হারভেস্টারের যন্ত্রাংশ কেটে নিয়ে গেল দুর্বৃত্তরা

প্রকাশিত: ১৪ এপ্রিল, ২০২৫ ০০:২৬

ধান কাটতে গেয়ে বিপাকে ৩ কম্বাইন হারভেস্টার মালিক

সুলভ মূল্যে হাওরে ধান কাটতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন ৩ কম্বাইন হারভেস্টার মালিক। জেলার বৃহৎ বোর ফসলি ধানের হাওর শনির হাওরপাড়ে ভাটি তাহিরপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটেছে।
শনিবার গভীর রাতে ভাটি তাহিরপুর গ্রামের আতিকুর রহমান, সেনু মিয়া ও ইকরামুল হকের কম্বাইন হারভেস্টারের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ কেটে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। যে কারণে রবিবার সকালে তারা হাওরে ধান কাটতে পারেননি। 
ভাটি তাহিরপুর গ্রামের কম্বাইন হারভেস্টার এর মালিক আতিকুর রহমান জানান, তিনি কম্বাইন হারভেস্টার কেনার পর থেকেই প্রতি কিয়ার জমির ধান (৩০ শতকে এক কিয়ার) ১২ থেকে ১৫’শ টাকার মধ্যে কর্তন করেছেন। এবছরও তিনি পূর্বের নিয়মানুসারেই দূরত্ব ভেদে হাওরে ধান কর্তন করছেন। কম্বাইন হারভেস্টারটি দুর্বৃত্তরা বিকল করার কারণে এটি সংস্কার ও মেরামত করতে তার ২০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। যে কারণে রবিবার দুপুর থেকে হাওরে ধান কাটতে শুরু করতে হয়েছে। 
তিনি আরও বলেন, এমন ঘৃণিত কাজ কোন সাধারণ লোকজন বা কৃষক করতে পারেন না। যারা হাওরে উচ্চ মূল্যে ধান কাটতে চান, তারাই এমন ঘৃণিত কাজটি করতে পারে বলে তার ধারণা। তিনি আরো জানান, সম্প্রতি কৃষি ও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মহোদয় সুনামগঞ্জ সফরে এসেছিলেন, সেখানে ভোক্তাদের দাবির প্রেক্ষিতে প্রতি কিয়ার জমির ধান কর্তনে ১৮’শ টাকা নির্ধারণ করেছিলেন। সরকারিভাবে নির্ধারণ করে দেয়া মূল্যের চাইতে অধিক কম নেয়ার কারণেই হয়তোবা অন্য কম্বাইন হারভেস্টারের মালিকরা এ ধরণের নাশকতা ঘটাতে পারে।
শনির হাওরপাড়ের ভাটি তাহিরপুর গ্রামের কৃষক জামাল মিয়া বলেন, শনিবার আতিকুর রহমানের কম্বাইন হারভেস্টার দিয়ে প্রতি কিয়ার ১৩’শ টাকা দরে মোট ৫ কিয়ার জমির ধান ৬ হাজার ৫০০ টাকা দিয়ে কর্তন করেছেন।
একই হাওরের ঠাকুরহাটি গ্রামের কৃষক চয়ন পুরকায়স্থ জানান, তিনি আতিকুর রহমানের কম্বাইন হারভেস্টার দিয়ে ৬ কিয়ার জমির ধান কর্তন করেছেন। প্রতি কিয়ার তিনি ১৩’শ টাকা করে ৭ হাজার ৮শ টাকায় তিনি কম্বাইন হারভেস্টারের মালিককে দিয়েছেন।
কম্বাইন হারভেস্টারের মালিক ইকরামুল হক বলেন, শনিবার রাতে তার কম্বাইন হারভেস্টারের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ কে বা কারা খুলে নিয়ে যায়। মেরামত করতে আমার ব্যয় হয়েছে ১৬ হাজার টাকা। তিনি আরও বলেন, আমি এখনো ধান কাটা শুরু করি নাই। তবে পাশের অন্যান্য জমি যে রেটে কর্তন করে আমিও একই রেটে কর্তন করবো।
কম্বাইন হারভেস্টারের মালিক ভাটি তাহিরপুর গ্রামের আমিনুল ইসলাম জানান, হাওরে পুরোদমে ধানকাটা শুরু হলে দৈনিক ৪০ থেকে ৫০ কিয়ার ধান কাটা যায়। শনিবার রাতে তার কম্বাইন হারভেস্টারটি দুর্বৃত্তরা বিকল করে দেয়ার কারণে তিনি ধান কাটতে পারছেন না। হারভেস্টারটি মেরামত করতে হলে তার ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা খরচ হবে বলে জানান তিনি।
তাহিরপুর উপজেলা কৃষি অফিসার মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, সরকারিভাবে প্রতি কিয়ার কর্তনের জন্য ১৮০০ টাকা নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। সেক্ষেত্রে কৃষকদের কাছ থেকে বেশী নিলে সমস্যা, কিন্তু কম নিলে কোন সমস্যা নেই। কৃষকরা ফ্রি ধান কাটতে পারলে আমরা আরো বেশী খুশী হবো। তবে ব্যবসায়ীদের মধ্যে একটি প্রতিযোগিতা থাকতেই পারে। সেক্ষেত্রে একে অন্যের নাশকতা বা ক্ষতি করতে পারে। সেক্ষেত্রে সকল কম্বাইন হারভেস্টার মালিকদের সতর্ক থাকতে হবে যেন কোন দুর্বৃত্ত তার কম্বাইন হারভেস্টারের কোন প্রকার ক্ষতি সাধন না করতে পারে।


 

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার