তার করে শান্তিগঞ্জ থানা পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিক্রয় করা শিশুটিকে উদ্ধার করে শান্তিগঞ্জে নিয়ে আসে পুলিশ।
জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে মাফিয়া বেগম ও তার স্বামী সালেহ নূরের মাঝে দাম্পত্য কলহ চলছিলো। তাদের মনোমালিন্য বাড়তে থাকায় স্ত্রী মাফিয়া বেগম কে দুই ছেলে সন্তানসহ বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেন স্বামী। এক মাস আগে মায়ের কাছ থেকে তার সন্তানদের নিয়ে যেতে চায় তাদের বাবা। কিন্তু মাফিয়া বেগম সন্তানদের নিয়ে যেতে দেন নি, তিনিও তার স্বামীর বাড়িতে ফিরে যান নি।
এরপর কৌশলের আশ্রয় নেন তার স্বামী সালেহ নূর। নিজের বৃদ্ধ মা ভীষণ অসুস্থ বলে দাদিকে দেখাতে সন্তানদের নিজ বাড়িতে নিয়ে যান তিনি। কিছুদিন পর সন্তান ছাড়াই আবারও মাফিয়া বেগমের বাড়িতে আসেন তার স্বামী। তখন সন্তানদের খোঁজ করেন মা মাফিয়া বেগম। সন্তানরা ভালো আছে এবং তার নিজ বাড়িতেই আছে বলে জানায় পাষণ্ড বাবা। ওই সময় সন্তানদের তার কোলে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি করেন মাফিয়া। সালেহ নূর স্ত্রীকে বলেন, ছেলেরা তাদের দাদির সাথে ঢাকা আছে।
এসময় সন্দেহ হয় মাফিয়া বেগমের। পরে শ্বাশুরির সাথে মুঠোফোন কথা বললেই আসল ঘটনার গুমর ফাঁস হয়। শ্বাশুরি মাফিয়া বেগম কে জানান, বড় নাতি রাব্বি হাসান তার কাছে আছে। ছোট নাতি মকবুল হাসানের ব্যপারে তিনি কিছুই জানেন না। ছোট ছেলের বিষয়ে জানতে স্বামীকে চাপ দিতে থাকেন মাফিয়া। এক সময় সন্তান বিক্রির কথা স্বীকার করে সালেহ নুর।

সালেহ নুর জানান, মনফর আলী ও রমাই মিয়ার সহায়তায় অপর অভিযুক্ত লাকী আক্তারের নিকট এক লক্ষ টাকার বিনিময়ে তার ছেলেকে বিক্রি করেছেন তিনি।
শান্তিগঞ্জ থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. খালেদ চৌধুরী জানান, শিশু বিক্রির অভিযোগের ঘটনায় ভিকটিমের মা মাফিয়া বেগম থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগের ভিত্তিতে সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক, জগন্নাথপুর, জামলাগঞ্জ থানা এলাকা ও ঢাকার নরসিংদী থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ৪ জন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনায় মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন