প্রকাশিত: ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ০৮:০৬
দেখার হাওরের দুইপাড়ের খেলা। উত্তরে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার মোল্লারপাড়া ইউনিয়নের রামেশ্বরপুর গ্রাম এবং দক্ষিণ পাড়ে শান্তিগঞ্জের জয়কলস ইউনিয়নের আস্তমা। মাঝখানে হাওরের ৪৫ হাজার ৮৬৯ হেক্টর জমি। দুই এলাকার ৮০টি কাবাডি খেলার দল জড়ো হন আস্তমা গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে। খেলা দেখতে আসেন হাজারো দর্শক সমর্থক। খেলাকে কেন্দ্র করে গ্রামের প্রধান পয়েন্টে উৎসবমুখর পরিবেশ লক্ষণীয়। লোকে লোকারণ্য চারদিক। বসেছে অস্থায়ী দোকানপাটও। দেখলে মনে হবে যেনো গ্রাম্য মেলা। দুই দলের খেলা শেষ হলে মাঠে নামছে আরও দুই নতুন দল। এভাবেই শনিবার দিনব্যাপী একের পর খেলা চলতে থাকে আস্তমা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে।
আয়োজক কমিটির লোকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, মোল্লারপাড়া ইউনিয়নের রামেশ্বরপুরের পক্ষে নীলপুর, ভবানীপুর, ফতেহপুর, বোলবপুর, জলালপুরসহ ৪০টি দল ও জয়কলস ইউনিয়নের আস্তমা গ্রামের পক্ষে আস্তমার বুলেট, মায়ের দোয়া, উড়ালপঙ্খী, আস্তমার কলেজ টিম, ছয়রাঙা ও ভাই ভাই টিমসহ আরও ৪০টি দল খেলায় অংশগ্রহণ করে। প্রতি দলে ছিলেন ৬ জন করে খেলোয়াড়। সর্বমোট ৪৮০ জন খেলোয়ার এই প্রীতি খেলায় অংশগ্রহণ করেন। খেলা শেষে আমন্ত্রিত খেলোয়াড়দেরকে একটি জ্যান্ত খাসি উপহার দেওয়া হয়।
পূর্ব পাগলা ইউনিয়নের রনসী গ্রাম থেকে আস্তমা গ্রামে হাডুডু খেলা দেখতে এসেছেন নিজাম উদ্দিন। তিনি বলেন, খুব সুন্দরভাবে আস্তমা গ্রামে হাডুডু খেলার আয়োজন করা হয়। দূর—দূরান্ত থেকে খেলোয়াড়রা আসেন। আমরা দারুণ উপভোগ করি। গ্রামীণ ঐতিহ্যের চিরায়ত হাডুডু খেলাকে ধরে রাখছেন আস্তমা গ্রামের মানুষজন, এজন্য তাদেরকে ধন্যবাদ।
মোল্লারপাড়া ইউনিয়নের ভবানীপুর—জগন্নাথপুরের মো. আশরাফ আলী ও রামেশ্বরপুরের নিজাম উদ্দিন বলেন, প্রায় ৫শ’ মানুষ এসেছি আমরা। আস্তমা গ্রামবাসীর আয়োজন খুব সুন্দর। তাদের আতিথিয়েতায় আমরা মুগ্ধ। আমরাও তাদেরকে আমাদের এলাকায় আমন্ত্রণ জানাবো। এভাবে একসাথে ঐতিহ্য রক্ষা হবে পাশাপাশি সম্প্রীতির বন্ধনও অটুট হবে।
আয়োজক কমিটির অন্যতম সদস্য জিল্লুর রহমান, সজ্জাদ মিয়া ও হাবিজ আলী বলেন, আমাদের পূর্ব পুরুষরা এই খেলার প্রচলন করে গিয়েছেন। গ্রামের মানুষের আনন্দ বিনোদনের একটি অন্যতম উপলক্ষ হচ্ছে খেলা। বংশ পরম্পরায় আমরা হাডুডু খেলে আসছি। এতে একদিকে যেমন গ্রামীণ খেলার ঐতিহ্য রক্ষা হচ্ছে, অপরদিকে নির্মল আনন্দ বিনোদনের একটি ক্ষেত্র তৈরি হচ্ছে। আমরা এর ধারাবাহিকতা বজায় রাখবো।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন