প্রকাশিত: ২৮ এপ্রিল, ২০২৫ ০৭:৩৯
‘গরিবের আছে খালি ক্ষুধা। ঠান্ডা—গরম কইয়া কিছু নাই। জমির ধান গোলায় গেলে খাওন জুটবো। অভাব অনটন থাকব না। এই ফসলের কাছে গরম কিছুই না।’ ঠা ঠা রোদে কাজ করতে কষ্ট হচ্ছে কিনা জানতে চাইলে এভাবেই বাস্তবতা তুলে ধরেন তাহিরপুরের কৃষকরা।
হাওরাঞ্চলে এবার বোরোর প্রত্যাশিত ফলন হয়েছে। এতে করে স্থানীয় কৃষকের চোখেমুখে খুশির ঝিলিক। যত্নে ফলানো সোনার ফসল ঘরে তোলায় ব্যস্ত এই কৃষকদের কাছে বাকি সব কষ্টই উপেক্ষিত।
তীব্র তাপপ্রবাহের মাঝেও ক্লান্তিহীন কাজ করে যাচ্ছেন তারা। শনির হাওর, মাটিয়ান হাওর, মহালিয়াসহ উপজেলার ২৩টি হাওরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এমন দৃশ্য চোখে পড়েছে।
হাওরপারের কৃষকরা ধান কাটা, মাড়াই, ঝারা আর খড় শুকানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। ফলন ভালো হওয়ার আনন্দে প্রচণ্ড গরমেও তাদের বিরামহীন ব্যস্ততায় কোনো ভাটা নেই। কৃষকরা জানান, আর সপ্তাহখানেক বৃষ্টি না হলে তারা জমির সব ধান গোলায় তুলতে পারবেন।
রবিবার শনির হাওরপারের ভাটি তাহিরপুর গ্রামের ধানের খলাগুলোতে গিয়ে দেখা যায়, কৃষকরা তাদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ধান শুকাচ্ছেন। প্রচণ্ড রোদ উপেক্ষা করে পরিবারের ছোট—বড় সবাই সেখানে কাজ করছেন খুশি মনে। কেউ ধান শুকাচ্ছেন, কেউ চিটা ছাড়াচ্ছেন। কেউ আবার ব্যস্ত মাড়াইয়ের কাজে।
বৈশাখের শুরুতে শিলাবৃষ্টি আর পরে তীব্র তাপদাহ। সব মিলিয়ে বেশ কঠিন পরিস্থিতির মাঝেই কাজ করতে হচ্ছে বোরো চাষিদের। মহালিয়া হাওরপাড়ের সুলেমানপুর গ্রামের কৃষক হাবুল মিয়া জানান, সপ্তাহখানেক সময় লাগবে তারপরই হাওরে ধান কাটা শেষ। বৃষ্টিপাত না হলে এর মধ্যেই ধান গোলাতে তোলা শেষ হয়ে যাবে।
শনির হাওয়ার পাড়ের ভাটি তাহিরপুর গ্রামের কৃষক মহসিন মিয়া বলেন, হাওরের ভিতরের রাস্তাঘাট খারাপ থাকার কারণে প্রতি বস্তা ধান ৫০ থেকে ৬০ টাকা পরিবহন খরচে খলাতে আনতে হয়। হাওরের ভিতরের রাস্তাঘাট ভালো হলে এমনটা হতো না। তিনি বলেন, হাওরে এ পর্যন্ত ৬০ ভাগ ধান কাটা হয়েছে।
বর্ধিত গুরমা হাওরপারের মাহমুদপুর গ্রামের কৃষক মহিবুর রহমান রুবেল জানান, এ বছর হাওরে বোরো ধানের ফলন ভালো হয়েছে। এতে করে সবাই খুশি। আর কিছুদিন এমন আবহাওয়া থাকলে নিশ্চিন্তে জমির ফসল কাটার কাজ শেষ করা যাবে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম জানান, এখন পর্যন্ত হাওরের অধিকাংশ জমির ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামী সপ্তাহের মধ্যেই উপজেলার হাওর ও এর বাইরের সব জমির ফসল কাটার কাজ শেষ করা সম্ভব হবে।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন