প্রকাশিত: ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ০১:০৯
বড়গুপ টিলাতে ময়লা আর্জনার স্তুপ
তাহিরপুরের পর্যটন স্পটগুলোতে ময়লা আবর্জনা ফেলার নির্ধারিত কোন স্থান না থাকায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে ফেলা হচ্ছে ময়লা আবর্জনা। টাঙ্গুয়ার হাওর, লাকমা ছড়া, নীলাদ্রি লেক (শহীদ সিরাজ লেক), যাদুকাটা নদী, শিমুল বাগান, বড়গুপ টিলা ঘুরতে এসে পর্যটকরা খাবারের উচ্ছৃষ্ট ময়লা আবর্জনা ফেলছেন যত্রতত্র। ফলে একদিকে যেমন পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে অন্য দিকে হারাচ্ছে দর্শনীয় স্থানগুলোর সৌন্দর্য্য।
সম্প্রতি পরিত্যক্ত ট্যাকেরঘাট চুনাপাথর খনি প্রকল্প এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ট্যাকেরঘাট এলাকায় নোঙর করা নৌকার চারপপাশে প্লাস্টিকের ওয়ান টাইম গ্লাস, খবারের প্লেট, পানির বোতল ইত্যাদি পানির উপর ভাসছে। এদিকে প্লাস্টিকের বোতলের পাশাপাশি, চিপস, চানাচুর, বিস্কুটের কাগজ, পলিথিন সহ ডাবের খোসা স্তুপাকারে ফেলে রাখা হয়েছে বড়গুপ টিলা মেঘালয় ভিউ পয়েন্টে। ভিউ পয়েন্টের পাশে বসেই একাধিক দোকানী চা, বিস্কিট, লেবুর শরবত, বোতল জাত পানি, ডাব ইত্যাদি বিক্রি করছেন। সে সময় ময়লার স্তুপ দেখে কথা হয় বড়গুপ টিলার আদিবাসী প্রত্যয় ডালবৎ সঞ্জিব এর সাথে। দোকানের পাশে যত্রতত্র ময়লা ফেলার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনে বলেন, আমরা এখানকার লোকজন টিলা এলাকাতে কোন ময়লা আবর্জনা ফেলাই না। বাইরে থেকে আসা পর্যটকগণ যে যার মতো খাবার খেয়ে উচ্ছৃষ্টগুলো এখানে ফেলে রাখে।
পর্যটকবাহী নৌকা হাওর তরীর সুকানি তোফাজ্জল হোসেন বলেন, তাদের বোটে ময়লা ফেলার জন্য ডাস্টবিন রয়েছে। তাদের বোটে আগত পর্যটকরা বোটের ঝুড়িতেই ময়লা আবর্জনা ফেলেন।
ভ্রমণ পিপাসু বাবরুল হাসান বাবলু বলেন, শুক্রবার ও শনিবার হাজারো পর্যটকের সমাগম ঘটে হাওরে। শত শত নৌকা নোঙর করে রাত্রিযাপন করে ট্যাকেরঘাটে। এর মধ্যে কিছু হাউজবোট বা নৌকার লোকজন ময়লা ফেলার বিষয়ে কিছুটা নিয়ম মানলেও অনেকেই তা মানছেন না। যে কারণে পানিতে ময়লার ছড়াছড়ি দেখা যায়।
ঢাকা থেকে আসা পর্যটক আদনান জুনাইদ বলেন, বৃহত্তর সিলেটের মধ্যে তাহিরপুর পর্যটকদের কাছে খুব জনপ্রিয় একটি স্থান। এ স্থানের সৌন্দর্য্য ধরে রাখতে আগত পর্যটকদেরই মূখ্য ভূমিকা রাখতে হবে।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুপ্রভাত চাকমা বলেন, তাহিরপুরের পর্যটন স্থানগুলোর সৌন্দর্য ধরে রাখতে আমরা নৌকার মালিকদের নিয়ে কয়েক দফা সেমিনার করেছি। সেখানে তাদের পর্যটন শিল্পকে ধরে রাখার জন্য বিভিন্ন কলাকৌশল নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। বিশেষ করে ময়লা আবর্জনা যাতে যত্রতত্র না ফেলা হয় সে লক্ষে তাদের প্রতিটি নৌকাতে ডাস্টবিনের ব্যবস্থা করে দেয়া হয়েছে।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন