প্রকাশিত: ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ০৭:৪৮
তাহিরপুর উপজেলার লোবার হাওর মৌজায় বীজ বাদাম বপনে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষীরা। তাহিরপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে জানা যায়, বাদামের বীজ এক বছর সংরক্ষণ করে রাখা যায় না। তাই বাদাম বীজ সংরক্ষণে বছরে দুইবার বপন করতে হয়।
আশ্বিন মাসে যে বাদাম বপন করা হয় সেটাকে বীজ বাদাম বলে। আশ্বিন মাসে বপন করা বীজ বাদাম পৌষ মাসে উঠানোর পর তা শুকিয়ে বীজ বের করে মাঘ মাসে আবার তা বপন করা হয়। রোপিত বাদাম জ্যৈষ্ঠ মাসে জমি থেকে উঠান চাষীরা। সেই বাদামগুলো খাওয়ার জন্য সাধারণত বাজারে বিক্রি করে থাকেন চাষীরা।
মাহতাবপুর গ্রামের কৃষক মো. জিতু মিয়া বলেন, মাহতাবপুর গ্রামের হাওরে দুইবার বাদাম চাষ হয়। আশ্বিন মাস থেকে বাদাম বীজ রোপন করে ঐ বাদাম পৌষ মাসে উত্তোলন করা হয়। পরে মাঘ মাসে সারা হাওড় জুড়ে পুনরায় বাদাম রোপন করা হয় যা জ্যৈষ্ঠ মাসে উত্তোলন করা হয়।
একই গ্রামের বিশিষ্ট সমাজসেবক জাহিদ হোসেন বলেন, মাহতাবপুর গ্রাম ও স্থানীয় লোভার হাওড় মৌজায় প্রায় তিনশত কিয়ার (৩০ শতকে এক কিয়ার) বাদাম চাষের উপযোগী জমি রয়েছে। তিনি আরও জানান, প্রতি কিয়ার জমি হাল চাষ করে বাদাম রোপনের উপযোগী করতে ৭ থেকে আট হাজার টাকা খরচ হয়। প্রতি কিয়ারে ৭ থেকে ৮ মণ বাদাম বীজ উৎপাদন করা যায়। উৎপাদিত বাদাম প্রতি মণ সাড়ে তিন থেকে সর্বোচ্চ চার হাজার টাকায় বিক্রি করা যায়।
লোবার হাওরের বাদাম চাষী গাজীপুর গ্রামের কৃষক আক্তার হোসেন বলেন, পৌষ মাসে উত্তোলনকৃত বাদামটি স্থানীয়ভাবে বীজ বাদাম বলে। এসময় পাঁচ থেকে ছয় হাজার টাকা মণ দরে বীজ বাদাম বিক্রি হয়। তাছাড়া জ্যৈষ্ঠ মাসে বাদামের প্রচুর ফলন হওয়াতে সাড়ে তিন থেকে চার হাজার টাকা মণ ধরে বিক্রি করা করা যায়।
তাহিরপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসের উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান বলেন, বাদাম বেলে দো—আঁশ মাটিতে ভাল ফলন হয়। তাহিরপুর উপজেলার লোবার হাওরের মাটি বেলে দো—আঁশ হওয়ায় বাদাম ফলন এখানে খুব ভাল হয়।
তাহিরপুর উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. হাসান উদ—দৌলা বলেন, বীজ বাদাম বপনে তাহিরপুরের মাটি খুবই উপযুক্ত। এ সময়ে আমরা বাদাম চাষীদের ভাল উৎপাদনে পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। চাষীদের ভালো উৎপাদনে আমরা তাদের প্রয়োজনীয় বীজ ও সার প্রণোদনা দেয়ার ব্যবস্থা করছি।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন