প্রকাশিত: ১২ এপ্রিল, ২০২৫ ০৬:৩৯
শহরের ৯টি খেয়াঘাট
সুনামগঞ্জ পৌর শহরের জনগুরুত্বপূর্ণ ৯টি স্থানে খেয়া পারাপারে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন হাজার হাজার মানুষ। জেলা পরিষদ ও পৌরসভার আওতায় এসব খেয়া ঘাটগুলোর অধিকাংশেরই ওঠা—নামার পথ কাঁচা, আবার পাকা নির্মিত ঘাটে আছে নানা অসংগতি। ঘাটগুলো উঁচু—নিচু থাকায় যাত্রী পারাপারের সময় জীবনের ঝুঁকি নিতে হচ্ছে। এতে প্রতিনিয়তই দুর্ঘটনার শিকার হতে হচ্ছে জনসাধারণকে। এছাড়াও অনেক খেয়াঘাটের পাশে ময়লা আবর্জনা জমে আছে। এসব ময়লা আবর্জনা পচে দুর্গন্ধ বের হচ্ছে এবং চারদিকের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে বলে জানান লোকজন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, সুরমা নদী তীরবর্তী এলাকার লাখ লাখ মানুষ সুনামগঞ্জ পৌর শহরে আসেন তাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে এবং অফিসিয়াল কাজে। শতশত শিক্ষার্থী স্কুল কলেজ এবং মাদ্রাসায় আসা যাওয়া করেন খেয়াঘাটগুলো দিয়ে।
ওয়েজখালী এলাকায় নদীর পশ্চিম পাড়ের একাধিক গ্রামকে সংযুক্ত করেছে ওয়েজখালী খেয়াঘাট। পৌর শহরের বড়পাড়া এলাকার খেয়াঘাট, সাহেববাড়ী খেয়াঘাট দুইটি বেদে পল্লীসহ কয়েকটি গ্রামের মানুষের পারাপারের একমাত্র ভরসাস্থল। এই ঘাট দিয়ে প্রতিদিন হাজারো মানুষ পারাপার করে। সাহেব বাড়ী খেয়াঘাট ঝুঁকিমুক্ত হলেও বড়পাড়া ঘাঁটটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ এবং ওঠা—নামার কাঁচা পথে ভোগান্তি পোহাতে হয় জনসাধারণকে। এই ঘাটটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে বছরের পর বছর ধরে।
এছাড়াও শহরের চাঁদনীঘাট, পাইকারি সবজি বাজার এলাকার খেয়াঘাট, লঞ্চঘাট, রিভারভিউ এলাকার খেয়াঘাট, হালুয়ারঘাট, খাইমতর খেয়াঘাটে ভিড় বেশি। এগুলো দিয়ে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হতে হচ্ছে জনসাধারণকে। ফেরি পারাপার ঝঁুকিপূর্ণ হওয়ায় এগুলো দিয়ে বয়স্ক, শারীরিক প্রতিবন্ধী এবং গর্ভবতী নারীদের খুবই সমস্যা হয়। প্রতিবছর এ ঘাটগুলো থেকে সরকারি রাজস্ব আদায় হয় লক্ষ লক্ষ টাকা।
একাধিক খেয়া নৌকার মাঝি বলেন, ভোর থেকে রাত পর্যন্ত মানুষকে পারাপার করতে হয়। রোগী, বৃদ্ধ ও শিশু শিক্ষার্থীদের হাত ধরে ট্রলারে উঠাতে হয়। অনেকেই মোটরসাইকেল সহ এই ঘাট দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। সব সময় দুর্ঘটনার আশংকায় থাকে জনসাধারণ।
এ বিষয়ে হালুয়াঘাট এলাকার বাসিন্দা মো. ওলি মিয়া বলেন, মানুষজনকে খেয়াঘাট দিয়ে যাতায়াতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। নদীর অপরপ্রান্তে ঘাটটি পাকাকরণ করা হয়েছে, কিন্তু এই পাড়ের ঘাটটি ঝঁুকিপূর্ণ, কাঁচা অবস্থায় আছে। হেমন্তে ধুলোবালি মাড়িয়ে চলাচল করতে হয় এবং বর্ষায় মেঘ— বৃষ্টিতে ঘাট পিছলা হয়ে যায়, পা পিছলে অনেকেই দুর্ঘটনার শিকার হতে হচ্ছে। এই ঘাটটি চলাচলের খুবই অনুপযোগী, এটি পাকাকরণ জরুরি।
ওয়েজখালী এলাকার গুচ্ছ গ্রামের শীলা রাণী দাস বলেন, আমরা গুচ্ছগ্রাম থেকে শহরে বাজার সদাই করতে আসা লাগে। ওয়েজখালী ফেরিঘাটে খেয়া পারাপারের সময় খুব কষ্ট হয়। উঠানামায় ভয় করে। পা পিছলে যায়। ঘাটে ব্লক নাই, হাঁটলে স্লিপ কাটে, দুর্ঘটনার আশংকা থাকে।
ওয়েজখালী ফেরিঘাটের মাঝি ইসলাম উদ্দিন বললেন, বর্ষাকালে ফেরিঘাট ঝঁকিপূর্ণ থাকে, মানুষ উঠানামা করতে পারে না। অনেকের পা পিছলে যায়, হাতে পায়ে আঘাত পায়, প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হতে হয় মানুষকে। হেমন্তকালেও মানুষজন উঠানামা করতে কষ্ট হয়, ফেরিঘাটে কাঁচা থাকায় সমস্যা হয়। সুস্থ্য মানুষকে পারাপারে সমস্যায় পড়তে হয়। অসুস্থ্য মানুষ এবং বৃদ্ধ মানুষের কষ্টের শেষ নেই।
এদিকে সবজি বাজার এলাকায় খেয়াঘাটের অবস্থা আরও নাজুক। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সিঁড়ির উপর ভেঙে গেছে। সিঁড়ির দুই পাশে ময়লা আবর্জনার স্তূপ রয়েছে। এই আবর্জনা থেকে পচা দুর্গন্ধ বের হচ্ছে। যাত্রীরা নাক চেপে আসা যাওয়া করতে দেখা যায়।
সবজি বাজার এলাকার খেয়াঘাটের নৌকার মাঝি আলতাফ মিয়া বলেন, সিঁড়িটা ভাঙ্গাচুরা। সিঁড়ির আশপাশে ময়লা আবর্জনা ফেলে রাখে, পচা দুর্গন্ধ বের হয়। যাত্রীরা নৌকায় যাওয়া আসা করার সময় আমাদেরকে গালাগালি করে। আমরা সবজি বিক্রেতাদেরকে নিষেধ করছি, এখানে যাতে করে ময়লা আবর্জনা না ফেলে, কিন্তু কেউ আমরার কথা শুনে না।
ইব্রাহীমপুরের বাসিন্দা মিন্টু মিয়া বলেন, আমরা দৈনন্দিন ব্যবসার জন্য শহরে আসা যাওয়া করি। ভাঙা সিঁড়ি দিয়ে আসা যাওয়া খুবই সমস্যা হয়। সিঁড়ির উপরে ভাঙ্গা আছে। দুইপাশে ময়লা আবর্জনা জমে আছে। এই আবর্জনা থেকে পচা দুর্গন্ধ বের হচ্ছে, নাক চেপে আমাদের চলাচল করতে হয়। বর্ষাকালে আরও বেশি সমস্যা হয়। পা পিছলে দুর্ঘটনা ঘটে। এই সমস্যা দেখার কেউ নেই।
খাইমতর এলাকার আপতাব উদ্দিন বলেন, আমাদের ফেরিঘাটটি খুবই ঝুকিপূর্ণ অবস্থায় আছে। ঘাটে কিছু পাকা আছে, আবার অনেক জায়গায় ভাঙন রয়েছে। ঘাটটি মেরামত করা দরকার।
পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী কালী কৃষ্ণ পাল বলেন, পর্যাপ্ত বাজেট না থাকায় আমরা এবার শুধু লঞ্চঘাট এলাকায় খেয়াঘাটের কাজ করাচ্ছি, নতুন করে বানাচ্ছি এটা। পরবর্তীতে আমরা চাঁদনি ঘাট ও অন্যান্য খেয়াঘাটগুলোর কাজ করাবো।
জেলা প্রশাসক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া বলেন, জেলা পরিষদের আওতায় যে খেয়াঘাটগুলো আছে, সেগুলোকে জনসাধারণের যাতায়াতে ভোগান্তি দূর করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন