প্রকাশিত: ১২ মার্চ, ২০২৫ ০৭:২৭
আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে সীমান্তে তৎপর রয়েছে দুই দেশের চোরাকারবারিরা। রমজান শেষে বিশাল বাজারকে কেন্দ্র করে অবৈধ পথে দেশে আসছে শাড়ি, কসমেটিক্সসহ অন্যান্য পণ্য সামগ্রী। বিজিবি বলছে, ঈদ সামনে হওয়ায় চোরাকারবারিরা সক্রিয় রয়েছে। এজন্য টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে।
জেলায় সঙ্গে ভারতের ১২০ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে। জেলার সদরসহ বিশ্বম্ভরপুর, দোয়ারাবাজার, মধ্যনগর ও তাহিরপুরের সীমান্তবর্তী উপজেলার বিভিন্ন দুর্গম গোপন পথ দিয়ে ভারতীয় পণ্য বাংলাদেশে অভ্যন্তরে প্রবেশ করিয়ে সড়ক ও নদীপথ দিয়ে এই পণ্য রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাচার করছে চোরাকারবারী চক্র। এতোদিন চিনি, মসলা কসমেটিকস জাতীয় পণ্য চোরাইপথে নিয়ে আসলেও ঈদকে সামনে রেখে পণ্যের ধরণ পাল্টিয়েছে চোরাকারবারিরা। সীমান্ত দিয়ে রাতের আঁধারে অবৈধভাবে ভারতীয় শাড়ি, থ্রী পিচ, শার্ট, প্যান্টের পিচ ও তানকাপড় বাংলাদেশ নিয়ে আসছে চক্রের সদস্যরা। সুযোগ বুঝে সুকৌশলে এই চোরাই পণ্য ছড়িয়ে দিচ্ছে বাজারে।
গত এক সপ্তাহে সীমান্তে দুটি বড় অভিযানে সফল হয়েছে বিজিবি। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে প্রায় তিন কোটি টাকার ভারতীয় শার্ট, পেন্ট, বেøজার,পাঞ্জাবির কাপড় জব্দ করা হয়েছে। গেল বৃহস্পতিবার ভোরে চারাগাঁও বিওপির বিশেষ একটি টহল দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সীমান্তবর্তী জঙ্গলবাড়ী এলাকা থেকে ভারতীয় শার্ট পিস ৫ হাজার ১২৭ টি, প্যান্টের কাপড় ১৫৬ মিটার, বেøজারের কাপড় ১ হাজার ২৯৬ মিটার, পাঞ্জাবির কাপড় ২০ হাজার ৪৩০ মিটার এবং স্কীন সানরাইজ ক্রীম ৯ হাজার পিস আটক করে। এসব পণ্যের বাজার মূল্য দুই কোটি বিরানব্বই হাজার পাঁচশত টাকা।
এর পরদিনই শুক্রবার সুনামগঞ্জ পৌরশহরের সাহেববাড়ি ঘাট থেকে নৌপথে আরেকটি টাস্কফোর্স অভিযান পরিচালনা করে বিজিবি। নদীপথে স্টিলের নৌকায় তুষের বস্তার নিচে পাচার হচ্ছিলো দেড় কোটি টাকার ভারতীয় শাড়ী কসমেটিক্সসহ অন্যান্য মালামাল। এসময় সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) হাসান মোহাম্মদ শোয়াইব উপস্থিত ছিলেন।
তাহিরপুরের কলাগাও সীমান্তের বাসিন্দা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বলেন, সীমান্তে শাড়ি কসমেটিক্সসহ অন্যান্য মালামাল আনেন ঢাকার বড়বড় ব্যবসায়ীরা। তারা স্থানীয় সিন্ডিকেটের সহায়তায় ঈদকে সামনে রেখে তৎপরতা বাড়িয়েছে। বাগলি ও মহিষখলা এলাকা দিয়ে এসব মালামাল নামান তারা।
বিশ^ম্ভরপুর উপজেলার সলুকাবাদ ইউনিয়নের কাপনা গ্রামের বাসিন্দা মো. মিজান বললেন, পাঁচ আগস্টের পরে সবকিছু পরিবর্তন হয়েছে। ঈদকে সামনে রেখে বিজিবির টহল বেড়েছে। তবুও চোরাচালান থেমে নেই। বড় বড় ব্যবসায়ীরা প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে মালামাল নিয়ে আসার চেষ্টা করতেছে। সবকিছু আমরা দেখি না।
একই এলাকার বাসিন্দা মো. মোবারক হোসেন বলেন, আগে চিনি, জিরাসহ অন্যান্য মালামাল নেমেছে। কিছুদিন হলো এসব দেখছি না। এরমধ্যেই শুনেছি সুরমা নদীতে দেড় কোটি টাকার কাপড় ধরা হয়েছে। এই মাল এই সীমান্ত দিয়েই নামানো হয়েছে। বুঝাই যাচ্ছে ঈদকে সামনে রেখে কাপড় ছোপড় নামানো হচ্ছে।
বিজিবি’র ২৮ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক একেএম জাকারিয়া কাদির বললেন, ঈদকে সামনে রেখে চোরাচালানের তৎপরতা বেড়েছে। এজন্য সীমান্তে প্রতিটি বিওপিতে লোকবল ও টহল বাড়ানো হয়েছে। গত এক সপ্তাহে সাড়ে তিন কোটি টাকার ভারতীয় কাপড় জব্দ করা হয়েছে।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন