২০ স্থানে ভাঙন, দুর্গতি

প্রকাশিত: ১৮ এপ্রিল, ২০২৫ ২২:২৪

পাগলা-বীরগাঁও সড়ক

শান্তিগঞ্জ উপজেলার পাগলা বাজার থেকে পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়নের খালপাড় সেতু পর্যন্ত সড়ক পথের দূরত্ব প্রায় সাড়ে ৬ কিলোমিটার। খালপাড় থেকে বীরগাঁও বাজারের দূরত্ব আরও আড়াই কিলোমিটার হবে। এই সড়ক দিয়েই ইউনিয়নের প্রায় সব শ্রেণির মানুষের চলাচল। পাগলা বাজার হয়ে সিলেট, সুনামগঞ্জ ও রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের সাথে যোগাযোগ ইউনিয়নের মানুষের। বীরগাঁও থেকে পাগলা বাজারে প্রতিদিন শতাধিক সিএনজি চালিত অটোরিকশা যাত্রী আনা—নেওয়া করে থাকে। বিভিন্ন কাজে অসংখ্য যান চলাচলও করে এই সড়কে। পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়নের শত শত মানুষ প্রতিনিয়ত চলাচল করছেন পাগলা—বীরগাঁও সড়ক পথে। সড়কটির পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নের বেশ কিছু অংশসহ বীরগাঁও অংশের খালপাড় সেতু পর্যন্ত অন্তত ২০টি জায়গায় ছোট—বড় ভাঙনের কবলে পড়েছে। এ নিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন পাগলা—বীরগাঁওয়ের জনসাধারণ ও পরিবহন শ্রমিকরা। বর্তমানে এসএসসি পরীক্ষা চলছে। পাগলা সরকারি মডেল হাইস্কুল এন্ড কলেজ কেন্দ্রে এসে বীরগাঁও ইমদাদুল হক উচ্চ বিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিচ্ছেন। রাস্তা ভাঙা থাকার কারণে পরীক্ষায় আসার সময় সড়কের ভাঙা অংশে সড়ক দুর্ঘটনার ও দেরি হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় থাকেন তারা।
সড়ক সংস্কারের বিষয়ে তৎপর পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে রাজনীতিবিদ ও সাধারণ মানুষ। যে হারে রাস্তাটি ভাঙতে শুরু করেছে তাতে বীরগাঁওয়ের সাথে পাগলার সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হওয়ার শঙ্কা প্রকাশ করে সড়কটি দ্রুত সংস্কারের দাবিতে ইতোমধ্যে সুনামগঞ্জের স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী বরাবরে একটি আবেদনও করেছেন পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়নবাসী। চলতি মাসের ৯ তারিখ আবেদনটি করেন তারা। আবেদন পত্রে তারা বলেন, পাগলা—বীরগাঁও রাস্তাটি উত্তর খালপাড় নিবাসী আমানের বাড়ি থেকে বীরগাঁও লাউয়া নদীর সেতু পর্যন্ত গাড়ি চলাচলে একেবারে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এমনকি পাগলা—বীরগাঁও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এমতাবস্থায়, রাস্তাটি বর্ষা আসার আগেই অতীব জরুরী ভিত্তিতে মেরামত না করলে এলাকাবাসী চরম দুর্ভোগে পড়বে। পত্রে রাস্তার ভেঙে পড়া অংশ দ্রুত মেরামতের দাবি করেন এলাকাবাসী।
মঙ্গলবার সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, পাগলা—বীরগাঁও সড়কের ব্রাহ্মণগাঁও অংশে পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নের প্রাক্তন ইউপি সদস্য নূরুল হকের বাড়ির সামনে থেকে ভাঙনের শুরু হয়। ছোট ছোট ভাঙা অংশে পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নের অংশ শেষ হলেও পূর্ব বীরগাঁওয়ের বড়ভাঙা নামক স্থান থেকে শুরু হয় রাস্তাটির বড় বড় ভাঙা অংশ। বিশেষ করে আমান আলীর বাড়ির সামনের ভাঙা অংশ বেশ বড়। ছোট বড় প্রায় ২০টি ভাঙন আছে এ সড়কে। অন্তত ৮টি স্থানে রয়ে অনেক বড় ধরণের ভাঙন। কোনো কোনো স্থানে অর্ধেকের বেশি সড়ক ভেঙে গিয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, রাস্তাটির পূর্ব দিকে রয়েছে পাখিমারা হাওর। বর্ষাকালে পানিতে টইটুম্বুর থাকে হাওর। পাখিমারার বিশাল বড় বড় ঢেউ এসে আছড়ে পড়ে রাস্তায় বা রাস্তার পাশে। এতেই ভেঙে পড়ে রাস্তা। রাস্তা ভাঙার মূল কারণ হিসেবে এটাকেই দেখছেন স্থানীয়রা। তারা জানান, রাস্তার পাখিমারা অংশে যদি গার্ডওয়াল না দেওয়া হয় তাহলে সড়ক টিকিয়ে রাখা যাবে না। তাই যত দ্রুত সম্ভব গার্ডওয়ালসহ রাস্তাটি পুন:নির্মাণ করতে হবে।
পরিবহন শ্রমিক নেতা ও নিয়মিত চালক ছৈয়দুর রহমান বলেন, আমরা এ সড়কে নিয়মিত গাড়ি চালাই। প্রতিদিন অন্তত দেড়শ সিএনজি এই সড়কে চলে। অসংখ্য যাত্রী আসা—যাওয়া করেন। রাস্তাটির ভাঙা অংশে গেলে ভয় করে। একটি সিএনজি দাঁড়িয়ে থেকে আরেকটি সিএনটিকে পাস দিতে হয়। ভাঙতে ভাঙতে রাস্তার মাঝখান অতিক্রম করেছে। নিয়মিত বৃষ্টি পড়ার আগে রাস্তাটি সংস্কারের জোর দাবি জানাচ্ছি। 
পূর্ব বীরগাঁও ইউপি সদস্য জোবায়ের আহমদ ও আবদুল বাসিত বলেন, রাস্তাটি দু’এক বছর আগে নির্মাণ করা হয়েছে। পাখিমারার ঢেউয়ে গত বছর এমন ভাঙা ভেঙেছে। এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে জোর দাবি জানাচ্ছি, রাস্তাটি যেনো দ্রুত সংস্কার করা হয়। রাস্তার সংস্কার কাজ টিকিয়ে রাখতে হলে পাখিমারা অংশে গার্ডওয়াল দেওয়ার দাবি করছি। না হলে কোনো ভাবেই রাস্তা টিকানো যাবে না। যদি এবছর রাস্তা সংস্কার না হয় পাগলার সাথে বীরগাঁওয়ের সড়কপথ বন্ধ হয়ে যাবে। 
পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি সলিব নূর বাচ্ছু বলেন, আমরা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করেছি। আশা করছি আমাদের দুর্ভোগের কথা মাথায় রেখে কর্তৃপক্ষ দ্রুত রাস্তা সংস্কারের উদ্যোগ নেবেন।
এদিকে রাস্তা সংস্কারের বরাদ্দ নিয়ে অনিশ্চয়তায় আছেন সুনামগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন। অপ্রতুল বরাদ্দের কারণে জেলার সব উপজেলায় চাহিদা মতো কাজ করতে পারছেন না বলে আক্ষেপ করেছেন তিনি। তিনি বলেন, আমরা চাই চার পাঁচশো কোটি টাকা বরাদ্দ হোক। যদি এমন পেতাম তাহলে প্রতিটি উপজেলার সড়কগুলো চকচক করতো। সব উপজেলায় গত বাজেটে মাত্র ৪০ কোটি টাকা বরাদ্দ পেয়েছি। একেকটি উপজেলায় ৩/৪ কিলোমিটার সড়কপথও এ বাজেটে করাতে কষ্ট হবে। তবু আমরা অনেক সড়কের সংস্কারের জন্য আবেদন পাঠিয়েছি। তবে পাগলা—বীরগাঁও সড়কটি সে তালিকায় আপাতত নেই। আগামী বর্ষার আগে বরাদ্দ পাবো কি না তা নিয়েও অনিশ্চয়তায় আছি।


 

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার