পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়ন চেয়ারম্যান পদ নিয়ে রহস্য

প্রকাশিত: ০৯ এপ্রিল, ২০২৫ ০৭:৫৫

শান্তিগঞ্জ উপজেলার পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদ নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। ইউনিয়নের নির্বাচিত চেয়ারম্যান রিয়াজুল ইসলাম রাইজুল ‘ডেভিল হান্ট’ অভিযানে গ্রেফতার হয়ে বর্তমানে জেল হাজতে রয়েছেন। তিনি কারাবন্দি থাকায় তার দায়িত্বভার নিয়ে ইউনিয়ন ও উপজেলাব্যাপী আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সাত এপ্রিল সোমবার ‘পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পেলেন রুজেল আহমেদ’ শিরোনামে একটি সংবাদ গণমাধ্যমে প্রচার হয়। সংবাদে বলা হয় পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান—১ ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পেয়েছেন। এই সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পরই এলাকায় আলোচনার সূত্রপাত হয়। 
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কিংবা জেলা প্রশাসক কতৃর্ক কোনো অনুমোদন ছাড়া কীভাবে তিনি দায়িত্ব পেলেন? মূলত: এই নিয়ে ছিলো আলোচনা—সমালোচনা। সংবাদে দাবি করা হয় ইউপি সচিব অশেষ তালুকদার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার খবরটি নিশ্চিত করেছেন।
এ নিয়ে সচিবের সাথে কথা বলেন এই প্রতিবেদক। সচিব অশেষ তালুকদার বলেন, প্যানেল চেয়ারম্যান—১ রুজেল আহমেদ ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন মর্মে আমি কোনো গণমাধ্যমকে সাক্ষাৎকার দেইনি। এমন বক্তব্য যে সাংবাদিক প্রচার করেছেন এটি সম্পূর্ণ তার ব্যক্তিগত অভিমত। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান যিনিই হোন না কেনো তা নির্বাচন করবেন উপজেলা ও জেলা প্রশাসন। সংবাদ প্রচারের ব্যপারে সাংবাদিক আতিকুর রহমান রুয়েব বলেন, সচিব বিষয়টি আমাকে নিশ্চিত করেছেন, তাই আমি সংবাদ প্রকাশ করেছি। আমার কাছে তার যাবতীয় প্রমাণাদি আছে।
এ বিষয়ে ৫ নং ওয়ার্ডের সদস্য আবদুল বাসিত বলেন, ‘প্রথমেই আমি সংবাদটি ফেসবুকে দেখতে পাই। পরে সচিব সাহেবকে কল দিলে তিনি আমাকে বলেন যে, জনসেবার জন্য, অনেকের অনেক কিছু দরকার পরে এজন্য হয়তো আমরা তাকে এই স্বাক্ষর দিতে বলি।’ আমি যখন তাকে জিজ্ঞেস করি এই ক্ষমতা কী আপনার কাছে আছে? তখন তিনি কোনো সদুত্তোর দিতে পারেন নি। ৭নং ওয়ার্ডের সদস্য জুবায়েল আহমদ বলেন, ‘সচিব উপস্থিত থাকার পরেও রুজেল আহমদ নাগরিক সনদে স্বাক্ষর করেছেন এবং তিনি বাঁধা প্রদান করেন নি সেহেতু সচিবের অনুমোতিতেই তিনি এমনটি করেছেন।’ 
ইউপি সদস্য রুজেল আহমেদ বলেন, আমি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের কোনো দায়িত্ব পাই নি। কে বা কারা উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে আমাকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বানিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছেন। যে সংবাদে আমার কোনো বক্তব্য নাই। প্রকৃত পক্ষে আমি মেম্বার এবং প্যানেল চেয়ারম্যান—১ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। বর্তমান চেয়ারম্যান জেলে থাকায় সোমবার একজন মহিলার খুব অনুরোধে নাগরিক সনদপত্রে প্যানেল চেয়ারম্যান হিসেবে স্বাক্ষর করেছি। এখানে যে সীল দিয়েছি, সেটিও প্যানেল চেয়ারম্যানের সীল। তাছাড়া আমি চেয়ারম্যানের আসনেও বসিনি।
শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুকান্ত সাহা বলেন, আমরা ইতোমধ্যে মেম্বার সাহেবকে একটি কারণ দর্শানোর নোটিস পাঠিয়েছি। তার জবাব আসুক। পরে আইনত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার