প্রকাশিত: ১৮ মার্চ, ২০২৫ ০৭:১১
সীমান্ত এলাকা, সুনামগঞ্জ পৌর শহর ও বিভিন্ন উপজেলায় হাত পাতলেই মিলছে এখন মদ—ইয়াবা সহ মাদকদ্রব্য। এতে শহর ও গ্রামের সচেতন অভিভাবকরা উদ্ধিগ্ন হয়ে পড়েছেন।
জানা যায়, ঈদকে সামনে রেখে জেলার ছাতক, দোয়ারাবাজার, তাহিরপুর ও মধ্যনগর সীমান্তের বিভিন্ন স্পট দিয়ে দেদারসে আসছে মাদকদ্রব্য। এসব স্পটে মাদক কারবারিরা এখন তৎপর। মদ, ইয়াবা, গাঁজা, নাসির বিড়ি পাওয়া যাচ্ছে সর্বত্র। স¤প্রতি সীমান্তজুড়ে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে মাদকাসক্তের সংখ্যা ও মাদক বিক্রেতা। অনেকটা প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে এসব মরণ নেশা। দিন ও রাতে মাদকসেবিরা বাজারে, রাস্তাঘাটে অশ্লীল ভাষায় পথচারীদের বিরক্ত করলেও ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করছেন না। বিজিবি—পুলিশ মাঝে মধ্যে মদ—ইয়াবার চালান জব্দ করলেও এর সঙ্গে জড়িত অধিকাংশকেই গ্রেপ্তার করতে পারছে না।
বড়ছড়া এলাকার বাছির মিয়া বলেন, তাহিরপুর সীমান্তের বাগলী, লামাকাট, জঙ্গলবাড়ী, ছাড়াগাঁও, বাঁশতলা, লালঘাট, লাকমা, টেকেরেঘাট, বড়ছড়া, রজনী লাইন, চাঁনপুর, বারেকটিলা, লাউড়েরগড়, সায়েদাবাদ সীমান্ত দিয়ে ওপার থেকে এপারে আসছে মাদক। পরে এসব মাদক উপজেলার বাদাঘাট, কাউকান্দি, বালিয়াঘাট, দুধের আউটা, শ্রীপুর, আনোয়ারপুর, বালিজুড়ি, একতা, জনতা বাজার, বড়ছড়া, লাকমা, ট্যাকেরঘাট, চারাগাঁও, কলাগাও, জঙ্গলবাড়ি, লামাকাটা, বাগলি সহ জেলার বিভিন্নস্থানে সরবরাহ করছে মাদক কারবারীরা।
দোয়ারাবাজারের করিম মিয়া জানান, পুলিশ, বিজিবি ও ডিবি ছোটখাটো মাদক বিক্রেতা আটক করলেও কয়েকদিন পর জামিনে বের হয়ে আবারও পুরনো ব্যবসায় সক্রিয় হচ্ছে তারা। এবার ঈদকে সামনে রেখে তাদের ব্যবসার ধরণ পরিবর্তন করেছে। এলাকাভিত্তিক গ্রুপ করে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে লেনদেন হয় মাদকের। মাদক বহনে ব্যবহার করা হচ্ছে নারী, শিশু, মোটরসাইকেল চালকদের। অল্প বয়সি তরুণরা ইয়াবার নেশায় আসক্ত হয়ে পড়ছে।
প্রবীণ সাংবাদিক রওনক বখত বললেন, পৌর শহরের আরেপিননগর, বড়পাড়া সহ বিভিন্ন পয়েন্টে মাদকসেবিরা এখন মাথা ছাড়া দিয়ে উঠেছে। সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত মাদকসেবিরা মাদক সেবন করে মাতলামি করে। আগে এসব স্পটে নিয়মিত পুলিশের টহল হতো, কিন্তু এখন পুলিশের টহল দেখা যায় না। এ কারণে পৌর শহরে মাদক মাথা ছাড়া দিয়ে উঠেছে।
তাহিরপুর উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের কলাগাঁও গ্রামের একজন শিক্ষক জানান, মাদক একটি সামাজিক ব্যাধি। ঈদকে সামনে রেখে মাদক ব্যবসার সাথে জড়িতরা প্রতিদিনই নতুন কৌশলে তরুণদের মধ্যে ছড়িয়ে দিচ্ছে। এসব মাদকদ্রব্য দ্রুত বন্ধ করা উচিত, না হলে যুব সমাজ ধ্বংস হয়ে যাবে।
সুনামগঞ্জ ২৮—বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্ণেল একেএম জাকারিয়া কাদির বলেন, ঈদকে সামনে রেখে বিজিবি সীমান্ত এলাকায় তৎপর রয়েছে। সীমান্ত এলাকায় মাদক জব্দ করা হচ্ছে এবং মামলা দেওয়া হচ্ছে। মাদক বন্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সীমান্তের সচেতন মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে, তাহলেই মাদকের মহামারী লাগাম টানা যাবে।
পুলিশ সুপার তোফায়েল আহাম্মেদ বলেন, মাদকের সঙ্গে কোনো আপোষ নাই। মাদক বন্ধে পুলিশকে কড়া নিদ্দের্শনা দেওয়া হয়েছে। এসবের সঙ্গে যদি কোনো পুলিশ সদস্য জড়িত থাকে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন