খেত-খলায় কৃষকের ব্যস্ততা তুঙ্গে

প্রকাশিত: ২৬ এপ্রিল, ২০২৫ ২৩:২৫

৭২ শতাংশ ধান কাটা শেষ 

কখনো মেঘ, কখনো বৃষ্টি, আবার কখনো গগন ফাটানো রোদের ঝলমলানি— গ্রীষ্মকালের প্রকৃতিই এমন। পরিবেশের এমন বৈচিত্র্যময়তায় বেশ শঙ্কা নিয়ে খেত (জমি) এবং খলায় (ধান শুকানোর স্থান) ব্যস্ত সময় পার করছেন শান্তিগঞ্জ উপজেলার সাধারণ কৃষক—কৃষাণী। উপজেলার গত চার দিনের আবহাওয়া লক্ষ্য করলে দেখা যায়, দিনের বেশিরভাগ সময়ই আকাশ বেশ মেঘলা ছিলো, রাতের শেষ সময়ে মুষলধারে বৃষ্টি হয়েছে। যারা খলায় ধান শুকানোর কাজ করেন তারা আকাশ মেঘলা হওয়ায় খলায় ধান মেলতে (শুকাতে) দেন নি। রাতে বৃষ্টি হলে কৃষকের মনে শঙ্কা কাজ করে। তবে এখন ফসল ডুবির শঙ্কা বেশি না থাকলেও কেটে আনা ফসল শুকানোর অভাবে চারা গজানোর শঙ্কাটাই যেনো বেশি কাজ করে। 
সূত্র বলছে, হাওর এবং নন—হাওর ক্যাটাগরিতে ইতোমধ্যে ৭২ শতাংশ ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে। শান্তিগঞ্জ উপজেলায় ছোট বড় ১৬টি হাওরে বোরো জমি এবং অন্যান্য জমি চাষাবাদ হয়েছিলো। ইতোমধ্যে হাওর থেকে ৬৬ শতাংশ এবং নন—হাওর থেকে ৬ শতাংশ জমির ধান কাটা শেষ হয়েছে। কোনো হাওরে প্রায় ৯০ শতাংশ ধান কাটা শেষ হয়েছে। আর সপ্তাহ দশ দিনের মধ্যে শান্তিগঞ্জের সবগুলো হাওরের শতভাগ কাটা শেষ হওয়ার আশা প্রকাশ করেছে উপজেলা প্রশাসন।
আস্তমা, পশ্চিম পাগলা ও দরগাপাশা এলাকার বেশ কয়েকটি খলায় ঘুরে দেখা গেছে, বৃষ্টির কারণে অনেক কৃষকেই স্তুপ করা ধান খলায় মেলে দেন নি। কেউ কেউ আর বৈরি আবহাওয়া উপেক্ষা করে বাতাস লাগানোর জন্য হলেও মেলে দিয়েছেন ধান। অনেকের স্তুপ করা ধানে চারা গজানোর দৃশ্যও তখন চোখে পড়ে।
স্থানীয় কৃষকরা বলছেন, এ বছর ভালো বৈশাখী হয়েছে। বড় ধরণের কোনো দুর্যোগের খবর এখনো পর্যন্ত পাওয়া যায় নি। 
গত চারদিন বৃষ্টি, আবহাওয়া মেঘলা ও বৃষ্টি থাকার কারণে খলায় ধান মেলে দিতে পারেন নি দরগাপাশা ইউনিয়নের কাঁচিভাঙা হাওরের কৃষক ছালিক আহমদ। তিনি বলেন, প্রায় নয় কেয়ার (৩০ শতকে) জমির ধান স্তুপ করা ছিলো খলাতেই। এই রোদ তো এই বৃষ্টি। কোনো অবস্থাতেই মেলে দেওয়ার কোনো সুযোগ ছিলো না। মাড়াই করা ধান ঢাকা থাকা অবস্থাতেই চারা গজিয়ে গেছে। আজ (শনিবার) কিছুটা রোদ পাওয়ায় ধানগুলো মেলে দিয়েছি। তার সাথে একমত হন বীরগাঁওয়ের পাখিমারা হাওরের কৃষক লিয়াকত আলী। তিনি বলেন, কষ্ট করে ধান কেটে খলায় আনার পর এখন কয়েকদিন ধরে রোদ পাচ্ছি না। বৃষ্টি বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে ধানে চারা গজিয়ে যাবে।
শান্তিগঞ্জ কৃষি কর্মকর্তা আহসান হাবীব বলেন, হাওর এবং নন—হাওর মিলিয়ে প্রায় ৭৪ শতাংশ ধান কাটা শেষ হয়ে গেছে। আশা করছি, আমরা আমাদের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করে আরো বেশি ধান তুলতে পারবো। তিনি বলেন, ধানে যদি চারা গজায় যে করেই হোক শুকিয়ে নিতে হবে। একটু রোদ পেলে সে সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। ধানের আদ্রতা ১৪ শতাংশে নামিয়ে আনতে হবে। এটা বুঝার সহজ উপায় হচ্ছে, ধান শুকানোর পর দাঁত দিয়ে কামড় দিলে যদি কট করে শব্দ হয়, তাহলে ধরে নিতে হবে ধান শুকিয়ে গেছে, আর চারা গজাবে না। 
শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুকান্ত সাহা বলেন, আমি আজ কাউয়াজুড়ি হাওরে গিয়েছিলাম। সেখানে প্রায় ৯০ শতাংশ ধান কাটা হয়ে গেছে। আশাকরছি এ সপ্তাহের মধ্যে সব ধান কাটা শেষ হয়ে যাবে। তবে ধান শুকানোর জন্য সুযোগকে কাজে লাগাতে হবে।
উল্লেখ্য, শান্তিগঞ্জ উপজেলায় হাওর এবং নন—হাওর ক্যাটাগরিতে এবছর মোট ২২ হাজার ৬১২ হেক্টর জমি চাষ করা হয়েছে। হাওরে ১৮ হাজার ৩৯৭ হেক্টর এবং নন—হাওরে ৪ হাজার ২১৫ হেক্টর জমি চাষ করা করা হয়েছে। এ জমি থেকে প্রায় ১ লক্ষ ৪৩ হাজার ৫৮৩ মেট্রিকটন ধান উৎপাদন হবে। যার বাজার মূল্য প্রায় ৪৩০ কোটি টাকা। এবছর শান্তিগঞ্জ থেকে ১৫৪৫ মেট্রিক টন ধান কিনবে সরকার। ইতোমধ্যে এই ধান ক্রয় শুরু করেছে উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তার কার্যালয়।

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার