কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে হাতের টানে!

প্রকাশিত: ০৭ মে, ২০২৫ ০৭:৩১

নিয়ামতপুর-আনোয়ারপুর সড়ক

সড়ক সংস্কারের প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার আগেই হাত দিয়ে টান দিলেই উঠে যাচ্ছে সড়কের কার্পেটিং। গাড়ি চললে দেবে যায় সড়ক। দুই ইঞ্চি কার্পেটিং এর বদলে কোথাও এক ইঞ্চি কোথাও সোয়া ইঞ্চিও নেই। নির্মাণ কাজের পাশে সকল বিবরণ দিয়ে সাইনবোর্ড রাখার নিয়ম থাকলেও প্রকল্প এলাকার কোথাও নেই সাইনবোর্ড। রাতের অন্ধকারে দায়সারাভাবে কাজ করার কারণে কয়েক মাসও টিকবে না সড়ক দাবি স্থানীয়দের। ৩৬ কোটি ৬৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নিয়ামতপুর থেকে আনোয়ারপুর ৯ কিলোমিটারের এই সড়কের সংস্কার কাজ চলছে গত তিন বছর ধরে। ৯ মাস মেয়াদি কাজটির সময় বাড়ানো হয়েছে ইতোমধ্যে দুই বার। কাজ শেষ না হওয়ায় আবারও সময় বাড়ানোর আবেদন করবে ঠিকাদার। জানা যায়, ২০২২ সালের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া সুনামগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের আওতাধীন নিয়ামতপুর—আনোয়ারপুর সড়কটি সংস্কারের কাজ পায় ঢাকার ঠিকাধারী প্রতিষ্ঠান এমএস সালেহ আহমেদ ও কামরুল এন্ড ব্রাদার্স। 

 


নিয়ামতপুর—আনোয়ারপুর সড়কটি দিয়ে সুনামগঞ্জের সদর, জামালগঞ্জ, বিশম্ভরপুর, তাহিরপুর ও মধ্যনগর উপজেলা লোকজন চলাচল করেন। সুনামগঞ্জ শহর ও জামালগঞ্জ থেকে এই সড়ক দিয়ে সহজে তাহিরপুরে আসা—যাওয়া করা যায়। সড়কের কাজ শেষ হলে চলাচল করবেন ৫ উপজেলার কয়েক লক্ষাধিক মানুষ। যোগাযোগ সহজ হবে পণ্য পরিবহনের। গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটিতে এমন ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ করেছেন কয়েকগ্রামের মানুষ। 

 


স্থানীয় কয়েকজন অনিয়মের চিত্র ভিডিও করে এই প্রতিবেদকের কাছে পাঠালে সত্যতা জানতে সরেজমিনে গিয়ে ক্যামেরায় ধরা পড়ে নানা অনিয়ম। প্রতিবেদকের সামনে কোন ধরনের শক্তি প্রয়োগ ছাড়াই টেনে তুলেন সড়কের কার্পেটিং। কার্পেটিং তুলতেই চোখে পড়ে বালু—পাথরের বদলে মাটির উপর কার্পেটিং করার দৃশ্য। সড়কের মাঝ বরাবর খুড়ে দেখা যায় ৫০ এম এম বা দুই ইঞ্চি উচ্চতার জায়গায় এক ইঞ্চি উচ্চতায় করা হয়েছে সড়ক।  কোথাও আবার সোয়া ইঞ্চিও নেই। হাটার সাথেই উঠে যাচ্ছে বিটুমিনের পিচ ঢালাই। এসব অনিয়ম যেন চোখে না পড়ে দু পাশে থাকা ইট রোলার দিয়ে মাটির ভেতরে ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে। যেন সড়ক আর ইটের উচ্চতা সমান থাকে।স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ হয়ে বাঁধা দিলে ক্ষতিগ্রস্ত ওই অংশটুকু আবার কাজ করতে বাধ্য হয় ঠিকাদারের লোকজন। এসময় ঠিকাদারের লোকজনের সামনেই প্রতিবেদিকের কাছে নানা অভিযোগ তুলেন স্থানীয়রা। 

 


আলীপুর গ্রামের মো. ফেরদৌস আলম বললেন,‘ রাতের অন্ধকারে সড়কের কাজ করেছে। কাজের সময় বৃষ্টি আসলে বৃষ্টিতেই কাজ করা হয়েছে। রুলার দিয়ে একবার চাপ দিয়ে চলে গেছে, এখন মানুষের পায়ের ঘসায় কাজ উঠে যাচ্ছে।’ 


বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার আলীপুর গ্রামের বাসিন্দা আ. ছাত্তার বলেন, সড়কে সঠিকভাবে পানি দেওয়া হয় নি। বালু পাথর না দিয়ে মাটির উপরেই কার্পেটিং করে দিয়েছে। একারণে পাথর, বিটুমিন আর কার্পেটিংয়ের সংযোগ না হওয়ায় হাত দিয়ে টান দিলেই কার্পেটিং উঠে যায়, কোন শক্তি করা লাগে না।
মো. গোলাম মোস্তফা বলেন, রাস্তার কিনারের ইট দুই ইঞ্চি উপরে ছিল কিন্তু ঢালাই (কার্পেটিং) কম দিয়ে রুলার দিয়ে চাপ দিয়ে ইট নিচে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে। যাতে মানুষ বুঝে ঢালাই ইটের সমান দিয়েছে। কোন কোন স্থানে এক ইঞ্চি হবে না। পরে আমরা ইঞ্জিনিয়ারকে কাজ না করার কথা বললে এই জায়গা আবার ঠিক করে দেন। এরকম পুরো সড়কেই অনিয়ম হয়েছে। 

 


আলীপুর গ্রামের মুক্তার হোসেন বলেন, কাজের কোন সাইনবোর্ড আমরা দেখতে পাইনি। আমাদের দাবি, কাজটি যেন ভাল করে করা হয়। কিন্তু মাটির উপরে আধা ইঞ্চি করে কাজ করার কোন মানে নেই। যেভাবে কাজ করা হয়েছে এক মাসের বেশি ঠিকবে না। তাদের গাড়ির চাপেই সড়ক ফেটে যায়। 
ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলী শেখ সুজন মিয়া বলেন, বন্যার কারণে কাজে কিছু বিলম্ব হয়েছে। নিয়ম মোতাবেক কাজ করা হয়েছে, কোন অনিয়ম হয়নি। নিয়ামতপুরের কাছে সাইনবোর্ড ছিল, সেটা কারা ভেঙে দিয়েছে। মেশিনের কারণে কিছু জায়গায় সমস্যা হয়েছিল স্বীকার করে তিনি বললেন, যেখানে কার্পেটিং এর পুরুত্ব কম হয়েছিল সেইটুকু আবার করে দেওয়া হচ্ছে।  

 


সুনামগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ—বিভাগীয় প্রকৌশলী সহদেব সূত্রধর বললেন, নিয়ম মোতাবেক কাজ বাস্তবায়ন হচ্ছে। কার্পেটিং এর পুরোত্ব কম দেওয়ার কোন সুযোগ নেই। কোথাও এমন হয়ে থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কাজ হস্তান্তরের পূর্বে সড়ক বিভাগের ঢাকার বিশেষজ্ঞ দল নানাভাবে কাজ পরীক্ষা করে দেখবেন। কোন কমতি পাওয়া গেলে বা কোন অনিয়ম ধরা পড়লে পুনরায় কাজ করানো হবে, নয়তো বিল আটকে দেয়া হবে। 

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার