প্রকাশিত: ১৯ এপ্রিল, ২০২৫ ২২:২৪
জেলার বৃহৎ শনি—মাটিয়ানসহ বিভিন্ন হাওরে বোরো পাকা ধান কাটার ধুম পড়েছে। পাকা ধানের মৌ মৌ গন্ধ এখন মাঠ জুড়ে। হাওর পড়ের কৃষকদের মুখে হাসির ঝিলিক ফুটে উঠেছে। কৃষক—কৃষাণীরা পাকা ধান ঘরে তুলতে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। একদিকে কৃষকরা মাঠ থেকে পাকা ধান এনে মজুদ করছেন, অপরদিকে কৃষাণীরা সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ধান মাড়াই শেষ করে ঘরে তুলছেন। পহেলা বৈশাখ থেকে শুর হয়েছে পুরোদমে ধান কাটা। আধুনিক সরঞ্জাম দিয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে গোলায় ধান তুলতে পেরে কৃষকরা মহাখুশি। জেলা জুড়েই এখন বইছে বৈশাখী আমেজ।
কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, গতকাল (শনিবার) পর্যন্ত এ জেলায় ৩০ ভাগ ধান কাটা শেষ হয়ে গেছে। ধান কাটা শেষ হবে আগামী ৩০ এপ্রিলের মধ্যে। এবার এ জেলায় ১৩৭ টি হাওরে ২ লাখ ২৩ হাজার ৪১০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ হয়েছে। এরমধ্যে হাইব্রিড ধান ৬৭ হাজার ৫৫০ হেক্টর, উচ্চ ফলনশীল ১ লাখ ৫৪ হাজার ৯৭৩ হেক্টর এবং স্থানীয় জাতের ৯৭৯ হেক্টর। এসব থেকে চাল উৎপাদন হবে ৯ লাখ ২৪ হাজার ৪১৩ মেট্রিক টন। যার বাজার মূল্য হবে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা।
বালিয়াঘাট গ্রামের কৃষক সবুজ মিয়া বলেন, আবহাওয়া এখন পর্যন্ত অনুকূলে রয়েছে। এবার অন্যান্য বছরের তুলনায় বোরো ধানের ফসল ভাল হয়েছে। আকাশে রৌদ থাকায় তাড়া দ্রুত ধান শুকিয়ে তারা গোলায় ধান তুলতে পারছেন।
তেলিগাঁও গ্রামের রতিন্দ্র দাস বলেন, মাটিয়ান—শনি হাওরে বোরো ধান আবাদ করতে জমিতে তেমন চাষ লাগে না। হাওর থেকে পানি নেমে গেলেই ধানের চারা রোপণ করলেই সোনালী ফসল হয়। এবার আকাশে রোদ এবং বৃষ্টি না থাকায় সুন্দর ভাবে ক্ষেত ধান কেটে ঘরে তুলতে পারছেন তারা।
তিনি বলেন, হাওরে ধান কাটার কিছু শ্রমিক সংকট থাকায় বেশি টাকা দিয়ে শ্রমিক নিয়ে তাদের ধান কাটতে হচ্ছে।
শনির হাওর পাড়ের কৃষক মনিরাজ শাহ বলেন, এবার হাওরে বোরোর ভাল ফলন হয়েছে। তাদের নিজের জমিতে প্রতি কেয়ারে (তিন কেয়ারে এক একর) ১৫—১৬মণ করে ধান হয়েছে। আবহাওয়া আর কয়েকদিন এভাবে ভাল থাকলে বৈশাখ মাস শেষ হওয়ার আগেই ধান কেটে ঘরে তুলতে পারবে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ—পরিচালক মোস্তফা ইকবাল আজাদ বলেন, এবার সময়মতো বৃষ্টি এবং রোদ থাকায় এ জেলায় বোরোর বাম্পার ফলন হয়েছে। হাওরে কৃষকরা এখন পুরোদমে ধান কেটে ঘরে তুলছেন। গতকাল (শনিবার) পর্যন্ত ৩০ ভাগ ধান কাটা শেষ হয়ে গেছে। আশাকরছি আগামী ৩০ এপ্রিলের মধ্যে ধান কাটা শেষ হবে।
জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া বলেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় বোরো ধানের ভাল ফলন হয়েছে। এবার ধান ও চালের মূল্যও লোভনীয় ও কৃষকের জন্য লাভজনক।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন